‘লকডাউনে আমরা অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেছি’

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৩১

বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘দি কানেকশন’ যাত্রা শুরু করে গেল বছরের মার্চে। ভালোমন্দ মিলিয়ে ২০ জনের টিম নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়েও গেছে সামনের দিকে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ছুটি চলায় আর সবকিছুর মতো তাদেরও কর্মকাণ্ড বন্ধ। আর এই গত এক মাসের লকডাউনের কারণে এগিয়ে যাওয়ার পথে অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেছেন বলেই মনে করছেন দি কানেকশনের ম্যানেজিং পার্টনার আজাদ হোসেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন বিজ্ঞাপন জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও।

প্রশ্ন: করোনা পরিস্থিতিতে আপনাদের ব্যবসার অবস্থা কেমন?

আজাদ: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ে ব্যবসার অবস্থা ভয়াবহ, বলতে গেলে বন্ধই হয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে ক্লায়েন্টদের কোনো প্রেমোশন নেই। তারা বিজ্ঞাপনে যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বকেয়া বিল পরিশোধ ও বন্ধ রেখেছে। এই মুহুর্তে ক্লায়েন্ট-এজেন্সী-মিডিয়া মাসিক কর্মকান্ড ও লেনদেনের নিয়মিত ব্যবসা চক্রটাই কাজ করছে না। দিন যত যাচ্ছে আমরা ততটাই কঠিন পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: ক্লায়েন্ট-এজেন্সি-মিডিয়া এবং কর্মীদের কিভাবে মেইনটেইন করছেন?

আজাদ: জরুরি যে কোনো মুহুর্তেও ক্লায়েন্টদের আমাদের সেবার সর্বোচ্চটাই দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতেও নিয়মিত কিছু ক্লায়েন্টদের সেবা দিতে হচ্ছে কারণ তারা আমাদের উপর নির্ভরশীল। সমগ্র প্রতিষ্ঠান সরকারের ঘোষনার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রেখেছি। কিন্তু আমরা তো আমাদের জীবনকে থামিয়ে রাখতে পারছি না। কর্মীদেরকে সরকার ঘোষিত লকডাউনে পাঠানো হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনগুলো আমরা ঘরে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করার চেষ্টা করছি। এই ক্লায়েন্টরা ঠিকঠাক পেমেন্ট করতে পারছে না। তারপরও ধার-দেনা করে কর্মীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়ংকর। এমন থাকলে সামনে কি হবে ভাবা যায় না।

প্রশ্ন: চলমান ছুটিতে ব্যবসায় কতটুকু পিছিয়ে গেছেন বলে মনে করেন, ছুটি আরো দীর্ঘ হলে কি করবেন?

আজাদ: আমাদের স্বপ্নযাত্রা যেভাবে শুরু হয়েছিল বিগত এক মাসে মনে হয় আমরা কিছুই করিনি। এই এক মাসেই মনে হয় আমরা দুই বছর পিছিয়েছি। পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে হলে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো রাতারাতি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন: এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কত সময় লাগতে পারে বলে মনে করেন?

আজাদ: সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই জনসাধারনের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় সকল ব্যবসাই সমগ্র বিশ^ব্যবস্থতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক অবস্থার ওপর আমরা সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে এই বিপর্যয় প্রভাবিত করবে। করোনা পরিস্থিতি আজকেই যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, এরপরও বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের অন্তত ৫ বছর সময় লাগবে।

প্রশ্ন: বর্তমানে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর প্রতি সরকারের কোনো উদ্যোগ আপনারা প্রত্যাশা করছেন কিনা?

আজাদ: অবশ্যই সরকারের বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজন। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো একটি ব্যবসাচক্রের সক্রিয় অংশ। সিস্টেমের একটি অংশকে বাদ রেখে সমগ্র সিস্টেমকে সেবায়িত করতে পারবেন না। এই শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই এই শিল্পকে উপেক্ষা বা অবহেলা করার কোন উপায় নেই। অন্যান্য শিল্পের মতোই বিজ্ঞাপন শিল্পকে সরকারের বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আনতে হবে।

প্রশ্ন: করোনাভাইরাস পরবর্তী দিনে আগের অবস্থানে ফিরতে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করছেন?

আজাদ: অবশ্যই হবে। আপনার শরীর অসুস্থ হলে সুস্থ হতে সময় লাগে। ঔষুধ লাগে, সাহায্য লাগে। আমাদের ব্যবসার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেও আমাদের প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা, অন্যের সহযোগিতা লাগবে। তবে আমাদের কঠোর পরিশ্রম, অর্থ দিয়ে মানসিক দৃঢ়তার সাহায্যে এই ক্ষতি পুষিয়ে আগের অবস্থানে ফিরব বলে আমি আশাবাদী।

প্রশ্ন: ক্লায়েন্ট-এজেন্সী আর মিডিয়ার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?

আজাদ: ক্লয়েন্ট-এজেন্সী-মিডিয়া এই তিন হলো এই ব্যবসার একটা অবিচ্ছদ্য অংশ। ক্লায়েন্ট ভালো থাকলে আমরা যারা আছি তারা ভালো থাকবো। আমরা যেহেতু সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেহেতু পুরোটাই ক্লায়েন্টদের ওপর নির্ভরশীল। সর্বোপরি পরষ্পরকে সাহায্য-সহযোগিতারপূর্ণ মনোভার নিয়ে আমরা পরষ্পরের সঙ্গে বিগত দিনে যেমন ছিলাম বর্তমান ও আগামীর সংকটময় সময়েও একসঙ্গে পথ চলতে পারব।

ঢাকা টাইমসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ

আজাদ: ঢাকা টাইমসকেও ধন্যবাদ

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :