ঈদে অবাধ ঘোরাফেরা ঠেকাতে প্রশাসন আরও কঠোর হবে: ডিসি বগুড়া

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২১ মে ২০২০, ২০:০০ | প্রকাশিত : ২১ মে ২০২০, ১৭:১৪

বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ। তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে এবারের ঈদুল ফিতরে অন্যবারের মতো জনগণের অবাধে ঘোরাফেরার সুযোগ থাকবে না। এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় কেউ যেতে পারবেন না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবেন। যারা বের হবেন তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ঢাকা টাইমসের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে কাউকেই বগুড়ায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝেও নিয়মিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান বিতরণে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনাম আহমেদ

করোনাকালে বগুড়ার সার্বিক পরিস্থিতি কী পর্যায়ে রয়েছে?

পুরো পৃথিবীই চরম এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই উৎকুন্ঠিত, আতঙ্কিত। স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায় লাইফ স্টাইলে পরিবর্তন হয়েছে সবখানেই। আমাদের দেশেরও একই অবস্থা। বগুড়ারও একই অবস্থা। বগুড়াতে এখন পর্যন্ত ৯৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর মাঝে সুস্থ হয়েছেন ১৪ জন। এখন পর্যন্ত বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকা ফেরত। তবে বগুড়ায় করোনা রোগী পাওয়ার পর ২১ এপ্রিল থেকে জেলাকে লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে নির্দেশনা মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক কাজ করছে। বগুড়ায় যেন স্থানীয় এই সংক্রমণটা না বাড়ে সেজন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে বিশেষ করে যারা ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরছে আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথে ওই ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করছি এবং নিয়মিত নজরদারিতে তাদের রাখা হচ্ছে।

করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল?

করোনা প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশে জেলা পর্যায়ে, উপজেলা পর্যায়ে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি করেছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে প্রধান করে এবং সিভিল সার্জনকে সদস্য সচিব করে জেলা করোনা ভাইরাস করোনা প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে। পরে কমিটির মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে বিদেশ থেকে পুরো জেলায় যারা এসেছে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছি। করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে নির্ধারণ করেছি। সেখানে টেকনিক্যাল চিকিৎসার সরঞ্জাম ছিল না যেমন আইসিইউ বেড এবং ভেন্টিলেটর ছিল না আমরা সরকারের কাছে আবেদন করলে সরকার থেকে আমাদের সাতটি আইসিইউ বেড এবং আটটি ভেন্টিলেটর দিয়েছে। এই হাসপাতালে করোনা রোগী এবং করোনার উপসর্গ আছে এমন রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। এছাড়া করোনা পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলে একটি ল্যাবের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। সেখানে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ১৮৮টি করে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যেখানে বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ নওগাঁ জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন করতে আমরা লিফলেট বিতরণ করেছি। শহরে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলায় যতটুকু সম্ভব হাট বাজারগুলোকে খোলা মাঠ বা বড় পরিসরে স্থানান্তর করা হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব সব সময় মাঠে ছিল। এখনও আছে। ওষুধের দোকান, মুদিখানা দোকান এবং কাঁচাবাজার ছাড়া অন্য কোনো দোকানপাট পাট না খোলা হয় সেদিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি রয়েছে।

করোনার প্রভাবে হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে জেলা প্রশাসন থেকে পর্যন্ত কী ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে?

কর্মহীন অসহায় মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত বগুড়া জেলায় আমরা দুই হাজার ৬১৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। যার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে দুই হাজার ১৪৮ মেট্রিক। এছাড়া নগদ টাকা পেয়েছি এক কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এক কোটি ১৪ হাজার টাকা। এছাড়া শিশু খাদ্যের জন্য নগদ বরাদ্দ পেয়েছি ৩৬ লাখ টাকা যার মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। এই বরাদ্দগুলো জেলার উপজেলাগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার মেয়রদের নামে পাঠানো হয়েছে। তারা সেগুলো তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার অসহায় দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন। চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে জেলা অসহায় দুস্থ দুই লাখ ১৪ হাজার ৮২০ টি পরিবারকে। আর অর্থ সহায়তা পেয়েছি এক লাখ ৪৩ হাজার ১৩১ টি পরিবার। এছাড়া সাত হাজার ৪৬০টি পরিবারকে শিশু খাদ্যের টাকা প্রদান করা হয়েছে।

কোন কোন শ্রেণী-পেশার মানুষকে আপনারা সরাসরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন?

হোটেল শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, সেলুন শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, আনসার ভিডিপি, পত্রিকার হকার, ফার্নিচার শ্রমিক, ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতাসহ যারা দিনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করে সরাসরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

মধ্যবিত্ত শ্রেণী যার মানুষের কাছে হাত পাততে পারে না, তাদের আপনারা কী ধরনের সহায়তা করছেন?

যারা জনসম্মুখে চাইতে লজ্জা পায় বা হাত পাততে পারেনা এরকম ব্যক্তিদের সরকার থেকেই ৩৩৩ নাম্বারে যোগাযোগ কথা বলা ছিল এবং এটা প্রচারও করা হয়েছে। এছাড়া আমার নাম্বারটিও উন্মুক্ত ছিলো। যারা ফোন করে সহযোগিতা চেয়ে যাচাই বাছাইয়ের পর তাদের খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে। আমাদের জেলার বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও থেকেও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছিল। যেগুলো আমরা এসব পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছি। এ পর্যন্ত মোবাইল ফোন করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় খাদ্য সহায়তা পেয়েছে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত সাড়ে তিন হাজার আটশো পরিবার। যাদের কেউ এসে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে গেছে। আবার কাউকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

প্রকৃত অর্থে যারা দুস্থ এবং অসহায় এদের তালিকা করা হয়েছে কীভাবে?

পৌরসভা পর্যায়ে মেয়র এবং উপজেলা পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এই তালিকা করা হয়েছিল। এরপরেও আমরা যাচাই বাছাই করে প্রকৃত দুস্থদের চিহ্নিত করে সহায়তা দিয়েছি।

করোনা প্রতিরোধে ২১ এপ্রিল থেকে জেলাকে লকডাউন করা হয়েছেকিন্তু লোকজনকে ঠিকমত এটা মানতে দেখা যায়নিপ্রথম প্রথম প্রশাসন থেকে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেলেও হঠাৎ কিছুটা শৈথল্য মনে হয়েছেএটা কতটা ঠিক?

মানুষকে ঘরে রাখতে আমরা সব সময় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দ্বারা জনগণকে ঘরে রাখার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন অজুহাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হয়েছে। যে কারণে আমরা এ পর্যন্ত দুই হাজারের মতো মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। দুই হাজারটি মামলা করেছি। ৩০ লাখ টাকার মতো জরিমানা করতে হয়েছে। মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব আছে। শুধুমাত্র প্রশাসনের ইচ্ছেয় বা বল প্রয়োগ করে মানুষকে ঘরে রাখা যাবে না। নিজেদের ভাল বুঝতে হবে। শুধুমাত্র নিজেরা সচেতন হলেই এটি সম্ভব। আমি এখনও অনুরোধ জানাচ্ছি, মানুষ যেন সচেতন হয় এবং করোনা থেকে দূরে থাকে।

বগুড়াতে অধিকাংশই আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ ফেরতআক্রান্তদের বেশিরভাগ লকডাউনের পরেই জেলায় প্রবেশ করেছেগত মে নতুন করে জেলা প্রশাসন থেকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছেএর মাঝেও ঢাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে বগুড়ায় প্রবেশ করেছে অনেকেতাদেরও করোনা পজিটিভঅন্য জেলা থেকে বগুড়ায় প্রবেশ করা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না কেন?

ভাল কথা বলেছেন। আসলে অনেকেই কিন্তু এই সময়ের মধ্যেও প্রবেশ করেছে। অন্য জেলা থেকে যেন বগুড়ায় কেউ প্রবেশ করতে না পারে যার কারণে হাইওয়েগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কোনো গাড়ি আসতে চাইলে সেখানে থামানো হচ্ছে। চেক করা হচ্ছে কোনো যাত্রী আছে কিনা। কিন্তু শুনেছি অনেক যাত্রী এবং গাড়িচালক কৌশলে চেকপোস্টের অনেক আগে গাড়ি থামিয়ে হেঁটে চেকপোস্ট পাড় হয়েছে। এছাড়া নৌকা বা গভীর রাতে যখন চেকপোস্টগুলো থাকে না সে সময় তারা প্রবেশ করছে। যেগুলো আমরা নিবৃত করতে পারছিনা।

অন্য জেলা থেকে বগুড়ায় প্রবেশ ঠেকাতে হাইওয়েতে কতগুলো চেকপোস্ট বসানো হয়েছে?

বিশেষ করে ঢাকা থেকে বগুড়ার প্রবেশ পথ চান্দাইকোনা, সেখানে দুইটা চেকপোস্ট আছে। এছাড়া রংপুর সড়কে একটি চেকপোস্ট আছে।

১০ মে থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বগুড়ায় সীমিত আকারে সব দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছেসবাই খুলেছেওস্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে নিউ মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রবিবারআবারও খুলে দেওয়া হয়েছেঅনেক জেলাতেই মার্কেট বন্ধ রয়েছেবগুড়ায় কেনাকাটায় মানুষ ঠিকঠাক স্বাস্থ্যবিধি মানছে নাএই পরিস্থিতিতে মার্কেট খোলা কতটুকু জরুরি ছিল?

সরকারি ছুটির পর অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মূলত এখানে জীবন এবং জীবিকা এই বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ১০ মে থেকে মার্কেট, শপিংমল, দোকানপাট সীমিত আকারে খোলার অনুমতি দিয়েছে। তবে সরকার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার অনুমতি ছিলো। আমরা সব সময় এ বিষয়টির প্রতি খেয়াল রেখেছি। নিউ মার্কেটে কোন রকম স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছিল না জন্য সেটি বন্ধ করা হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বগুড়ার চেম্বার অব কমার্স এবং ব্যবসায়িক যে প্রতিনিধিরা আছেন তাদের সাথে ১৭ মে আলোচনায় বসেছিলাম। সেখানে ব্যবসায়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। সেজন্য আমরা পরীক্ষামূলক নিউমার্কেট খোলার অনুমতি দিয়েছি।

কঠোর নির্দেশ দেওয়া আছে যদি দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাহলে আবারও বন্ধ করা হবে। কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে মার্কেটটি, সেখানে প্রতিদিন ম্যাজিস্ট্রেট পরিদর্শনে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য মার্কেটে ঢোকার গেটগুলোতে ক্রেতাদের প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক স্প্রে এবং হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্য যে জেলাগুলোতে খোলা হয়নি বা খোলেনি বলছে সেগুলোতে কিন্তু সরকার থেকে নির্দেশ দিয়ে বন্ধ করা হয়নি। সেখানকার ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা আছেন, শপিংমলের কমিটি আছে তারা নিজেরাই কিন্তু বন্ধ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বগুড়াতে মার্কেট বন্ধ রাখার বিষয়টি নিয়ে কোন ব্যবসায়ী মহল এগিয়ে আসেনি। বগুড়ায় বন্ধ করার পক্ষে কেউ নেই, সবাই খোলার পক্ষে ছিলো। যে কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তাদেরকে আমরা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছি। যেখানে যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হবেনা সেগুলো আমরা বন্ধ করে দেব। এছাড়া যেখানে শপিংমল এবং দোকানপাট খোলার জন্য সরকার থেকেই অনুমতি দেওয়া আছে সেখানে আমরা হঠাৎ করেই সবগুলো বন্ধ করে দিতে পারি না। কারণ এর সাথে জীবন এবং জীবিকা জড়িত।

জেলায় ৭৫ হাজার দুস্থদের মাঝে সরকার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবেবিভিন্ন জেলায় দুস্থদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। বগুড়ার শিবগঞ্জের ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রুপমের বিরুদ্ধে ৫০০ টাকার বিনিময়ে বিকাশ নম্বর তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছেএরকম অবস্থায় জেলাতে কতখানি অসহায় দুস্থরা এই টাকা সম্পূর্ণটা পেতে পারে? শিবগঞ্জের ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

হ্যাঁ। জেলায় ৭৫ হাজার ব্যক্তির তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো আমরা পাঠিয়েও দিয়েছি। তবে অনেক জেলাতে দুস্থ মানুষদের নামের পাশে চেয়ারম্যান মেম্বারদের নম্বর পাওয়া গেলেও আমাদের এখানে সে সুযোগ নেই। কারণ তালিকায় যেসব ব্যক্তির নম্বর ছিল না সেগুলো প্রাথমিকভাবে কম্পিউটারে উঠানোর পর নম্বরের ঘরটিতে আমরা ১১টি ৭ বসিয়ে দিয়েছিলাম। যাতে করে কম্পিউটার সেটিকে ভুল হিসেবে চিহ্নিত করে রাখে। এরপর তালিকায় যাদের মোবাইল নম্বর ছিল না তারা সেটি সংগ্রহ করলে ওইসব ব্যক্তিদের তথ্যের সারিতে সেটি যোগ করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি নির্ভূলভাবে তালিকাটি করার জন্য। এছাড়া যে ব্যক্তি প্রণোদনা পাবে সেই ব্যক্তির কাছ থেকে নাম ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ২৪ রকমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তালিকাটি করার সময় উপজেলাসহ প্রত্যেকটি উপজেলার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মাঠকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার পর সেগুলো সেই কমিটির লোকজন যাচাই বাছাই করেছে। যেসব ব্যক্তিদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট ছিল না তাদেরকে কমিটির লোক দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বরগুলোও ডিজিটালভাবে যাচাই করা হয়েছে। এরপর সেগুলো উপজেলা পরিষদে পাঠানোর পর সেখান থেকে প্রতিটি ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে ব্যক্তির তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করা হয়েছে। এভাবে বার বার সঠিক ব্যক্তি এবং সঠিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরটি যাচ্ছে কিনা সে বিষয়ে যাচাই করা হয়েছে। সবশেষ ১৭ মে আমরা ৭৫ হাজার তালিকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। এর আগে কিছু তালিকা পাঠানো হয়েছিল সেখান থেকে এর মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একশজনকে সাথে সাথে দিয়েছেন। তবে শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রুপমের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সেখানকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা এবং প্রকল্প কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সরকার ঘরে থাকতে বলছেকিন্তু আপনারা যারা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছেন, তারা বাইরে থাকছেনসারা দেশে মাঠপ্রশাসনে কর্মরতরা আক্রান্ত হয়েছেননিজেদের সুরক্ষায় আপনারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আমাদের কাজের জন্য বাইরে আসতেই হয়। নিজেদের সুরক্ষার জন্য করোনা প্রতিরোধে যে সাবধানতা মেনে চলতে হবে সেগুলো আমরা পালন করছি। আপনারা জানেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট যখন বের হয় তখন কমপক্ষে সেখানে চারজন পুলিশ থাকে, একজন বেঞ্চ সহকারী থাকে। একজন পিওন থাকে। আমাদের অফিসার যারা আছে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি। তারা সবাই মাস্ক ব্যবহার করছে। হ্যান্ডস্যানিটাইজার ব্যবহার করছে। অনেক সময় প্রয়োজনে তারা পিপিইও ব্যবহার করে মাঠে আসছে। এছাড়া প্রত্যেকটা অফিসে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে করে বাইরের কেউ প্রবেশ করার সময় হাত ধুয়ে প্রবেশ করে। এছাড়া আমাদের এখানে মাস্ক ছাড়া যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন পুরো অফিস জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে।

ঈদ সামনেপ্রতিবার দেখা যায়, ঈদে মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসেতারা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করেঘুরে বেড়ায়এবার ঈদে মানুষের অবাধ চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে আপনারা কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন?

অবাধে ঘোরাফেরা বা জমায়েতের কোন সুযোগ নেই। এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় কেউ যাতায়াত করতে পারবে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে। এখন যেভাবে দোকানপাট বিকেল চারটা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারছে তখনও পারবে। সন্ধ্যার পর কেউ অযথা কেউ ঘোরাফেরা করতে পারবে না। শহরে প্রবেশ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে চলাচল করতে হবে।

ঢাকা টাইমসকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

ঢাকা টাইমসকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/২১মে/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :