থেমে নেই ঘরমুখো মানুষের যাত্রা

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০২০, ২২:১৮ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০২০, ২০:১৩

হীরন মাহমুদ ঢাকার মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা। প্রতি বছর তিনি গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে ঈদ উদযাপন করেন। কিন্তু এবার করেনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় ঢাকাতেই ঈদ করার সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে গ্রামে তার বাবা-মাকেও জানিয়ে দিয়েছেন এবার কোনোভাবেই গ্রামে ঈদ করা সম্ভব নয়। কিন্তু হঠাৎ করে শুক্রবার রাতে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে আজ পুরো পরিবার নিয়ে হীরন গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে চলে গেছেন।

মুঠোফোনে হীরন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আসলে এবার ইচ্ছে ছিল না বাড়ি যাওয়ার। কিন্তু প্রতিবার মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে পারব না বলে খুব খারাপ লাগছিল। শুক্রবার বিকালে জানতে পারলাম প্রাইভেট কারে করে বাড়ি যাওয়া যাবে। রাতের মধ্যে গাড়ি ঠিক করে সকালে রওনা হয়ে এখন বাড়ি ঈদ করতে চলে গেছি।’

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবার ঈদযাত্রা বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান ছিল গত দুইদিন আগেও। কিন্তু হঠাও করে গণপরিবহন বন্ধের মধ্যেই ঈদযাত্রা শিথিল করা হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। আর দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার পথগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশি বাধাও। এতে করে গতকাল শুক্রবার থেকে দলে দলে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।

সরকারের এই শিথিল অবস্থানের মধ্যে হীরনের মতো ঈদ ঢাকায় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এমন অনেক ঢাকাবাসী ব্যক্তিগত গাড়ি আবার যাদের নিজস্ব গাড়ি ছিল না তারাও প্রাইভেট কার ভাড়া গ্রামের উদ্দেশে ছুটে গেছেন। যাদের এই দুটো পদ্ধতির একটাও সম্ভব হয়নি তারা ভেঙে ভেঙে বাড়িতে দিকে ছুটেছেন। যারা এখনও যেতে পারেনি তাদের অনেকে শনিবার রাতে, অনেকে রবিবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এমন অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছেন ঢাকা টাইমসের এই প্রতিবেদকের।

শনিবার আব্দুল্লাহপুর থেকে ঢাকার প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি ফেরা মানুষের জটলা। তাদের হাতে ও কাঁধে ব্যাগ। জটলা ঘিরেই রয়েছে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোররিকশা ও মোটরসাইকেল। ঘরে ফেরা মানুষকে গন্তব্যে যেতে গাড়িচালকদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে দেখা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চালকরা মূল ভাড়ার চাইতে বেশি দাবি করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে রাস্তায় বের হওয়া অনেকেই ঢাকাটাইমসের কাছে অভিযোগ করেন।

টাঙ্গাইলের সখিপুরে যাওয়ার জন্য আবদুল্লাপুরে অপেক্ষা করা এক যাত্রী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কয়েকজন মিলে বাড়ি যাওয়ার জন্য অনেকক্ষণ থেকে একটা প্রাইভেট কার ঠিক করতে পারছি না। ওরা বেশি ভাড়া চাচ্ছে।’

যাত্রীদের অভিযোগে চালকদের ভাষ্য, ফেরার পথে তাদের যাত্রী ছাড়াই আসতে হবে। তাই কিছুটা ভাড়া বাড়তি দাবি করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদসহ ঢাকা থেকে বের হওয়া সড়কগুলো দিয়ে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই মানুষ প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন।

অথচ গত বৃহস্পতিবারের আগে ঢাকা ছাড়া ও ঢাকায় ঢোকার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল পুলিশ। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া অনেক লোককে ফেরতও আনা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে কড়াকড়ি শিতল করার সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে।

আব্দুল্লাপুরে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চেকপোস্ট উঠিয়ে নিতে। সঙ্গে ঢাকা থেকে বের হওয়ার বিষয়টিকে সহজ করে দিওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।

এদিকে ঈদের আগে লকডাউন শিথিলের মধ্যে শনিবার একদিনে রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৮৭৩ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী ধরা পড়ার পর ২৪ ঘণ্টায় এত বেশি রোগী আর কখনও শনাক্ত হয়নি।

এর আগে গত ১৮ মে ১ হাজার ৬০২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যা ছিল এর আগের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫২ জনে। আর সুস্থ হয়েছেন ২৯৬ জন।

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/এনআই/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :