লালমনিরহাটে অগ্নিদগ্ধ শিশু লিজার পাশে পুলিশ সুপার

প্রকাশ | ২৪ মে ২০২০, ০০:০৯

লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই স্লোগানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলাব্যাপী  সেবা দিয়ে যাচ্ছে লালমনিরহাটের জেলা পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। পাশে থাকেন সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক ও ছামিরন নেছার তৃতীয় মেয়ে শিশু লিজা আক্তার (৬) আগুনে পুড়ে বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মারা যাচ্ছিল। কেউ এগিয়ে না এলেও শেষে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন পুলিশ সুপার। তিনি এই খবর জানার পরে ২০ মিনিটের মধ্যে যোগাযোগ করে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে জেলা পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করান। ২৫ দিন চিকিৎসার পর গত ২৯ এপ্রিল পুনরায় রোগীর গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। এরপরও তিনি থেমে যাননি। নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতেন, প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করতেন। চিকিৎসা চলাকালীন করোনার মহামারির সময়েও চার বার রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করেন এই শিশুকে। সেই সঙ্গে তিনি ব্যয় করেন ২৫ হাজারেরও বেশি টাকা।

এরপর শনিবার এসপি আবিদা সুলতানা শিশু লিজার জন্য নিয়ে আসেন ঈদ উপহার। সেমাই, চিনি, মুরগী, চিনিগুড়া চাল, মশলা, বিভিন্ন ফল ও ঈদের নতুন জামাসহ নানা উপহার। এছাড়া উপহার হিসেবে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলমও নগদ টাকা দেন ।

সেইসঙ্গে ঈদের পর শিশুটিকে একটি অপারেশনের জন্য আবারও রংপুরে নিয়ে যাওয়া ও তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শিশুটির বাবা আবু বক্কর সিদ্দিককে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ারও আশ্বাস দেন এসপি। এ সময় আবিদা সুলতানার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম, এমআই ডা. এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন, মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২৪মে/কেএম)