লিবিয়ায় নিহত যুবকের মরদেহ চেয়ে মায়ের আকুতি

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ জুন ২০২০, ২৩:২৮

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির একজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের সুজন মৃধা (২০)। সন্তানের মরদেহ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন নিহতের বাবা-মা। গুলিতে আহত ওমর শেখ (২২) একই উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের কালাম শেখের ছেলে। ওমরের বাবা-মা আহত সন্তানকে ফেরত চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন নিহত ও আহতের পরিবার।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিবারের অভাব মেটাতে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া ছাত্র সুজন মৃধা লিবিয়া পাড়ি জমান। সুজন মৃধা উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাবুল মৃধার ছেলে। সুজনের বাবা একই ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের রব মোড়লের মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়া পাঠান। এর জন্য দালালকে তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা দেন তিনি। স্থানীয় মহাজন ও কৃষি জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন তিনি। পরে তা তুলে দেন দালালের হাতে। তাকে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে রংয়ের কাজ দেয়ার কথা ছিল।

দালাল চক্র মেরে ফেলার ১৭ দিন আগে সুজনকে লিবিয়ার মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়। গত ২৬ মে মানব পাচারকারীরা সুজনের কাছে আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দেশে ভয়েস মেসেজ পাঠাতে বলে। ওই ভয়েস মেসেজে সুজনকে মারপিট করার ভয়েস পাঠানো হয়। তখন সুজনের বাবা তাদের কাছে ১ জুন পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু তার আগেই তারা সুজনকে গুলি করে হত্যা করে।

নিহত সুজনের বাবা কাবুল মৃধা বলেন, আমি আমার সন্তানের মরদেহ চাই। একইসঙ্গে দালালদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।

অন্যদিকে একই উপজেলার ওমর শেখ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিবিয়ার ত্রিপলি হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছ্নে। কাঠুরীয়া বাবা কালাম শেখ পরিবারে একটু স্বচ্ছলতার জন্য ছেলেকে চার লাখ টাকা দিয়ে একই গ্রামের দালাল লিয়াকত মোল্লার মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়ায় পাঠান। নয়জন সদস্যের পরিবারের মেঝ ছেলে ওমর শেখ। বড় ছেলে একটি স’মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। তাই অভাবে সংসারে একটু সাহায্যের জন্য সুদে টাকা এনে ছেলেকে লিবিয়ায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর চার মাসে একটি টাকাও পাঠাতে পারেনি ওমর। বরং দুই মাসে ছেলেকে চার হাজার টাকা বাড়ি থেকে পাঠিয়েছেন খাওয়ার জন্য।

আহত ওমর শেখের বাবা কালাম শেখ ও মা শাহিদা বেগম তার আহত ছেলেকে ফেরত চেয়েছেন। একইসঙ্গে তারা মানবপাচারকারী দালাল চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আলী বলেন, আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। আমরা দালাল চক্রটি ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি।

(ঢাকাটাইমস/২জুন/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :