করোনাকালে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ভাতা চায় ঐক্যফ্রন্ট

প্রকাশ | ০৪ জুন ২০২০, ১৬:১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
ফাইল ছবি

মহামারি করোনার সময়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা কাজ করছেন। বেশ কয়েকজন মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে। তাই ঝুঁকি বিবেচনা করে সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা এ দাবি করেন।

একইসঙ্গে করোনাকালে যেসব প্রতিষ্ঠান সাংবাদিক ছাঁটাই করেছে অবিলম্বে সব ছাঁটাই বন্ধ করে ছাঁটাইকৃতদের পুনর্বহাল এবং তাদের বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করারও দাবি করেছে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বিবৃতিতে বলেন, দেশের যেকোনো সংকটকালের মতো করোনার এই কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা তাদের অসাধারণ ভূমিকা এবং দায়িত্ব পালন করছেন। করোনা প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো করণীয় না থাকার পরও জনগণকে এ সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি অবহিত করে অতি গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব সাহসিকতার সাথে পালনকালে তারা তাদের নিজেদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করেছেন। এর মধ্যেই কয়েকজন সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৪ জন সংবাদকর্মী।

নেতারা বলেন, করোনার এই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দেশের টেলিভিশন মাধ্যমটি বিকশিত হওয়ার পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল সৈয়দ। দীর্ঘ ৬০ বছর তিনি রাষ্ট্রীয় এবং বেসরকারি টেলিভিশনে কাজ করে অনেক ক্ষেত্রেই টিভি অনুষ্ঠানের একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তার চলে যাওয়ার প্রভাব মিডিয়া দীর্ঘকাল অনুভব করবে। মোস্তফা কামাল সৈয়দ ছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে দৈনিক সময়ের আলোর সিটি এডিটর হুমায়ুন কবির খোকন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ, দৈনিক ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার আসলাম রহমান, দৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র সাব-এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু এবং দৈনিক বাংলাদেশের খবরের ফটো সাংবাদিক এম মিজানুর রহমান খান মারা গেছেন। আমরা তাদের সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা যেহেতু করোনার এই সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন, এ কারণে তাদের জন্য যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। করোনার এই সময়ে বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অনেক মিডিয়া হাউজ তার কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে। অবিলম্বে সব ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে, ছাঁটাইকৃতদের পুনর্বহাল করতে হবে এবং তাদের বেতন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, যেহেতু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।

তারা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে। সত্য প্রকাশের কারনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারও হয়েছেন। আমরা গ্রেপ্তারকৃত সব সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি এবং ভবিষ্যতে তাদের ওপর যেকোনো রকম হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যেকোনো সংকটের সময়ে মুক্ত মত প্রকাশ বাধাগস্ত করলে সেটা সেই সংকটকে আরেও ঘনীভূত করে এবং মানুষের জীবনের বিপর্যয় ঘটায়।

বিবৃতিদাতারা হলেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী।

(ঢাকাটাইমস/০৪জুন/বিইউ/জেবি)