সাক্ষাৎকারে ইএবির সভাপতি সালাম মূর্শেদী

প্রণোদনার অর্থ দ্রুত পেলে বেকারত্বের গতি কমবে

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৯ জুন ২০২০, ১৫:৩০ | প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০২০, ১৫:০৯

করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে দেশে কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি- দুটোই চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ইএবির সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী। তিনি বলছেন, এ থেকে উত্তরণে ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ ব্যাংকগুলো দ্রুত ছাড় করলে তা বেকারত্বের গতি কমাতে ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত বাজেট করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের ও বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

সম্প্রতি ঢাকাটাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের ব্যবসা, শিল্প-বানিজ্য, করমসংস্থানসহ নানা বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী।

সরকার কোভিট-১৯ সামনে রেখে বাজেট প্রস্তাব করলেও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি। বলেন, ‘আমাদের আয়ের পরে রেভিনিউ আসে। আয় যদি স্বাভাবিক না থাকে তাহলে রেভিনিউ কোথা থেকে আসবে। রেভিনিউ সংগ্রহটা কিন্তু চ্যালেঞ্জ হবে।’

শিল্পখাতের জন্য সরকারের প্যাকেজ ঘোষণাকে সংকটে পড়া ব্যবসায়ীদের জন্য আশার আলো হিসেবে দেখছেন সালাম মূর্শেদী, ‘এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় কাজটি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আমাদের শিল্পখাতের জন্য এক লাখ কোটি টাকার উপরে প্যাকেজ দিয়েছেন। এখানে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারকে দ্রুত অনুধাবন করেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।’

করোনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এক নতুন সময় স্মনে হাজির করছে। বলেন সালাম মূর্শেদী, ‘করোনভাইরাসকে আমাদের সঙ্গে নিয়েই চলতে হবে। নিজেদের জীবনের প্লানিংয়ে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের কাজ বেশি করতে হবে। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করত। প্রতিদিন ১৪ ঘন্টা করে কাজ করতে তারা। পরে যখন ‍উন্নত হয়েছে দুই দিনের ছুটি দিয়েছে। আমাদের সবাইকে এই জায়গায় কাজ করতে হবে।’

ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাংক খাতের বড় দায়িত্ব আছে বলে মন্তব্য করেন সালাম মূর্শেদী। সরকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেটা ইমপ্লিমেন্ট হবে কমার্সিয়াল ব্যাংক আর সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ব্যাংগুলো যেন দ্রুত প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন করে।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন বুঝে ব্যবসায়ীদের চাওয়ার আগেই প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এখন এটা সঠিকভাবে ব্যবসায়ীরা না পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। যত দ্রুত পাবে, তত দ্রুত ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে। সে ক্ষেত্রে আমাদের বেকারত্বের হার কমে আসবে। চাররিচ্যুতি কমে আসবে। সংকটের মাঝেও যে অপরচুনেটি আছে, সেটা যেন আমরা গ্রহণ করতে পারি। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনেই ইন্ড্রাস্ট্রি চালাতে হবে।’

সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাংসদ সালাম মূর্শেদী বলেন, ‘এ সংকটে সরকার একা সব সমাধান করতে পারবে না। আমাদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাজেটে করোনার মধ্যে সরকার যা করেছে সেক্টর ধরে, আমি মনে করি সঠিক করেছেন।’

খুলনা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘কৃষি খাত, রেমিটেন্স, রপ্তানিমুখী শিল্প তথা বস্ত্রখাত- এই তিনটি পিলারের ওপর বাংলাদেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। এই তিনটি খাতই এখন চ্যালেঞ্জে। অনেক প্রবাসী দেশে চলে এসেছে। আবার বিদেশে করে যাবে, কবে চাকরি পাবে সেটাও য়ামরা কেউ জানি না। তাই কর্মসংস্থান ধরে রাখা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ দুটোই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের জন্য সরকার যে সহোযোগিতা করেছে সেটা ব্যাংক যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করে।’

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মুর্শেদী বলেন, সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। সেখান থেকে আগ্রাধিকার ভিত্তিতের কিছু ইকোনোকিম জোন দ্রুত শেষ করতে হবে। সব একসঙ্গে রেডি করতে হবে এটা প্রয়োজন নয়।

করোনার এই সংকটেও যে অর্থনৈতিক সুযোগ আসবে সেগুলো যেন কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে লক্ষ রাখার পরামর্শ সালাম মুর্শেদীর, ‘এমন পরিস্থিতিতে যে সুফল আসবে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। অনেক দেশের ইন্ডাট্রি রিলোকেশনও হবে। আমরা যাতে তার সুযোগ নিতে পারি। এতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে নিয়মকানুন আরও সহজ এবং ইকোনোমিক জোনের আবকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এটা হলে আমরা দক্ষ শ্রমিক ধরে রাখতে পারব আর নতুন করে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৯জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :