রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৯:৪৪ | প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০২০, ০৯:৩৭

করোনা টেস্ট না করে ফলাফল দেওয়া, লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যে রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ নয়জনকে পলাতক হিসেবে এজাহারে দেখানো হয়েছে। গতরাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করে পুলিশের এই এলিট ফের্সটি। র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছে র‍্যাব। মামলা নংঃ ৫।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন কাশেমও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, 'হাসপাতালটিতে চিকিৎসার নামে এতো দিন অপ-চিকিৎসা চলছিল। আমরা দুই ধরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ঘটনায় গতরাতে মামলাও হয়েছে। তবে মালিক শাহেদকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।’

মামলার আসামিরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ, হাসপাতালের অ্যাডমিন আহসান হাবীব, এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী, রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক, গাড়িচালক আব্দুস সালাম, এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুর রশীদ খান জুয়েল, হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম, স্টাফ আব্দুর রশিদ খান, স্টাফ শিমুল পারভেজ, কর্মচারী দীপায়ন বসু এবং মাহবুব। এছাড়া দুই জনের নাম জানা যায়নি।

এর আগে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকাল থেকে চলা অভিযানে বাহিনীটি একাধিক অভিযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিশেষ করোনা বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে টেস্ট না করে ফলাফল প্রদান করতো হাসপাতালটি। এভাবে তারা প্রায় তিনকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব অভিযোগে রিজেন্টের ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। এখনো রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ ৯ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে র‌্যাবের অভিযান চলছে।

এদিকে সোমবার রাতেই মো. মোহাম্মদ সাহেদের মালিকানাধীন এই হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা গাড়িতে 'ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড' ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের 'স্টিকার' লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, 'রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেখানেও অনুমোদনহীন টেস্ট কিট ও বেশ কিছু ভুয়া রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এজন্য রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করা হয়েছে। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান সাহেব (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করতেন অফিসে বসে। এই অপকর্মগুলো রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই হতো বিধায়, এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগালা করা হয়েছে।'

ঢাকাটাইমস/৮জুলাই/এসএস/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :