করোনা মোকাবেলায় এনজিওদের নিয়ে কাজ করার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০২০, ১৮:০৭

করোনা সংকট মোকাবেলায় বেসরকারি এনজিওদের নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য সরকারের একটি নীতি কাঠামো দরকার বলে বলে মনে করেন তারা।

বুধবার চলমান কোভিড-১৯ অতিরমারির প্রেক্ষাপটে এসডিজি প্ল্যাটফর্ম ‘স্থানীয় পর্যায়ে চলমান পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা: অর্জন ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা এই পরামর্শ দেন।

বক্তারা বলেন, ‘সারাদেশে অনেক বেসরকারি এনজিও ছড়িয়ে আছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ভালো আছে। তাদের লোকবলও আছে। তাই করোনার এই সংকট মোকাবেলায় এনজিওদের কাজে লাগানো প্রয়োজন।’

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার সভাপতির বক্তব্যে নিজে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভালো হয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘অনেক সাবধানে থেকেছি, এরপরেও স্ত্রীসহ আক্রান্ত হয়েছি। এখন সুস্থ হয়েছি। করোনা ভয়ানক সংক্রামন ব্যাধি এর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা নেই। প্রথমে কিছু হট স্পটে ছিল তখন আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি। তাই এটা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এখন কমিউনিটি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকাকে এনজিওদের কাজে লাগাতে হবে।’

এসডিজি প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে। আজকের আলোচনা হলো স্থানীয় পর্যায়ে বেসরকারি এনজিওদের নিয়ে। কোভিট সংকট মোকাবেলায় সরকারকে তাদের তিনটি বিষয় সহায়তা করতে হবে। তাদের সম্পদের ঘাটতি মেটাতে হবে। দ্বিতীয় হলো সমন্বয়ের যে অভাব আছে সেটা মেটাতে হবে। এবং তৃতীয় বিষয় হলো স্বীকৃতির যে অভাব আছে সেটা দিতে হবে। এনজিওদের সাথে নিয়ে সরকার কাজ করলে দ্রুত সফলতা পাবে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসডিজি প্লাটফর্মের এক জরিপের প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ৫৪ শতাংশ এনজিওর আয়ের উৎস আছে। আর ৪৬ শতাংশের আয়ের উৎস নেই। এর ফলে এই দুর্যোগকালে তাদের কাজ করা মুশকিল।’ ৩৩ জেলা থেকে ৯৪ জন মতামতের ওপর এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান ড. দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, এই সময়ে ৯১ শতাংশ এনজিও প্রতিনিধি বলছে তারা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে। সরকারে সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। বাল্যবিবাহ রোধ, তথ্য প্রবাহ দেয়া, মাস্ক বিতরণ, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার বিষয়ে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাজ করছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াচ্ছে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জরিপে ১৯ শতাংশ বলেছে তারা কাজ করতে গিয়ে সরকারের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতা পেয়েছেন। আর ১৮ শতাংশ বলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের অসহযোগিতা পেয়েছেন। তবে ৯০ শতাংশই বলেছে সম্পদের অপ্রতুলতার জন্য তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারছেন না।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের কাজ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।

(ঢাকাটাইমস/০৮জুলাই/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :