সাতক্ষীরায় জলদস্যুতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশ | ০৯ জুলাই ২০২০, ২১:৪৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস

সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে জলদস্যুতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে সুন্দরবনের দস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদা আদায় ও অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে এ কথা বলেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার মামুনুর রহমান ওরফে খোকা বাবু, দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের আলাউদ্দীন গাজী, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার তৈয়েবুর রহমান কামরান ও একই এলাকার রহমান এন্টার প্রাইজের মালিক সাইদুর রহমান সাইদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) জিয়াউল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মির্জা সালাউদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় গত ২০ জুন শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের এশার আলী গাজী ও প¦াশের্^খালী গ্রামের আজিবর রহমানসহ ৮/৯ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে কতিপয় জলদস্যু। এরপর তাদের সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে নিয়ে যায় তারা। অপহরণকারী জলদস্যুরা পরে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপন নিয়ে জেলেদের ছেড়ে দেয়। পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পর সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম জলদস্যুদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে। এ সময় জলদস্যুতায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রদিপ, পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা এলাকার মিঠুন দাস এবং ভারতের বসিরহাট ত্রিমোহিনী এলাকার আক্তার আলম গাজী, পান্না, বাপ্পী ও ঘোজাডাঙ্গা এলাকার হাসান এন্টার প্রাইজের মালিক নুনু।

ওই ব্যক্তিরা জলদস্যুদের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন থেকে জেলেদের অপহরণ করে জোরপূর্বক আটকে রেখে মুক্তিপন আদায়, মারপিটসহ নানাভাবে তাদেরকে নির্যাতন চালায়। আর অবৈধভাবে অর্জিত তাদের এই অর্থ ভারতে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪ জনসহ ওই ১০ জনের নামে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা করেছেন।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার আসামির মধ্যে সাইদুর রহমান সাইদ, অপহৃত এশার আলী ও এ মামলার সাক্ষী সৈয়দ হারিজ হোসেন তুহিন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান।

(ঢাকাটাইমস/৯জুলাই/এলএ)