বৃষ্টি ছাড়াও ডুবে থাকে মনিপুরের রাস্তা!

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৯:৪৫ | প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২০, ০৮:০১

বৃষ্টির সময় এলে রাজধানীবাসীর বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয় জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে আষাঢ় এলে এমন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই দিন যায় নগরবাসীর। কিন্তু বর্ষা মৌসুম বা বৃষ্টি না হলেও মিরপুরের মনিপুর এলাকার বাসিন্দাদের পানি ভেঙে রাস্তায় চলতে হয়।

জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও দীর্ঘদিনেও সমাধান পায়নি এখানকার প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেগম রোকেয়া স্মরণী লাগোয়া পশ্চিম পাশের এলাকাটির এমন দুর্ভোগের চিত্র গেল বেশ কয়েক বছরের।

জানা গেছে, এই এলাকাটির বাসাবাড়িতে নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য পানি নেমে যাওয়ার গেটওয়ে বা সুয়্যারেজে নিষ্কাষণের সংযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি গত প্রায় দশবছরে এখানকার রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় বৃষ্টি ও জলবদ্ধতায় রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়েছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন এখানকার বাড়িওয়ালারাও।

করোনাকালে যেমন অনেকে বাসা ভাড়ার চাপে বাসা ছাড়ছেন, তেমনি রাস্তায় পানি থাকায় এই এলাকার অনেকে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। তাই এলাকার বাসিন্দারা সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তরের মেয়রের সুদৃষ্টি চেয়েছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বারবার বলার পরও এখানকার সমস্যার সমাধানে কার‌্যকর ব্যবস্থা না নেয়া প্রমাণ করে কর্তৃপক্ষের অবহেলা কিংবা উদাসীনতা রয়েছে।

এলাকার বাসিন্দার বলছেন, শুধু বৃষ্টিতেই নয়, যে কোন শুষ্ক অবস্থাতেও বাসাবাড়ির বাড়তি পানি খরচের কারণে রাস্তায় পানি জমে যায়। তাই এলাকার মানুষ আক্ষেপ করে বলে থাকেন 'আল্লাহর কি রহমত, মনিপুরে বৃষ্টি ছাড়াই শরবত'।

জানা গেছে, রাস্তাটিতে সবসময় পানি থাকার কারণে প্রতিমাসেই ভাড়াটিয়া পাওয়া নিয়ে টেনশনে থাকেন এখানকার বাড়িওয়ালারা। রোকেয়া স্মরণী ঘেঁষা এলাকাটির বাসিন্দাদের প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় রাস্তাটি দিয়ে। কিন্তু জলবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়ায় নিদারুণ কষ্টে আছে এলাকাবাসী।

এলাকার বাড়িওয়ালা মো. শামীম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ঢাকার নামকরা মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল শাখা এখানে। এখন বন্ধ থাকলেও দুই শিফটে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক যাতায়াত করে থাকেন এই রাস্তা দিয়ে। মিরপুর দুই নম্বর, ১০ নম্বর ও কাজীপাড়ার ঠিক মাঝখানের এই এলাকা কতটার মানুষ কি পরিমাণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না।’

মো. সালেহীন নামে একজন বাসিন্দা ঢাকাটাইমসকে বলেন, মেয়র আতিকুল ইসলামের সুদৃষ্টি ফেরাতে পারে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভাগ্য। কারণ সব ভরসার জায়গায় কথা বলা শেষ। কোনো কাজ হয়নি। আমরা মনে করি দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা মেয়র জানলে নিশ্চয়ই একটা সমাধান হবে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে বিগত সময়ের কাউন্সিলর হারুনুর রশীদ মিঠুর কাছে বারবার এলাকার বাসিন্দারা জলবদ্ধতা নিরসনে দাবি জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন মোল্লা অবশ্য সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকাটাইমসকে কমিশনার ইসমাইল মোল্লা বলেন, গত দশবছরে কোন উন্নয়ন না হওয়ায় বৃষ্টি ও জলবদ্ধতায় রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়েছে, উপযোগিতা হারিয়েছে চলাচলের। নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকে গতানুগতিক নয় বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিশেষ বিবেচনায় কাজ করতে পারলেই সমাধান সম্ভব। তবে তিনিও বিশেষ বরাদ্দের জন্য তাকিয়ে আছেন সিটি করপোরেশনের দিকে।

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা উত্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, সুয়্যারেজের সংযোগ লাইন করে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ওয়াসার সঙ্গে কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। পূর্ব মনিপুরের জলবদ্ধতা নিরসনে বেগম রোকেয়া স্মরণীর সঙ্গে বন্ধ থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থাটি পুনরায় খুলে দিতে কাজ শুরু করেছেন তারা।

বিশেষ বরাদ্দের বিষয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক কাউন্সিলরকে আগামী ৫ বছরের উন্নয়ন কাজের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কাউন্সিলর তালিকা পাঠালে আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/১২জুলাই/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :