সাক্ষাৎকারে সাংসদ শবনম জাহান

বিপদে না পেলে জনগণও ভবিষ্যতে পাশে থাকবে না

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:৫৩ | প্রকাশিত : ০৬ আগস্ট ২০২০, ১২:৪৭

সংরক্ষিত মহিলা আসন (ঢাকা-৩) সংসদ সদস্য শবনম জাহান শীলা। তিনি ঢাকা উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আগে সংগঠনের মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওয়ার্ড পর‌্যায় থেকে উঠে আসা এই সংসদ সদস্য করোনাকালের শুরু থেকে অসহায়-খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, করোনাকালে জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ঢাকা টাইমসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার বোরহান উদ্দিন।

ঢাকা টাইমস: করোনাকালের মতো কোনো দুর্ভোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ এর আগে পেয়েছেন?

শবনব জাহান: ১৯৯০ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে আমার রাজনীতিতে আসা। মূলত মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য আমার রাজনীতিতে আসা। আমি সুবিধা-অসুবিধায় মানুষের পাশে ছিলাম। বন্যা, সিডর, ঘূর্ণিঝড়ে সাধ্যামতো পাশে থেকেছি।

নেত্রীর ওপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন সরকার নিরাপত্তা তো দেই নাই বরং আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার সব রকমের চেষ্টা করেছে। আমি নিজে সেদিন যেমন অসহায় বোধ করেছি, আল্লাহ যেন এমন অভিজ্ঞতা কাউকে না দেয়। এখন যে করোনার মহামারি চলছে তাও আমি আগে কখনো দেখিনি। সে হিসেবে মানুষের এমন বিপদে সহযোগিতা করার সুযোগও হয়নি।

ঢাকা টাইমস: অনেক জনপ্রতিনিধি এই দুর্যোগে জনগণের পাশে নেই, এমন অভিযোগ আছে। আপনি কী মনে করেন?

শবনম জাহান: এ ব্যাপারে বেশি ভালো বলতে পারবেন সাংবাদিকরা। করোনা মহামারির মাঝেও তারা সারা দেশ থেকে যেভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও জনগণের মাঝে প্রচার করছে, আমি সাধুবাদ জানাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকা উত্তরের মানুষের পাশে আছি, ছিলাম এবং থাকব। গত ২৭ মার্চ থেকে প্রায় প্রতিদিন আমি মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। মানুষকে সচেতন করতে কাজ করেছি।

আমি যেসব ওয়ার্ড, থানায় গেয়েছি, সেখানকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দেখেছি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু সারা দেশের জনপ্রতিনিধিদের কথা সেই অর্থে বলা কঠিন। তবে এটা সত্য, যদি কেউ এই মহামারিতে জনগণের সঙ্গে না থাকে, ভবিষ্যতে জনগণও তাদের পাশে থাকবে না।

ঢাকা টাইমস: মহামারির মধ্যেও অনেক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ উঠেছে।

শবনম জাহান: দেখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী নেতৃত্ব এবং সফলভাবে দেশ পরিচালনায় জনগণের ভোটে প্রায় সর্বত্র আমাদের দলের প্রতিনিধিরা জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। মানুষের মাঝে দোষ-গুণ থাকে। আমাদের দলে কিছু মানুষ হয়তো আছে, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং অনৈতিক কর্ম করেছে। তবে আমাদের বিশাল দলের তুলনায় কিংবা আমাদের যত জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের তুলনায় তা নগণ্য। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কিন্তু জিরো টলারেন্স নীতি। যারা জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় এনেছে সরকার। এটা আওয়ামী লীগ বলেই পেরেছে।

ঢাকা টাইমস: করোনায় ত্রাণ বিতরণের বিষয় দেখভালের দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে। তারাই এযাবৎ বিষয়টি তদারক করে আসছে। কীভাবে দেখছ্নে?

শবনম জাহান: সরকারি ত্রাণ বিতরণ একটি নির্বাহী কাজ। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় এসব নির্বাহী কর্মের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকেন। সরকারি আমলা, জেলা প্রশাসক, এলাকার চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সংসদ সদস্যদের উপদেশ নিয়ে প্রয়োজন মোতাবেক সরকারি ত্রাণ বিতরণ করে। এই নির্বাহী কাজে সরাসরি সংসদ সদস্য যুক্ত হন না। এতে কোনো ব্যতিক্রম দেখছি না।

ঢাকা টাইমস: করোনায় মানুষকে সহায়তার জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ পেয়েছেন, নাকি ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ দিয়েছেন?

শবনব জাহান: ব্যক্তি উদ্যোগেই ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি। সমাজের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি আমাকে সহায়তা করেছেন। আমার দলের নেতাকর্মীরা কাজটি সহজ করতে আমার পাশে ছিলেন।

আর একটি বড় বিষয় হলো, সবার আগে আমি একজন বাংলাদেশি। তারপর আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিবিদ। আমার নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি রাজনীতি করি। আমি শুধু সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, আমার নেত্রীর রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের পাশে আছি, থাকব।

ঢাকা টাইমস: সাধারণ ছুটি তুলে নেয়া, কোথাও লকডাউন দেয়া আবার বেশির ভাগ জায়গা অরক্ষিত- এমন সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখছেন?

শবনম জাহান: বঙ্গবন্ধু-কন্যা জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত করতেই করোনার ছুটি শুরুর কিছুদিন পর সীমিত আকারে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেন। এটা সময় উপযোগী এবং সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমি মনে করি। সরকার ও বিশেষজ্ঞরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজনে আবার সাধারণ ছুটি কিংবা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা টাইমস: করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম নিয়ে খুব সমালোচনা হচ্ছে।

শবনম জাহান: করোনায় সারা বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থাই হুমকির মুখে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তারপরও করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করা, প্রণোদনা দেয়াসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা কাজ করে চলছি। আমরা আমাদের ক্ষমতারও বেশি সেবা দিচ্ছি। তার মধ্যেও কিছু অনিয়মের কথা গণমাধ্যমে আসছে। সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ঢাকা টাইমস: এই মহামারির সময়ও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভেদের ভাইরাস তৈরির অভিযোগ করছে। তাহলে কি দেশে আদৌ রাজনৈতিক ঐক্য সম্ভব?

শবনম জাহান: দেখেন আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, একটি বিশাল যুক্ত পরিবারের মতো। পরিবারেও মনোমালিন্য থাকে। কিন্তু সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে। সবার নেত্রী একজন- শেখ হাসিনা। দেশের প্রয়োজনে, জনগণের জন্য সবাই সব বিভেদ ভুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগণের জন্য কাজ করে। এখানে কোনো বিভেদের ভাইরাস নেই। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিয়ে যারা রাজনীতি করতে চায়, যারা জনগণের পাশে না থেকে বিদেশে বসে রাজনীতি করতে চায়, যারা জনগণের ভালো না চেয়ে ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে চায়, তাদের সঙ্গে ঐক্য কীভাবে আসবে!

দল-মতনির্বিশেষে সবার কাছে আমার আহ্বান, আসুন, আমরা সবাই সরকারের সঙ্গে থেকে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ও তার জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করি।

ঢাকা টাইমস: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

শবনম জাহান: ঢাকা টাইমসকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/৬আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :