ঢাকায় ফিরতে পদে পদে দুর্ভোগ, স্বাস্থ্যবিধি উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৬:৪০ | প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৫:২৪

এক সপ্তাহ আগে ঈদ শেষ হলেও লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ। বাসে সিট না পেয়ে বা লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী চাপের কারণে যাত্রা বাতিলও করেছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়তি ভাড়ার নামে পকেট কাটা তো আছেই। আর মহামারি করোনার সংক্রমণ এড়াতে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মানার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা ঈদে বাড়ি ফেরার মত ঢাকায় ফেরার পথেও অনেকটা উধাও হয়ে গেছে। কোথাও নেই স্বাস্থ্যবিধি।

গত কয়েকদিনের মত আজও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের যাত্রার অন্যতম মাধ্যম লঞ্চে উপচেপড়া ভিড় আছে বলে জানা গেছে। যাত্রী চাপ সামাল দিতে অতিরিক্তি লঞ্চ ছাড়া হচ্ছে। তবুও হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রত্যেকটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে। এই সুযোগে স্বাভাবিকের থেকে ডেকে কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন মালিকরা। কেবিনের যাত্রীদেরও এক থেকে দুইশো টাকা বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বাড়তি যাত্রীর কারণে কেবিনের সংকট দেখা দেয়ায় অসাধু চক্র আগে থেকে কেবিন বুকিং দিয়ে রেখে বাড়তি দামে তা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় আসার জন্য কেবিন না পেয়ে দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শাহিন নামের একজন যাত্রী। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১হাজার টাকা থেকে ১২শ টাকা। নিরুপায় হয়ে ২হাজার টাকা দিয়ে দালালদের কাছ থেকে কেবিন নিতে হয়েছে। না হলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরতে পারবো না।’

ডাবল কেবিনের নির্ধারিত ভাড়া ২হাজার টাকা হলেও বরিশাল থেকে ৩হাজার চাওয়া হয়েছে বলেও জানান এই যাত্রী।

এদিকে গত কয়েকদিনের লঞ্চ যাত্রায় দেখা গেছে, কোনো ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যে যেখানে জায়গা পাচ্ছেন সেখানেই বসে পড়ছেন। অনেকের মুখে মাস্কও ছিলো না।

যদিও নির্দেশনা ছিলো মাস্ক ছাড়া কেউ লঞ্চে উঠতে পারবে না।

এমন নির্দেশনা মানতে না পারার কারণ হিসেবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছেন, যাত্রীদের যেই পরিমাণ চাপ এতে কোনো চেষ্টাই স্বাস্থবিধি দেখার সুযোগ নেই।

যাত্রীদের চাপের বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার যাত্রীদের চাপ সামলাতে পটুয়াখালী নদীবন্দর থেকে স্বাভাবিকের থেকে অতিরিক্ত আরও দু’টিসহ মোট ছয়টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। জেলা থেকে মোট ১৬টি লঞ্চ ঢাকায় এসেছে শুক্রবার।

সবগুলো ঘাটেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘাটে মানুষের উপচে পড়া ভীড় থাকায় কেবিনের যাত্রী আসার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চ ছেড়ে দিতে হয়েছে।

জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে মোট ১৬টি লঞ্চ ছেড়ে যায় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এসময় স্বাস্থ্যবিধি মানা ও নিরাপদে লঞ্চে ওঠাতে পুলিশ, স্কাউট, আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীসহ নৌবন্দরের কর্মচারীরা কাজ করলেও যাত্রীর চাপে তা খুব বেশি কাজে আসেনি।

শনিবারও ঘাটে যাত্রীদের ব্যাপক ভীড় আছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নৌপথে যখন এই অবস্থা তখন সড়ক পথেও দুর্ভোগ, অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে এক দুই সিটে একজন যাত্রী নেয়ার কথা থাকলেও কোথাও এটা মানা হয়েছে, কোথাও আবার মানা হয়নি। বিশেষ করে ঢাকার কাছাকাছি জেলাগুলোর বাসে এমন নির্দেশনা খুব একটা মানা হয়নি। চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, টাঙ্গাইল যাওয়া আসার পথে বাসে প্রত্যেক সিটে যাত্রী নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বাড়তি ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও কোনো কোনো যাত্রীর প্রতিবাদের মুখে কিছুটা নমনীয় হয়েছে বাস কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার ভোক্তা অধিকার, বিআরটিএ অথবা জেলা প্রশাসনের কাছে তাৎক্ষণিক অনিয়মের অভিযোগ করায় বাসের লোকজনকে জরিমানাও গুনতে হয়েছে।

নজরুল ইসলাম নামের একজন ফেসবুক পোস্টে বলেন, বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় বাস কাউন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ঢাকাগামী সব বাসের সব সিটেই যাত্রী বসানো হচ্ছে। সব যাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও নিচ্ছে। কোনো তদারকি নেই। প্রতি সিটের জন্য একুশে এক্সপ্রেস ৫০০ টাকা, ইকোনো ও ঢাকা এক্সপ্রেস ৫৫০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। অথচ এক সিট খালি রেখে এক সিটে যাত্রী বসানোর কথা। কিন্তু, দুই সিটেই যাত্রী বসানো হয়েছে। দুই সিটের যাত্রী থেকেই ৫০০ করে ১,০০০ টাকা নিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার এমন অভিযোগে নোয়াখালী জেলায় ১৬ মামলায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্যমতে, শুক্রবার নোয়াখালী সদরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় লাল সবুজ পরিবহন ও সুগন্ধা পরিবহনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই কারণে সোনাইমুড়ীতে বিভিন্ন পরিবহনকে ৩২হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে ফেরিঘাটেও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বাসযাত্রীদের। বিশেষ করে কাওড়াকান্দি ও মাওয়া ফেরিঘাটের বেশ কয়েকটি ঘাট নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে। ঘাটে আসার অনেক সময় পর ফেরি ওঠার সুযোগ পাচ্ছে বাসগুলো। অন্যদিকে প্রবল স্রোতের কারণে ফেরি ঘাটে ভিড়তেও বেশি সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

তবে লঞ্চ-বাসের তুলনায় ট্রেনের যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন। কারণ অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে দুই সিটে একজন আসার সুযোগ পেয়েছেন ট্রেনে।

(ঢাকাটাইমস/০৮আগস্ট/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :