‘পরীক্ষায় কঠোর হতে হবে, নিয়ম মানতে কোনো ছাড় নয়’

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৯

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির পাশাপাশি দুই মাসেরও বেশি সময় আগে র‌্যাপিড টেস্টের অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সুপারিশ করেছিল। অবশেষে এন্টিজেন টেস্টের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তবে করোনা পরীক্ষার মত এন্টিজেন পরীক্ষা নিয়ে যাতে করে কোনো ধরণের বিতর্ক তৈরি না হয় সেজন্য কঠোর হতে হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য ডা. নজরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেছেন, নেগেটিভ মানুষকে পজিটিভ, পজিটিভ মানুষের নেগেটিভ রেজাল্ট দেয়ার খবর এসেছে। কিন্তু এমনটা আর করা যাবে না, হওয়ার সুযোগও দেয়া যাবে না। তাহলে পরিস্থিতি আবারো খারাপ হবে।

গতকাল স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ সচিব বিলকিস বেগম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এন্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়। তবে আদেশে ১৭ সেপ্টেম্বরের কথা উল্লেখ রয়েছে। আদেশে বলা হয়, ‘সারাদেশে এন্টিজেন টেস্টের চাহিদার প্রেক্ষিতে অতি স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণপূর্বক দেশের সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সকল স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে এন্টিজেন ভিত্তিক টেস্ট চালুর অনুমতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো। তবে শর্ত থাকে যে, যাচাই-বাছাইয়ের নিমিত্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কোভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।’

এর আগে গত ৫ জুলাই এন্টিজেন ভিত্তিক র‌্যাপিড টেস্টের অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এছাড়াও করোনাভাইরাস সম্পর্কিত জাতীয় পরামর্শক কমিটিও এই এন্টিজেন ভিত্তিক র‌্যাপিড টেস্টের অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে কয়েকবার সুপারিশ জানিয়েছিল।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার প্রকোপ শুরুর প্রথম ধাপে আমাদের অনেক শিক্ষা হয়েছে। সামনে দ্বিতীয় ধাপ আসবে তাই প্রথমবারের শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। ব্যর্থ হলে ফলাফল খারাপ হবে।

আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে তো খুব সচেতন ছিল না মানুষ। এবার প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন তাই মনে হয় মানুষ একটু বেশি সচেতন হবে। শাস্তি ছাড়াই যদি কেউ মাস্ক পড়ে গুড। কিন্তু কথা শুনলে অব্যশই শাস্তি দিতে হবে। একজন মাস্ক না পড়ে অন্যদের সংক্রমিত করবে এটা চলতে পারে না। একজনের কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা একটু যা ভালোর দিকে যাচ্ছে তা থমকে যাবে, শিক্ষার্থীরা বছরজুড়ে ঘরবন্দি থাকবে এটা হতে পারে না।’

অনেক আগে পরামর্শ দেয়ার পর এখন এন্টিজেন পরীক্ষার অনুমতি দেয়ায় বিলম্ব হয়ে গেল কি-না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আরো আগে হলে ভালো হত। কিন্তু আগে ভালো কিট পাওয়া যায়নি। এখন ভালো কীট পাওয়া গেছে। যিনি এই কমিটির সভাপতি তিনিও ভালো মানুষ। আশা করি ভালো কীট দিয়েই পরীক্ষা হবে। সেটা হতেই হবে। ভালো রেজাল্ট দিতে হবে। করোনা নিয়ে আর ব্যবসা করার সুযোগ বন্ধ করে দিতে হবে। এ নিয়ে দুর্নীতিকে আর প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। দুই একজন দুর্নীতি করবে আর আমরা তাকে মাথায় তুলে নেবো এটা হতে পারে না।’

এন্টিজেন পরীক্ষায় সরকারি হাসপাতাল বা সেন্টারগুলোতে কোনও ফি না নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে বলে দিলেন এত টাকা দিতে হবে এটা চলবে না। সরকারি জায়গায় কোনো চার্জ নেয়া যাবে না। বেসরকারি হাসপাতাল কি করবে সেটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :