যুবলীগ নেতা টিটু হত্যার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ

প্রকাশ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বাস্থ্য সহকারী ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার ও নাগেরপাড়া ইউনিয়নবাসী। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নাগেরপাড়া বাজার সড়কে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরে নাগেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এসময় ইলিয়াস কাঞ্চন টিটুর মা রাশিদা বেগম, বাবা আব্দুল জলিল সরদার, স্ত্রী মিলি বেগম ও ছেলে অনিক, মুসফিক, আফিফ, গোসাইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান শিকদার, নাগেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহসিন সরদার, নাগেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনায়েত করিম মিলু মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন মাস্টার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিহত টিটুর মা রাশিদা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছেলেকে যারা হত্যা করে আমার বুক খালি করেছে- তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি।

নিহত টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার বলেন, আমার প্রতিপক্ষ মোজাম্মেল খান ও তার লোকজন আমার ছেলের হত্যার সাথে জড়িত। তারাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি। ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করছি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ঢাকেরহাটি গ্রামে গত  ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাগেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সরদারের ছেলে স্বাস্থ্যকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন টিটু (৩৯) তার ঘরের খাটের সঙ্গে পা ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী।

পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট থানায় একটি অপমত্যু মামলা হয়। পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গোসাইরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের ছোটকাচনা গ্রামের মৃত মান্নান খানের ছেলে মোজাম্মেল খান, জাহিদ খান, ঢাকেরহাট গ্রামের মোতালেব বেপারী, শহিদুল সরদার, রফিক সরদারসহ ১৩ জনকে ও অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

ওইদিন রাতে মামলার আসামি জাহিদুল ইসলাম খানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে গোসাইরহাট থানা পুলিশ।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী মুঠোফোনে বলেন, টিটুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরে টিটুর বাবা আব্দুল জলিল সরদার বাদী হয়ে গোসাইরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলার আসামি জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত চলমান আছে। টিটুর ময়নাতদন্তর রিপোর্ট এখনও হাতে পায়নি। রিপোর্ট পেলে বলা যাবে, টিটুর মৃত্যুর রহস্য কি।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এলএ)