‘জাহান্নামের’ দিকে এগোচ্ছে লেবানন!

এন এইচ সাজ্জাদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:১৮

লেবানন! পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশ। হাজারও সমস্যায় জর্জরিত দেশটি কোন দিকে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে গেল ২১ আগস্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ সত্ত্বেও যদি আমরা সরকার গঠন করতে না পারি তাহলে লেবানন জাহান্নামে পরিণত হবে। কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সমোঝোতায় আসতে ইচ্ছুক নয়। এ থেকে বোঝা যায় নিশ্চিতভাবে লেবানন জাহান্নামের দিকে এগোচ্ছে।’

সত্যিই লেবানন জাহান্নামের দিকে এগোচ্ছে! ২৬ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা আদিবের পদত্যাগই প্রেসিডেন্ট আউনের কথার যর্থাথতা প্রমাণ করে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান দেশটির সাবেক এই জার্মান রাষ্ট্রদূত।

মারাত্মক অর্থনীতিক ও রাজনীতিক সংকটের পাশাপাশি করোনা মহামারি ও বৈরুত বন্দরের বিস্ফোরণ লেবাননকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। দেশটিতে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে এবং বেকার সমস্যা ৩০ শতাংশেরও বেশি।

ধ্বংস্তুপ থেকে লেবাননকে টেনে তুলতে গেল ৩১ আগস্ট দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী হন মোস্তাফা আদিব। কিন্তু মন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে শিয়াদের বিরোধিতার কারণে সরকার গঠনের কোনো সুরাহা না করেই পদ ছাড়তে হলো হারারি সরকার সমর্থিত এই সুন্নি নেতাকে।

অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে শিয়া মতাবলম্বীদের অনড় অবস্থানের কারণেই নতুন সরকার গঠনে বেকায়দায় পড়েন আদিব। ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্টের দাবি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ধর্মীয় হিসেবে তাদের হাতেই থাকবে। কিন্তু সংকটে জর্জরিত দেশকে টেনে তুলতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে চেয়েছিলেন দেশটির সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানু্য়্যাল ম্যাকরণ সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘যদি আপনারা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করতে না পারেন তাহলে আপনাদের জন্য সবধরনের সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করে দিবে ফ্রান্স।’ কিন্তু গোত্রভিত্তিক সরকার গঠনের হিসেব-নিকেশের কাছে হার মেনেছে মোস্তাফা আদিবের প্রচেষ্টা।

লেবানন ধর্ম ও গোষ্ঠীগতভাবে বিভক্ত একটি রাষ্ট্র। এখানে সুন্নি মুসলমান, শিয়া মুসলমান ও খ্রিস্টানরা একত্রে বাস করেন। গোষ্ঠীগুলো লেবাননের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যাপারে চুক্তি করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী লেবাননের রাষ্ট্রপতি হবেন একজন ম্যারোনীয় খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রী হবেন সুন্নি মুসলমান এবং স্পিকার হবেন শিয়া মুসলমান। সংসদের আসনসমূহের অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। লেবাননের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল গোষ্ঠী বা গোত্রভিত্তিক।

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এনএইচএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :