সম্পত্তি লিখে দিতে মায়ের সঙ্গে চার মেয়ের শত্রুতা!

আল-আমিন রাজু, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ২২:১২ | প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫১

পুরান ঢাকায় সম্পত্তি দখলে নিতে চার মেয়ে ও মেয়ে জামাতাদের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধা মাকে তার চার মেয়ে ও তাদের স্বামীরা মিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনে অতিষ্ট সেই নারী একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছেন। আর এর দায়ভার ভাইদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন সেই চার বোন। এমন পরিস্থিতিতে মায়ের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে সময় কাটছে বলে বৃদ্ধার ছেলে জাকির হোসেন।

জানা যায়, পুরান ঢাকার লালবাগ থানা এলাকার ৬৬/১ জগন্নাথ সাহা রোডের বাড়িটির মালিক লায়লা খাতুন (৬৯)। ১৯৯৯ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এরই মধ্যে তার হার্টের রোগসহ অন্যান্য রোগ ধরা পড়ে। ২০১৫ সালের ৪ জুলাই তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেন। এ সময় প্যারালাইজড হয়ে শরীরের এক অংশ অকেজো হয়ে যায়। এর কিছু দিন পর চার মেয়ে ও তাদের জামাতা মিলে তার চিকিৎসার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যান। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গোপনে তিনশ টাকার স্ট্যাম্পে অসুস্থ লায়লা খাতুনের টিপসই নেন। আর বিষয়টি কাউকে জানালে চিকিৎসা করানো হবে না এবং তাকে দেখাশোনা করা হবে না বলে শাসানো হয়। এরই মধ্যে চার বোন ও জামাতারা মিলে (শাহনাজ বেগম ও তার স্বামী মো. হোসেন, জাকিয়া খাতুন ও তার স্বামী নূরে আলম, মন্টিনা বেগম ও তার স্বামী নূরুল ইসলাম এবং রনি বেগম ও তার স্বামী সোহেল মিয়া) একটি দলিল তৈরি করেন।

দলিলে লায়লা খাতুনের ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে দেখানো হয় ১৯৫১ সালের ১ এপ্রিল। নাম দেখানো হয় লায়লা বেগম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার পাসপোর্ট অনুযায়ী জন্মতারিখ ১৯৫০ সালের ২৮ জুলাই। প্রথমে বিষয়টি কাউকে না জানালেও সম্পত্তি লিখে নেয়ার ঘটনাটি কোনোক্রমেই মেনে নিতে পারছিলেন না অসুস্থ লায়লা খাতুন। এরই জেরে ২০১৬ সালের ১১ অক্টোবর বাসায় একা থাকার সুযোগে ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান লায়লা খাতুন। ওই সময় বাসায় কেউ না থাকায় মেয়ে ও মেয়ে জামাতারা কাউকে কিছু না জানিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে তার বড় ছেলে জাকির হোসেন মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পর চার বোন ও বোন জামাতারা পুলিশকে জানান, লায়লা খাতুনের বড় ছেলে জাকির হোসেন তার মাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছেন। এরপর তারা জাকিরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন।

পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সহায়তায় পুলিশ লায়লা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন তিনি একা বাসায় ছিলেন এবং মেয়ে ও জামাতারা মিলে তিনশো টাকার স্ট্যাম্পে তার টিপসই নেয়ায় তিনি মনোকষ্টে নিজেই ধারালো ব্লেড গলায় চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ জাকিরকে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার ৫ দিন আগে চার বোন মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বড় ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে মর্মে থানায় একটি জিডি করেছিলেন বলে জানা যায়।

লায়লা খাতুন দীর্ঘ ৬ মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বড় ছেলে জাকিরের বাসায় ফিরে আসেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লায়লা খাতুনকে স্ট্রোকের পর ভয়াবহ মানসিক রোগী হিসেবে সনদ দিয়ে ছেলে জাকিরের জিম্মায় রেখে তার ভরণ-পোষণসহ সার্বিক চিকিৎসা সেবা দিতে জাকির হোসেনকে অনুরোধ জানায়। ঘটনাটি জানতে পেরে চার মেয়ে ও জামাতারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ছেলেদের অনুপস্থিতিতে পুনরায় লায়লা খাতুনকে অন্যত্র নিয়ে যান এবং নতুন করে সম্পত্তি লিখে নিতে ষড়যন্ত্র শুরু করেন তারা।

এসব ঘটনা সম্পর্কে ভুক্তভোগীর বড় ছেলে জাকির হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমার ৪ বোন এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে। বোন জামাইরা একত্রিত হয়ে মাকে চিকিৎসার কথা বলে অতি গোপনে স্ট্যাম্পে টিপসই নিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে।’

‘তারা ভুয়া জন্মসনদ দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করে সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করেছে। এমন কি মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় আমাকে আসামি বানিয়ে সবকিছু নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং দোষিরা যেন তাদের অপকর্মের শাস্তি পায় তার জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/০১অক্টোবর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :