আদালতের আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর পরিবারে ‘হামলা-লুট’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৫৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার বিনাউটি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেন আক্তার হোসেন স্বপন গ্যাং। পরবর্তীতে মামলা হলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত ওই গ্যাংকে নিজ খরচে রাস্তাটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

কিন্তু এ আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলার বাদী পরিবারে ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করে স্বপন ও তার লোকেরা। এসময় প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় তারা।

অভিযোগ আাছে, এর আগেও পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেছে এ গ্যাং। একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী ওই পরিবারের সদস্যদের। এদিকে আদালত বন্ধ করে দেয়া রাস্তা উন্মুক্ত করার আদেশ দিলেও এর তোয়াক্কা করেনি সন্ত্রাসীরা।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের বাড়ির রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয় পাশের বাড়ির আক্তার হোসেন স্বপন গ্যাং। এ নিয়ে সফিক আদালতে মামলা করলে আক্তার গ্যাং ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে দলবদ্ধভাবে সফিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ির লোকদের মারধর করে। এসময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সফিকুল ইসলামের পরিবারের লোকজনকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার দুইদিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর উল্টো সফিক, তার ভাই-ভাতিজাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি করেন পার্শ্ববর্তী খারঘর গ্রামের কবির সরকারের স্ত্রী রাবিয়া বেগম। এরপর সফিকুল ইসলাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কসবা) আদালতে এনামুল সরকার, আক্তার হোসেন স্বপনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করার বিষয়ে একটি আদেশ দেন। এসময় আক্তার হোসেন স্বপন গ্যাংকে নিজ খরচে ১০ দিনের মধ্যে তা অপসারণ করে নিতে বলা হয়।

আদালতের এই আদেশে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্বপন ও তার ১৫/২০ জন লোক গত ১১ অক্টোবর রাত প্রায় আড়াইটার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সফিকের বাড়িতে হামলা চালায়। সফিকের ঘরে থাকা তার ভাতিজা নূরুল ইসলাম বাবুলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর তাদের তিনটি ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ওইসব ঘর থেকে অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়।

পরে এ ঘটনায় সফিকের স্ত্রী রুনা বেগম বাদী হয়ে এনামুল সরকার, আক্তার হোসেন স্বপনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

একের পর এক সন্ত্রাসী ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সফিকের পরিবার। এদিকে আদালতের আদেশ মোতাবেক ১০ দিন পার হলেও উন্মুক্ত হয়নি ওই রাস্তা।

পরিষদের ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আলী আজম বলেন, ‘বহু বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধ করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এ নিয়ে সফিক মামলা করার পরই আক্তার গ্যাংরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা-মামলার মাধ্যমে পরিবারটিকে নাজেহাল করে চলেছে। তবে রাস্তার বিষয়ে আদালত সঠিক রায় দিয়েছে।’

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :