জাতীয় মূল্য কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৪৮

আলু, চালসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনার ক্ষেত্রে সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও অভিযোগ রয়েছে মুনাফা তুলে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এ অবস্থায় লোকসানের হাত থেকে দেশের কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে কৃষিপণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে এক অনুষ্ঠানে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার অনলাইনে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম। ইকো কোঅপারেশন বাংলাদেশ এবং খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ‘খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ’স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে সরকারের উদ্যোগে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কিছু সুপারিশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে নগর ও গ্রামে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপকারভোগীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুত করে আগামী এক বছরের জন্য সংশ্লিষ্টদের রেশনিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে জরুরি খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এবং ভোক্তার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মূল্য কমিশন গঠন করা সরকারের এবং ব্যক্তিগত মালিকানার অব্যবহৃত জমিতে খাদ্য উৎপাদনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্বুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম বলেন, বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির তুলনায় উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হলেও সরবারহ ব্যবস্থার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। রয়েছে মনিটরিং সমস্যা। সর্বোপরি সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। আবার শুধু চাল দিয়েই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এর সাথে থাকতে হবে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ। করোনা একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে আরও মানুষ দারিদ্র্যে পতিত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে যেটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। দরিদ্র আর অতি দরিদ্র মানুষের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ এখনও করতে পারিনি সেটি একটি বড় সমস্যা। খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বছরব্যাপী দরিদ্র মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ফুড প্যাকেজ অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন মানে রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ কালভার্টের কেবল উন্নয়ন নয়, উন্নয়ন মানে সামাজিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন আর মানবিক উন্নয়ন।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সরকারের একার পক্ষে কিছু সম্ভব নয়। সকলকে সাথে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ও এনজিওদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের বহুমাত্রিকতাকে বিবেচনায় নিতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে মানবকেন্দ্রিক। সরকারের বিভিন্ন নীতি-আইন এবং উদ্যোগ ভালো হলেও রয়েছে বাস্তবায়নের সমস্যা। যেটা প্রণোদনার ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত ধীরগতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আরিফুর রহমান অপু এবং সম্মানীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য দেন ইকো কোঅপারেশন বাংলাদেশএর হেড অফ প্রোগ্রাম আবুল কালাম আজাদ। সভায় আলোচনাপত্র পাঠ ও সঞ্চালনা করেন নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :