এএসপি আনিসুল হত্যা ও ‘শফদার ডাক্তারের গল্প’

মফিজুর রহমান পলাশ
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৩৯

নিহত পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিমের বোন উম্মে সালমা সাথী একজন এমবিবিএস ডাক্তার। তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে তাঁর ভাইয়ের হত্যার পেছনে আরও কিছু হাত আছে। আছে কিছু চিকিৎসকের উদাসীনতা ও চরম অবহেলাও। চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরেই মর্মান্তিক মৃত্যু কি শুধু কয়েকজন ওয়ার্ড বয় বা স্টাফের দায়? চিকিৎসকের কোনো দায় থাকে না? হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনের মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত আবেগের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টাপাল্টা আচরণ করেন এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন বটে, কিন্তু একজন ডাক্তার কি আর মিছেমিছি আরেকজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলবেন? ভিকটিমের বোন চিকিৎসক মানুষ, সাধারণ মানুষ তো নন যে, স্বজন হারানোর বেদনা সইতে না পেরে আবেগের বশে ভুলভাল অভিযোগ করবেন। তাহলে কি ছিলো আসল ঘটনা?

তদন্তকারী দলনেতার কপালে চিন্তার রেখা স্পষ্ট হলো। নিহত এএসপি আনিসুল করিমের চিকিৎসক বোনের অভিযোগ সত্যি হলে তো ভিডিওতে দেখা হিংস্র খুনিদের বাইরেও কোনো রাঘববোয়াল লুকিয়ে আছেন? তাহলে কারা সেই লুকায়িত খলনায়ক? একজন না একাধিক? প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পুলিশের রাতের ঘুম হারাম হলো। ভিকটিমের পরিবার একজনের দিকে বারবার অভিযোগের আঙুল তুলছেন। এই ঘটনায় যারা আগেই আটক হয়েছিলেন তারাও পুলিশি জেরায় বেশকিছু তথ্য দিলেন। তার মানে দুইয়ে দুইয়ে চার! অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে ক্ষীণ আলোর দেখা মিলল। কিন্তু তাই বলে শুধু সন্দেহের বশে যাকে তাকে আটক করা যায় না। তাছাড়া অভিযুক্ত যদি প্রভাবশালী ও উচ্চপদস্থ কেউ হোন, তাহলে তো বিপদের পারদ এককাঠি ওপরে! আবার অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা হলে থাকবে কিছু বাড়তি আইনি জটিলতাও। যদিও ব্যক্তিগতভাবে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সেসব সরকারি কর্মচারী গুরুতর অপরাধ করেন, তাদের আটকের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না এবং এদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত আইন রক্ষাকবচের ভূমিকাও পালন করে না।

যাহোক, দমবার পাত্র নন ডিএমপির তেজগাঁও ডিভিশনের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষও। তাঁরা বুঝে ফেললেন হাই প্রোফাইল অভিযুক্তকে জালে আনতে হলে দরকার শক্ত তথ্যপ্রমাণের। নইলে টার্গেট ফসকে যেতে সময় নেবেনা।

ভিকটিমের পরিবার শুরু থেকেই চিকিৎসকদের গাফিলতির অভিযোগ করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ আনিসুল করিমকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁকে একবারের জন্যও স্বচক্ষে দেখেননি। এমনকি কোনো ধরনের মেডিকেল চেক-আপ করার প্রয়োজনও মনে করেননি। না দেখে, পরীক্ষা না করিয়েই আনিসুল করিমের শরীরে দুই দুটো ইনজেকশন পুশ করলেন। ওষুধের প্রভাবে আনিসুল করিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালের একটা কক্ষে রাখা হয়। সেখান থেকে স্বজনদের একপ্রকার জিম্মি করেই তাঁকে আদাবরের বেসরকারি মাইন্ড এইড হাসপাতালের মতো নামসর্বস্ব ও অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।

ছেলেবেলার অনেকেই ‘শফদার ডাক্তার’ নামে একটা রম্য কবিতা পড়েছেন। নিতান্ত প্রাসঙ্গিক বলেই কবিতাটির কয়েক ছত্র হুবহু তুলে দিলাম।

রোগী এলে ঘরে তার, খুশিতে সে চারবার

কষে দেয় ডন আর কুস্তি,

তারপর রোগীটারে গোটা দুই চাঁটি মারে

যেন তার সাথে কত দুস্তি।

ম্যালেরিয়া হলে কারো নাহি আর নিস্তার

ধরে তারে কেঁচো দেয় গিলিয়ে,

আমাশয় হলে পরে দুই হাতে কান ধরে

পেটটারে ঠিক করে কিলিয়ে।

কলেরার রোগী এলে, দুপুরের রোদে ফেলে

দেয় তারে কুইনিন খাইয়ে,

তারপর দুই টিন পচা জলে তারপিন

ঢেলে তারে দেয় শুধু নাইয়ে।

শফদার ডাক্তার নাকি রোগীর নাড়ি-নক্ষত্র না দেখেই ম্যালেরিয়া হলে রোগীকে জীবন্ত কেঁচো গিলিয়ে দিয়ে রোগী সুস্থ করতেন! ডা. মামুনও সাতপাঁচ না ভেবেই একজন কর্মচারীকে দিয়ে দু'দুটো চেতনানাশক ইনজেকশন মেরে দিলেন প্রায় সুস্থ একজন টগবগে যুবকের মাংসের মধ্যে। দারুণ চিকিৎসা পদ্ধতি বটে! শফদার ডাক্তারের চিকিৎসা পদ্ধতি তাহলে এই যুগেও অব্যাহত রয়েছে। ভালো তো!

এতক্ষণ যেটুকু বললাম তা ছিলো নিহতের স্বজন কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগের অংশবিশেষ। কিন্তু শুধু অভিযোগ পেলেই হবেনা, এর স্বপক্ষে প্রমাণও থাকতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া তখন পুলিশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কেননা কান টানলে যেমন মাথা আসে তদ্রূপ নাটের গুরুকে ধরতে পারলেই ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে। আর তখন পুলিশ অফিসাররাও একটু স্বস্তিতে ঘুমাতে পারবেন!

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার হত্যার সাথে আরেকজন ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক জড়িত থাকবেন এটা ভাবতেই কেমন একটা খটকা লাগে, গা ঘিনঘিন করে, এমনকি নিজের কানকেও বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। কেননা, নচিকেতার ডাক্তার সে তো ভগবানই! কিন্তু পুলিশের তো আবার যাকে তাকে সন্দেহ করার বাতিক আছে! পুলিশ ততদিনে বিসিএস পাস করা প্রভাবশালী একজন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে পাখির চোখ করলেন। শুরু হলো তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের পালা।

ঘটনার দিনের সব সিসিটিভির ফুটেজ আগেই নেওয়া ছিলো, এবার নেওয়া হলো মুঠোফোনে কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য। রেকর্ড দেখে পুলিশের চিন্তার ভাজ কপাল ছাড়িয়ে মাথায় উঠলো। এও কি সম্ভব?

এএসপি আনিসুল করিমকে হত্যার সেই রোমহষর্ক ভিডিওটা সবাই কমবেশি দেখেছেন। চলুন আরেকবার দৃশ্যপট মনে করার চেষ্টা করি। কি দেখলেন? একদল উত্তেজিত লোক সম্মিলিতভাবে একজন নিরীহ যুবককে জোর করে টানতে টানতে একটা কক্ষে আটক করে মারধর শুরু করলেন। একটু মিলিয়ে দেখুন তো ঠিক বলছি কিনা। আগেই বলেছিলাম অভিযোগ ছিলো সরকারি হাসপাতাল থেকেই ডা. মামুনের নির্দেশ, পরামর্শ ও প্ররোচণায় আনিসুলকে দুটো কড়া ইনজেকশন দিয়ে অচেতন করা হয় এবং মুঠোফোনে কয়েক দফা কথা বলার পরেই ভিকটিমকে প্রাইভেট ক্লিনিকে ‘ভাড়া’ দেওয়া হয়। ঘুম পাড়ানি ইনজেকশনের মেয়াদ তো আর আজীবন থাকে না, এক সময় এর রেশ কেটে যায়।

তাহলে একবার ভাবুন তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির মতো কঠিন একটা সাবজেক্টে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ও ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় মেধার জোরে হাজার হাজার প্রার্থীকে টপকে সম্মিলিত ক্যাডারে দ্বিতীয় এবং নিজ ক্যাডার বিসিএস পুলিশে প্রথম হওয়া এই অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা যিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে ঢাকায় আসলেন আর রাতারাতি বদ্ধ পাগল হয়ে গেলেন যে হাসপাতালে যেতে না যেতেই তাঁকে ইনজেকশন পুশ করা হলো!

কল্পনা করুন আপনি নিজেই পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম! ধরুন, সামান্য উদ্বিগ্নতা ও অস্বস্তি নিয়ে আপনি ঢাকা মেডিকেলের পুরাতন ভবনের দোতলায় গেলেন ডাক্তার দেখাতে। আপনার সাথে যে আত্মীয় মেডিকেলে গিয়েছিলেন তাঁকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে দায়িত্বশীল চিকিৎসক আপনাকে অন্য একটা কক্ষে পাঠালেন। ওই কক্ষে যাওয়ার সাথে সাথে আপনাকে একটি লোহার বেডে শুয়ে পড়তে বলা হলো। কথা মতো আপনি যেই শুয়ে পড়লেন দুজন নার্স এসে আপনাকে ইনজেকশন দেওয়া শুরু করলেন। একটু ব্যথা পেলেন বটে তবু ভাবলেন এটাই হয়তো এখানকার ট্রিটমেন্টের ধরন কিন্তু ওই ভাবনা ওই পর্যন্তই! আপনি কড়া ডোজের ইনজেকশনের প্রভাবে অচেতন হয়ে পড়লেন। আপনার যখন সেন্স ফিরলো তখন দেখলেন আগের সেই রুম থেকে আপনাকে অন্য আরেকটা রুমে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারলেন আপনাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ পুরোনো ঢাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। বার কয়েক ওই হাসপাতালের নাম শুনলেন কিন্তু কোনভাবেই স্মরণ করতে পারলেন না যে আগে এই ‘বিখ্যাত হাসপাতালের’ নাম শুনেছেন কি না। আপনার যখন এই অবস্থা তখন চোখ মেলে ভালো করে চারপাশটা দেখতে থাকলেন। যেখানে আপনি আদৌ ডাক্তার দেখাতে যান নি, নাম না জানা সেই হাসপাতালে নিজেকে দেখে এমনিতেই আপনি মনে মনে ক্ষেপে ছিলেন এবার যা দেখলেন তাতে আপনার মন আরো খারাপ হয়ে গেলো। দেখলেন হাসপাতালের রুমগুলো খুবই অপরিচ্ছন্ন, বালিশগুলো নোংরা, বিছানার চাদরে ময়লার দাগ লেগে আছে, রুমের দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে গেছে, নাকে দুর্গন্ধ আসছে। আপনি একজন শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ। হাসপাতালের এই অবকাঠামোগত শ্রী দেখে নিশ্চয়ই ততক্ষণে বুঝে ফেলবেন আপনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর প্রথমেই আপনি যা করবেন সেটা হলো রাগে ফেটে পড়বেন এবং ওই প্রাইভেট ক্লিনিক ছেড়ে সঙ্গে সঙ্গেই বাসায় চলে যাওয়ার জন্য দরজায় পা বাড়াবেন। তাইতো? কিন্তু আপনি তো তখনো জানেননা কোরবানির পশুর মতো ইতোমধ্যেই আপনার মূল্যও নির্ধারণ হয়ে গেছে এবং ভাগবাটোয়ারাও শেষের দিকে। আপনার রক্ত-মাংসের ৩০% যাবে কমিশন হিসেবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মহোদয়ের পকেটে, আর বাকি ৭০% যাবে নোংরা-গন্ধেভরা চিকিৎসালয় নামের আড়ালে সনদ নেওয়া একটা পঁচা নোংরা ভাগাড় মালিকদের ট্যাকে। সুতরাং, বাঘের মুখ থেকে পালিয়ে আসতে পারলেও একদল লোভী হায়েনার থাবা থেকে আপনি কেমনে বের হবেন?

ঠিকই ধরেছেন। মোটামুটি প্রায় একই ঘটনা ঘটে সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম স্যারের সাথেও। তিনি যখনই মাইন্ড এইড হাসপাতালের বন্দিদশা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেন, তখনি একদল বুনো পশু একযোগে আক্রমণ করতে শুরু করলো ইনজেকশনের মেয়াদ শেষ করে সদ্য জ্ঞান ফিরে পাওয়া দুর্বল ও হতভাগ্য একজন অফিসারকে। জীবন বাঁচাতে তিনি ‘একপাল পশুর’ সাথে ধস্তাধস্তিও করলেন কিন্তু দশচক্রে ভগবান যেখানে ভূত হয়ে যায়, সেখানে একজন যুবক তো নস্যি!

ভিডিও দেখুন। কমিশন দিয়ে ভাড়া করে আনা রোগী যদি টাকা কড়ি না দিয়ে এমনি এমনি চলে যায় তাহলে কি দিয়ে উদরপূর্তি করবে হাসপাতাল নামক ভাগাড়ের মেসবয়, বাবুর্চি আর নেশাখোর মদ্যপের দল? টাকার গন্ধে কাঠের পুতুল যেখানে হা করে ওঠে, টাকার মায়ায় পড়ে বিসিএস পাস করা ডাক্তার যেখানে কমিশন বাণিজ্য করেন আর নরকের কীটগুলো এমনি এমনি ছেড়ে দেবে তাঁকে? ডাক্তার বোন তাঁর যতই আর্তনাদ করুক, যতই মিনতি করে বলুক, ‘আমার ভাই একজন পুলিশ অফিসার! আমার ভাই একজন এসপি! ওকে এমন করে মারবেন না!’ সেকথা কি ওসব পুঁতিগন্ধময় কানে ঢুকবে?

আহারে জীবন! আহা জীবন! জলে ভাসা পদ্ম জীবন। তিল তিল করে বেড়ে ওঠা যে জীবন মানব সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত, যে জীবন সন্তান-স্ত্রী-বাবা-মায়ের মাথায় সিক্ত, যে জীবন রাত জেগে শহরের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য উৎসর্গীত, যে জীবন পরকে আপন করার, দায়িত্বের, গর্বের--সেই জীবনটা ছটফট করতে করতে মাত্র কয়েক মিনিটেই অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করলো একদল নিষ্ঠুর, পাপিষ্ঠ, নরপশুর নরবলির বেদিমূলে!

ঘটনা এখানে শেষ হলে কষ্ট তবু কম হতো। কিন্তু অবাক হওয়ার আরও কিছুটা এখনো যে বাকি আছে! বেসরকারি হাসপাতাল কর্মীদের সম্মিলিত আক্রমণে মারা যাওয়ার পরপরই এএসপি আনিসুল করিমের মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাবটা এমন যেনো "লাশটাকে উন্নত চিকিৎসা" দিলেই আবার প্রাণ ফিরে আসবে!

হৃদরোগ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু সনদে লিখেছেন ‘Dead on Board’ মানে হলো ভিকটিমকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা গেছেন। মানে প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জেনে-বুঝেই একটা লাশকে হাসপাতালে পাঠালো! দায় এড়াতে বুঝি? পুলিশের কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে যে নিহত আনিসুল করিমের নিথর দেহ নিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালের যে দলটি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে গেলেন তাদের নেতৃত্বেই ছিলেন তথাকথিত পর্দার অন্তরালের রাঘব বোয়াল ও একজন এমবিবিএস তৎসহ বিসিএস পাস করা সরকারি চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন! কি বিশ্বাস হয় না? আহা! তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নিজের অবস্থান লুকানোর চেয়ে কঠিন কাজ যে আর নেই!

তাহলে প্রশ্ন ওঠে টাকার লোভে সরকারি হাসপাতাল থেকে পুলিশের এই কর্মকর্তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠিয়ে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় ডা. মামুন কি গভীর অনুশোচনায় ভুগছিলেন নাকি তরতাজা একজন মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা খুন করার কাহিনি আড়াল করতেই তিনি মরদেহের সাথে সাথে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে গিয়েছিলেন? কেনোই বা একজন সামান্য অসুস্থ মানুষকে চোখের দেখা না দেখেই দুই দুটো চেতনানাশক ইনজেকশন দিলেন?

অভিযুক্ত ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন মহোদয় মুঠোফোনে বলা তাঁর সেদিনের কথপোকথন নিজের কন্ঠ শুনে নিজেই হয়তো ভূত দেখার মতো চমকে যাবেন। সেটা নিয়ে তাঁকেই ভাবতে দেওয়া যাক।

এই সুযোগে বরং ম্যালেরিয়া রোগীর চিকিৎসায় কেঁচো থেরাপির জনক শফদার ডাক্তারকে নিয়েই বলি। শফদার ডাক্তারকে আষাঢ়ের উনিশ তারিখে পুলিশ আটক করেন, আর আমাদের ডা. মামুনও সম্প্রতি ধরা পড়েছেন। সম্প্রতি ডিএমপির তেজগাঁও ডিভিশন পুরো ঘটনার অকাট্য প্রমাণও হাতে পেয়েছে। তাঁরা বলছেন ইনজেকশন পুশ করার পরপরই অচেতন হয়ে পড়েন এএসপি আনিসুল করিম। এই সুযোগে ডা. মামুন বেসরকারি ওই হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সাথে মুঠোফোনে কয়েকদফা কথা বলেন। আদাবরের নামসর্বস্ব সেই প্রাইভেট হাসপাতালের কর্মকর্তার সাথে কথোপকথনের রেকর্ড হাতে পেয়ে পুলিশও আছেন শক্ত অবস্থানে।

এটাও সত্যি যে অনেকেই এই ঘটনা সন্দেহের চোখে দেখবেন কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না বরগুনার রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি যে সরাসরি জড়িত এটা পুলিশই জাতির নজরে আনেন। বিপক্ষে কতশত মন্তব্য দেখেছি কিন্তু শুধু মিন্নিই বুঝেন ফাঁসির অর্ডার শুনতে কেমন লাগে। এএসপি আনিসুল করিম হত্যায় জড়িতরাও একদিন আদালতের রায় শুনে পাপ মুক্তির অজুহাত খুঁজবেন। তবে, ওটা সময়ের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

শেষ করার আগে আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় হাজার হাজার মেধাবী ও মানবিক চিকিৎসক সমাজের কাছে সবিনয়ে একটা প্রশ্নই করতে চাই আর তাহলো এই ঘটনা সবিস্তারে শোনার পরে আপনারা কি এখনো

ডা.মামুনের নিঃশর্ত মুক্তি চান নাকি অন্যকিছু?

অবিশ্বাসীরা মনে রাখবেন তথ্যপ্রযুক্তি ভুল কথা বলেনা!

লেখক: সিনিয়র এএসপি আরআরএফ, রংপুর

৩৪তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :