বিদেশি অনুদান নেমেছে ৩ শতাংশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ১৯:০৮

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ ছিল অনুদান। অর্থাৎ সহায়তার বেশির ভাগই আসত দান হিসেবে। দিনে দিনে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় এখন অনুদানের পরিমাণ নেমে এসেছে ৩ শতাংশে। বাকি ৯৭ শতাংশ ঋণ হিসেবে নেয় বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তৈরি বৈদেশিক সহায়তা সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় প্রতিবেদনটি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রীরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈদেশিক সহায়তা সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত বিদেশি সহায়তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এতে।

মন্ত্রিপরিষদ-সচিব বলেন, প্রতিবেদনের উপস্থাপনা মতো ১৯৭১-৭২ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত তুলনা করলে দেখা যাবে, ১৯৭১-৭২ অর্থবছর বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, ঋণ ছিল ৬ থেকে ৮ শতাংশ। বেশির ভাগই দান হিসেবে আসত।

২০০৯-১০ অর্থবছরে বিদেশি সহায়তার মধ্যে অনুদান ছিল ৩০ শতাংশের মতো। বাকি ৭০ শতাংশের মতো ঋণ। নয় বছর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুদান আসে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মতো, আর ৯৫ শতাংশই এসেছে ঋণ হিসেবে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান আরও কমে ২-৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। ৯৭ শতাংশই ঋণ হিসেবে আসছে। আমরা আর দানের ওপর নির্ভর করছি না। আমরা আমাদের নিজস্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৭-৯৮ সালে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ডলার। তখন জিডিপির ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল ঋণের পরিমাণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থছাড় হচ্ছে ৭ হাজার ১২১ মিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির মাত্রা ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৪৪ হাজার ২৩ মিলিয়ন ডলার বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এটা জিডিপির ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ঋণের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ৩৭ শতাংশ, এডিবির ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ, জাপানের জাইকার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, চীনের ৬ দশমিক ৮১, রাশিয়ার ৬ দশমিক ১৪, ভারতের এক দশমিক ৩ এবং অন্যান্য ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেইফটি জোনে আছে জানিয়ে মিন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ যখন জিডিপির ৪০ শতাংশ বা এর বেশি হয়ে যায় তখন ঝুঁকি থাকে। আমাদের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ হলো ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আমরা অনেক সেফটিতে আছি।’ বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর সেফটি রেঞ্জ ২০ শতাংশ।

(ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :