হিমেল হাওয়ায় শীতের বার্তা

সৈয়দ ঋয়াদ
| আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২৩:০৩ | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫৫
ছবিটি দিনাজপুর থেকে তোলা।

শীতে যেন এমনই, হঠাৎ নিজের আগমনী বার্তা জানান দেয় প্রকৃতিতে। কখনো হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসে, কখনো বিন্দু বিন্দু শিশির হয়ে ভর করে ঘাস, ফুল, আর লতাপাতায়। ঋতুর হিসাবে বা শীতের মাস পৌষ না এলেও নিজের আগমনী জানান দিয়েছে শীত।

শীতের অগ্রবর্তী মাস অগ্রহায়ণ এসেছে সপ্তাহ খানেক আগে। হেমন্তের নীল আকাশে সূর্যের মিষ্টি আলোয় দেখা মিলছে কুয়াশা আর শিশিরের। শহুরে মিশেল আবহাওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে শীতের আমেজ। তার সঙ্গে কখানো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। ঝরছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।

তাপমাত্রা কমেছে বেশ খানিকটা। রাতে ও সকালে বেশ হিমেল আবহাওয়া। ঘুমুতে গিয়ে গায়ে তুলতে হচ্ছে কম্বল। রাতে ঘরের বার হলে গরম কাপড়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভুত হয়। কেউ কেউ গায়ে চাপাচ্ছে হালকা গরম কাপড়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, রাতের তাপমাত্রা কমেছে অন্তত ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কারণে প্রচুর জলীয় বাষ্প তৈরি হচ্ছে বাতাসে। এই জলীয় বাষ্প থেকে সৃষ্টি হওয়া মেঘমালা বাংলাদেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। যে কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব ঢাকাটাইমসকে বলেন, বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে না। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এর প্রভাবে খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হবে। এ কদিন আকাশ হালকা মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।

উত্তরের জনপদে শীত

নভেম্বরের শুরুতেই দেশের উত্তরের জনপদে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। দিন দিন তাপমাত্রা নিচে নেমে আসায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতে বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ করে দিয়ে শীতের গরম কাপড় বের করতে শুরু করেছে এ জনপদের মানুষ। সন্ধ্যা থেকে সকাল অবধি থাকে ঘন কুয়াশা।

উত্তরের এসব জেলায় শীতের শুরু থেকেই সূর্যের দেখা মিলছে অনেক বেলায়। প্রতিনিয়ত সর্দি-কাশির রোগী বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার এ অঞ্চলে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শীতে বিভিন্ন ধরণের ফ্লু ও করোনা থেকে রক্ষা পেতে সব শ্রেণিপেশার মানুষেরই দরকার বাড়তি সাবধান।

দেশে শীতের সময় করোনাভাইরাসের আরেক দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। এজন্য নানা প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। শীতপ্রধান দেশগুলোতেও বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা।

শীত বা ঠাণ্ডার সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোন সম্পর্ক রয়েছে বলে এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি। তবে করোনাভাইরাসের অন্য যে গোত্রগুলো রয়েছে, যার কারণে সাধারণ সর্দি-কাশির মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়, সেসব ঠাণ্ডা পড়লে বেড়ে যায় বলে দেখা গেছে। তাই শীতের আগমনে ফøু জাতীয় ভাইরাস ঠেকাতেও সতর্ক থাকার আহ্বান করেন বিশেষজ্ঞরা।

(ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :