করোনার প্রভাব

২০ সালে অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমেছে

রহমান আজিজ, ঢাকাটাইমস\
 | প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ১০:০৫

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংক খাতে। এতে ২০২০ সালে দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের চেয়ে কমেছে। বিভিন্ন ব্যাংকের সত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মুনাফা কমার পেছনে কিছু কারণ তুলে ধরেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ঢাকাটাইমসকে তারা জানান, করোনার বিস্তাররোধে লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। ব্যাংকের ঋণ আদায় প্রায় বন্ধ বললেই চলে। এ ছাড়া ঋণের সুদকে আয় হিসেবে না দেখিয়ে 'ব্লকড হিসেবে' রাখার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতেও ব্যাংকগুলোর আয় কমে গেছে।

অন্যদিকে এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর সুদের আয় প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর বড় একটা আয় আসছে বৈশ্বিক বাণিজ্য তথা আমদানি-রপ্তানি থেকে। কিন্তু মহামারির কারণে এ খাতের আয়ও কমেছে।

৩১ ডিসেম্বর ছিল ব্যাংক হলিডে। এদিন ব্যাংকগুলোর তাদের বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্র করে অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই-একটি ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমেছে।

গতকাল রাতে যেসব ব্যাংকের মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৮৯০ কোটি টাকা, যা ২০১৯ সালে ছিল ৯০০ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের ইর্স্টান ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা, ২০১৯ সালে ছিল ৯০০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৭৪১ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৭৮০ কোটি টাকা।

২০২০ সাল শেষে পূবালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩৫ কোটি টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। আল আরাফাহ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৭১০ কোটি টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৮০০ কোটি টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৭৭০ কোটি টাকা, এর আগের বছর ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা। যমুনা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৬৪০ কোটি টাকা, আগের বছর ছিল ৭২৬ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৯৪৮ কোটি টাকা। তাদের মুনাফা বাড়ার কারণ জানতে চাইল ন্যাশনাল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল বলেন, করোনার কারণে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বেশি হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমও ভালই হয়েছে।

এছাড়া নতুন করে কোনো ঋণ ক্লাসিফিকেশন না হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়ের কারণে এর বিপরীতে সুদ আয় খাতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের ব্যয় সংকোচনের কারণেও পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

নতুন ব্যাংকগুলোর মুনাফায় মিশ্র প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ২০২০ সালে এনআরবিসি ও মধুমতি ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। তবে কমেছে মেঘনা ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংকের। এ সময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে হয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা, যা ২০১৯ সালে ছিল ২৬৫ কোটি টাকা। মধুমতি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২৭৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২১০ কোটি টাকা। তবে মেঘনা ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে মাত্র ৮৫ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২৪ কোটি টাকা। এছাড়া ২০১৯ সালে সাউথ বাংলা ব্যাংকের মুনাফা ২২৬ কোটি টাকা হলেও গত বছর কমে হয়েছে ১৫২ কোটি টাকা।

কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নয়-ছয় সুদ কার্যকরের ধাক্কা ও করোনার কারণে ব্যাংকের সব ধরনের ব্যবসা কমায় পরিচালন মুনাফা কম হয়েছে।

পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়। পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এবং সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে করপোরেট কর পরিশোধের পর ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার হিসাব হয়।

নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে থাকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে শেয়ারবাজারে বেশ আগ্রহ থাকে।

মূল্যসংবেদনশীল বিবেচনায় শেয়ারবাজারে থাকা ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগেভাগে প্রকাশের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ব্যাংকগুলো বিএসইসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য দেওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১জানুয়ারি/মোআ/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :