‘মিজানুর রহমান ছিলেন নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৫

সদ্যপ্রয়াত আইন অঙ্গনের প্রথিতযশা সাংবাদিক, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশিষ্ট রাজনীতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। তারা প্রয়াত এই সাংবাদিককে স্পষ্টবাদী ও সত্যসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন সৎ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক।’ বিশিষ্টজনেরা মিজানুর রহমান খানের লিখনির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

করোনায় আক্রান্ত মিজানুর রহমান খান সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটিতে তার জন্ম।

মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী, স্পষ্টবাদী ও সত্যসন্ধানী সাংবাদিক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মরহুম মিজানুর রহমান খানের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। স্বাধীন সাংবাদিকতার মহান ব্রতকে সামনে রেখে তিনি নিরলস কাজ করেছেন, সেটি তার সতীর্থ সাংবাদিকরা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবেন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একজন নীতিবান সাংবাদিক হিসেবে মিজানুর রহমান খানের লিখনি ছিল সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের এই দুঃসময়ে তার মৃত্যু এক বিশাল ক্ষতি।’

সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু শোক জানিয়ে বলেন, ‘আইন বিষয়ক সাংবাদিকতায় অনন্য মেধা ও প্রজ্ঞার সাক্ষর রাখা মিজানুর রহমান খানের মৃত্যু সাংবাদিকতা জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার লিখনির কারণে তিনি দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।'

শোক জানিয়েছেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

এক শোকবার্তায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘প্রয়াত সাংবাদিক মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত আদর্শবান এক সংবাদকর্মী। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের সামনে তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিশেষ করে আইন-আদালত বিষয়ে রিপোর্টিং ও প্রতিবেদন তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে তিনি মার্কিন এবং ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত দলিলসমূহ সংগ্রহ করেন এবং যার ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে তিনি এত স্বল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করলেন, এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হবে।’

মিজানুর রহমান খানের মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মিজানুর রহমান ছিলেন সৎ নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের মৃত্যু মেনে নেয়া খুবই কঠিন এবং বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। দেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তার অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকতা ও লেখালেখি নানাদিক থেকে ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’

এক শোক বিবৃতিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অত্যন্ত কম বয়সে মারা গেছেন মিজান। তার মতো মানুয়েরা সময়ের সঙ্গে আরও অনেক পরিণত হয়ে ওঠেন। আরও পরিণত একজন মিজানের কাজ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি, এটা ভীষণ হতাশার। কিন্তু এটাও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সময়ের মধ্যে তিনি যা করেছেন সেটাও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা অনাগত দিনেও আমাদের পথ দেখাবে।’

এছাড়াও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ল' রিপোর্টার্স ফোরাম, বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন

(ঢাকাটাইমস/১২জানুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :