বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ

একচেটিয়া অনিয়মই অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের ‘নিয়ম’

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:৫২

রোগীদের টিকিটের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে বরখাস্ত করেছেন অধ্যক্ষ। অভিযোগ তদন্তে ওই কর্মচারীকে কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। গভর্নিং বডি বরাবরে আবেদন করেও অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিকার পাননি ওই কর্মচারী।

জানা গেছে, মো. মাসুদ হাসান নামের ওই কর্মচারী ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্তা বাহক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ তাকে এক অফিস আদেশে কলেজের নৈশ বিভাগে রোগীদের টিকিটের টাকা রশিদ বই মূলে সংগ্রহ করে উপাধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে ব্যাংকে জমা দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। অর্পিত সেই দায়িত্ব মাসুদ হাসান যথাযথ পালনও করে আসছিলেন।

তবে দায়িত্বে থাকাবস্থায় ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর ৩ লাখ ৮ হাজার ৫৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়। সেই অভিযোগ তদন্তে কলেজের তিন শিক্ষককে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন অধ্যক্ষ। এরপর উল্লেখিত সেই টাকা ফেরত দিতে সময় বেঁধে দিয়ে মাসুদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে মাসুদ হাসানের দাবি, তিনি এক টাকাও আত্মসাত করেননি। মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে নিয়ম বহির্ভূত বরখাস্ত করা হয়েছে। কলেজের মেডিক্যাল অফিসার আবু নাসেরের স্বাক্ষরে সেই টাকা কলেজের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা টাইমসকে আবু নাসের বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে টাকা দিয়েছে আমি জমা করেছি।’ কর্তৃপক্ষের হয়ে কে বা কারা তাকে এই টাকা জমা দিতে বলেছিল জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কলেজটির অভ্যন্তরীন প্রতিবেদন থেকে থেকে জানা যায়, ১৩ মার্চ ২০১৭ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত নৈশ বিভাগের ওপিডির রোগীদের থেকে প্রাপ্ত টিকিট বিক্রির টাকা ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫০ টাকা জমা থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে ২৩ লাখ ৩ হাজার ১৪০ টাকা। এই ঘটনায় ৩ লাখ ৫১ হাজার ৪১০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে কলেজটির বার্তাবাহক মাসুদ হাসানকে।

এই বিষয়ে জানতে চাকরিচ্যুত মাসুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকটাইমসকে বলেন, ‘ওই টাকা আমি আত্মসাতও করিনি, জমার বিষয়েও আমি কিছুই জানি না। আমাকে মিথ্যা অভিযোগে চাকুরিচ্যুত করা হলো। কিন্তু টাকা তো আমি নিইনি।’

এদিকে এই ঘটনায় নিজেদের দায় এড়াতে উল্টো বার্তাবাহক মাসুদ হাসানকে আসামি করে ওয়ারী থানায় ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর একটি সাধারণ ডায়েরি করেন কলেজটির উধ্যক্ষ ডা. সালেহা খাতুন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর গত বছরের ২৭ অক্টোবর একক সিদ্ধান্তে অধ্যক্ষ তাকে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করেন।

এর আগে গত ২০১৬ সালে ওপিডির নৈশ বিভাগের ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪০ টাকার অনিয়মের সন্ধান পাওয়া যায়। সেসময় অর্থ আত্মসাত ও অনিয়মের দায়ে কলেজটির কম্পাউন্ডার আলফাজ উদ্দিনকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। ওই ঘটনায় জিবি (গভর্নিং বডি) সিদ্ধান্তে ওপিডির টাকার অনিয়ম রোধ করতে নৈশ ও দিবা শাখার উপাধ্যক্ষদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রেগুলেশন ১৯৯৬ অনুসারে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট’ এর দায়িত্বের বিষয়ে বলা আছে, হাসপাতালে প্রশাসনিক কাজে ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট হচ্ছেন সুপারিনটেনডেন্টের প্রধান সহকারী। সুপারিনটেনডেন্টের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

অন্য আরেকটি ধারায় বলা রয়েছে, তিনি (ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট) হবেন হাসপাতালের ডিফেক্টর একাউন্টস অফিসার। সকল প্রকার লেনদেনের জন্য তিনি হাসপাতালের একাউন্ট এবং স্টোরের একাউন্টস রাখার ব্যাপারে দায়ী থাকবেন।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ রেগুলেশন ১৯৯৬-এর নীতিমালা বহির্ভূতভাবে একজন কম্পাউন্ডার ও একজন বার্তাবাহকের চাকুরিচ্যুতির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে কলেজ প্রশাসনের ওপর। কারণ কলেজ প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ও অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে বাদ দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির দুইজন কর্মচারীর চাকুরিচ্যুতিতে বড় ধরণের দায়িত্ব অবহেলা ও অনিয়ম বলছে গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য ও কলেজটির বেশ কয়েকজন শিক্ষকও।

কলেজটির একজন শিক্ষক নিজের নাম না বলার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মাসুদ হাসানকে যে টাকা আত্মসাতের দায়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, চাকুরিচ্যুত করার পরই নৈশ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু নাসের আত্মসাতের সাড়ে তিন লাখ টাকার ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা কলেজ ফান্ডে জমা করেন। অধ্যক্ষ- উপাধ্যক্ষদের অর্থ কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যাবে বলেই তারা মাসুদকে চাকুরিচ্যুত করেছেন।’

এর আগের ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে কম্পাউন্ডার আলফাজ উদ্দিনকে চাকুরিচ্যুত করার বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ওই শিক্ষক।

অধ্যক্ষ ডা. সালেহা খাতুনের সঙ্গে কথা বলতে কলেজে গেলে এই বিষয়ে কোনো কথা বলার সময় নেই বলে জানান। কলেজের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কলেজে কোনো অনিয়ম নেই। এসব তথ্য আপনারা কোথায় পান?’ এরপর তিনি প্রতিবেদককে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চলে যেতে বলেন।

কলেজটির অধ্যক্ষের পরই যার ওপর এর দায়িত্ব সেই ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট উপাধ্যক্ষ বজলুল হাসানকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে মাসুদ হাসানকে চকুরিচ্যুত করা হয়েছে সেই টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হওয়া ও গভর্নিং বডির অনুমোতি ছাড়া তাকে চাকুরিচ্যুত করা হলো সেটার বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. বজলুল হাসাস বলেন, ‘সব বিষয় নিয়ে গভর্নিং বডির সঙ্গে কথা হবে। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

কলেজের ওপিডির টাকার তসরুপের ঘটনায় অনুসন্ধানে নৈশ বিভাগের উপাধ্যক্ষ ডা. আবদুল জলিল মণ্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রয়াত রেজিস্ট্রার ডা. গোলাম মোস্তফার প্রভাব মাসুদ হাসানের উপর ছিল। তিনি তাকে ব্যক্তিগত পিয়ন হিসেবে ব্যবহার করতো। অফিসের কাজ রেখে তাকে সে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতো। ফলে মাসুদ হাসান নিয়মিত ব্যাংকে টাকা জমা না করে ৪/৫দিন পর পর টাকা জমা করতো। মাসুদ হাসানের মাধ্যমে সে প্রায়ই ক্যাশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা করে নিতো।’

ওই প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির সভায় এই অভিযোগের বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন হিসাব রক্ষক শাহজাহান সরকার। নিজের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন- ‘টাকার অনিয়মের এই বিষয় আপনাদেরকে (অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ) অবহিত করার পরও আপনার ব্যবস্থা গ্রহণ করনেনি।’

ওপিডির নৈশ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু নাসের তদন্ত কমিটির সভায় এই বিষয়ে যে বক্তব্য দেন সেখানে উল্লেখ করেন- ‘অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষকে অবিহিত করেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ করার পরও তারা এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’

এদিকে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে কলেজের গভর্নিং বডি বরাবর আবেদন করেছেন বরখাস্ত কর্মচারী মাসুদ হাসান। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এর আগে একজনের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে আমি জানি। গভর্নিং বডির চেষ্টায় সেই টাকা উদ্ধার হয়েছে। নতুন একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে শুনেছি। আমি এই বিষয়ে গভর্নিং বডিকে জানাতে বলেছি। তবে এই দায় অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষসহ দায়িত্বরতরা এড়াতে পারেন না।’

কলেজেটির গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কলেজে বিভিন্ন অনিয়েমের বিষয়ে আমার কাছেও এর আগে অনেক অভিযোগে এসেছে। তবে কোভিডের কারণে কোনো আপডেট তথ্য জানি না।’

তিনি বলেন, ‘আমি যেটা বলতে পারি সেখানে যে অনিয়ম চলছে কোভিডের কারণে মিটিং না হওয়ায় তারা আরও সুযোগ পাচ্ছে মনে হয়। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা থেকে শুরু করে বেশকিছু অভিযোগ পেয়েছি। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের উচিত জিবি মিটিং ডেকে এসব সুরাহা করা।’

এদিকে এই ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে কলেজে সার্টিফিকেট বাণিজ্য, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীকে পাশ করিয়ে দেয়া, হুটহাট কর্মচারী চাকুরিচ্যুত করা, কলেজ ফান্ডের অর্থ লোপাট, নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থাকাসহ বেশ কিছু অভিযোগও মিলেছে বাংলাদেশে হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

কলেজের প্যাথলজি ল্যাবে অনিয়ম, ক্রয় ভাউচার আছে তবে মালামাল নেই প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালের ল্যাবটিতে। আট বছর আগে নিজের একক সিদ্ধান্তে ল্যাবটি বন্ধ করে দেন কলেজটি অধ্যক্ষ ডা. সালেহা খতুন।

অন্য দিকে ল্যাবের পরীক্ষা নীরিক্ষা থেকে আয়ের একটি বড় অংশই লোপাট হয়েছে বলে কিছু তথ্য আসে এই প্রতিবেদকের কাছে। যেখানে দেখা যায় ল্যাবের রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ অর্থও কলেজ ফান্ডে জমা পড়েনি। এমনকি চেয়ার টেবিল কেনার ভাউচার থাকলেও আসলে তা কেনা হয়নি।

জানা যায়, বাংলাদেশ হোমওিপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রায় বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো। এর মধ্যে কিছু যন্ত্রপাতি যেমন বেশ কয়েকটি কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ অনেক চেয়ার টেবিল ও অন্যান অনেক যন্ত্রপাতিই কলেজ থেকে উধাও। কলেজের ল্যাবে কাজ করেন এমন একজন জানান, কম্পিউটার চেয়ার টেবিলসহ অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষ বাসায় নিয়ে ব্যবহার করেন।

একইভাবে গভর্নিং বডির ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ এ গঠিত প্যাথলজি ল্যাবের কমিটির অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায় ল্যাব চালু হওয়ার পর থেকে ২০১২ সালে প্যাথলজি টেস্টের ৩২ হাজার ৮২৭ টাকা, আল্ট্রাসনোগ্রাফির ১৮ হাজার ৪০০ টাকা, ল্যাব টেস্ট ও আল্ট্রসনোগ্রাফির ৫১ হাজার ২২৭টাকা আয় করলেও ব্যাংকে এসব টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে রি-এজেন্ট টেস্ট টিউব, বেতনসহ প্রায় বিশাল অংকের অসংগতি ধরা পরেছে। কলেজের ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৩১ টাকা ঘাটতি ধরা পরে।

সার্টিফিকেট বাণিজ্য

বিভিন্ন কোর্সেও অধ্যক্ষ ডা. সালেহা খাতুন সার্টিফিকেট বাণিজ্য করেণ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ২০ ও ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হোমিওপ্যাথিক পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেইনিং-পিডিটি (হোম) কোর্সে মোকাদ্দেস হোসেন নামে এক ছাত্র পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলেও তাকে সার্টিফিকেট প্রধান করা হয়।

এই বিষয়ে কলেজের অফিস সুপার ডা. নরুল আমিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মোকাদ্দেস আহমেদ পরীক্ষা দেননি। তবে অধ্যক্ষ বলেছেন, তাই তাকে সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। নিজে সার্টিফিকেট নেয়ার কথা শিকারও করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

কোভিড-১৯ এও ডিএইচএমএস ইন্টার্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে ৭ হাজার ২০০ টাকা থেকে হঠাৎ বাড়িয়ে ৯ হাজার ২০০ টাকা করেছেন অধ্যক্ষ। এবিষয়ে এই কোর্সে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থী এটিকে অমানবিক ও অনিয়ম উল্লেখ করে কলেজ প্রশাসন বরাবর আবেদনও করেন।

অভিযোগকারী এক শির্ক্ষাথী জানায়, সরকার যেখানে শিক্ষাকে সবার দোরগোড়ায পৌঁছে দিতে চাচ্ছেন তারা বৈশ্বিক মহামরিতেও অনিয়মে ব্যস্ত।’ এইভাবে শিক্ষার সুফল আসবে না বলেও মন্তব্য করেন ওই শিক্ষার্থী।

সরকার, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনলাইনে ক্লাস করার নির্দেশনা দেয়া থাকলেও কোভিড মহামারি গত হওয়া দশ মাস ও নতুন বছরেও অনলাইনে ক্লাস নেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করেননি কলেজ প্রশাসন। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে শরণাপন্ন হলেও উল্টো তাদেরকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেয়ায় লিখিত অভিযোগ দেয় শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ থাকা ও চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও গত সাড়ে ছয় বছর ধরে গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ান শের শাহ শেখকে ৩ লাখ ৯০ হাজার বেতন প্রদানের ভাউচার দেখানো হয়েছে। আবার কলেজটির শিক্ষক ডা. শহিদুল্লাহর চাকরি মেয়াদ শেষ হলে ২০১২-২০১৩ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়। পুনরায় সিলেকশন কমিটির অনুমোতি ব্যতিত তার চাকরি নবায়ন করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারী/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :