পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউজ’ মিষ্টি কুমড়া

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১৪:১১

সবার কাছে পরিচিত মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু সবজি খুব কমই রয়েছে। সারা বিশ্বে মিষ্টি কুমড়ার চাষ অবিশ্বাস্য। এর ওজন ১০০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও ৫০-৬০ কেজি ওজনের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়ে থাকে। মিষ্টি কুমড়ার বৈজ্ঞানিক নাম কাকুরবিটা মোছাটা। মিষ্টি কুমড়া গাছের উৎপত্তিস্থল মধ্য আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ। মিষ্টি কুমড়া ভাজি, তরকারি ছাড়াও ভর্তা করে খাওয়ারও প্রচলন রয়েছে। তবে অনেক দেশে ডেজার্ট, স্যুপ এবং সালাদেও এটি ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশে চরাঞ্চলের পলি মাটিতে মিষ্টি কুমড়ার ফলন ভালো হয়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁ-আশ বা এঁটেল দোঁ-আশ মাটি এর চাষাবাদের জন্য উত্তম। বাসা-বাড়ির ছাদেও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা যেতে পারে।

কুমড়া ভাজা থেকে শুরু করে তরকারি, এমন কোনও জিনিস নেই যা আমরা এই সবজি দিয়ে বানাই না। মিষ্টি স্বাদের এই সবজিটি তাই সকলেরই অত্যন্ত প্রিয়। মিষ্টি কুমড়ার মতো সুস্বাদু সবজি খুব কমই রয়েছে। হালকা মিষ্টি স্বাদের এই সবজিটি পাওয়া যায় সারা বছর জুড়ে। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মিষ্টি কুমড়ার উপস্থিতি আপনাকে রাখতে পারে অনেক অসুখ-বিসুখ থেকে দূরে। কেননা মিষ্টি কুমড়া এমন একটি সবজি, যার রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ। শুধু তরকারি হিসেবেই নয়, অন্যান্য ফলের মতো মিষ্টি কুমড়া ব্যবহার করতে পারেন সালাদ বা স্যুপ তৈরিতেও। কিন্তু আপনি কী জানেন এই সুস্বাদু কুমড়ার কত গুনাগুন রয়েছে। জানলে আশ্চর্য হবেন আপনিও।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিনের উ”স কুমড়া। কুমড়াতে রয়েছে ভিটামিন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই (আলফা টোকোফেরল), থায়ামিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও উচ্চমাত্রার খাদ্য আঁশ, ওমেগা ৩, সালফার, ক্যালসিয়াম ফ্যাটি অ্যাসিড, জিংক। যা চুল এবং স্ক্যাল্পের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ফলে কুমড়া নিয়ম করে খেলে চুল ঘন হয় এবং ড্যানড্রোফের সমস্যা দূর হয়।

মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে ৩৩ মিলিগ্রাম বিটাক্যারোটিন। বিটাক্যারোটিন এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরের ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন দূষণ, স্ট্রেস ও খাবারে যে সব কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে সেগুলোর কারণে ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ হতে শুরু করে। ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজের ফলে শরীরের ভালো কোষগুলো নষ্ট হতে শুরু করে এবং খারাপ কোষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সবুজ, কমলা, হলুদ রঙের সবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি পরিমাণে থাকে। তাই মিষ্টি কুমড়া ফ্রি রেডিকাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করতে পারে।

শরীরে দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে। একটি হল উচ্চ ঘনত্বের লাইপো প্রোটিন এবং দ্বিতীয়টি হল নিম্ন ঘনত্বের লাইপো প্রোটিন। ফলে কুমড়া যে ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, তাতে রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল মাত্রা একদিকে যেমন কমায় তেমনই আবার ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। বিটাক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি তাই চোখের জন্য খুবই ভালো। বয়সজনিত রোগ বিশেষ করে রেটিনার বিভিন্ন অসুখ প্রতিরোধে মিষ্টি কুমড়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক। তাই এর বীজ শুকিয়ে পাউডার করে শিশুদের যদি ছোট থেকেই দুধে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়, তাহলে তাদের হাড় মজবুত হবে।

মিষ্টি কুমড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য দারুণ উপকারী। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এটি ভূমিকা রাখে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপের স্কেল। কোন খাবারগুলো আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা বাড়ায় সেটি নির্দেশ করে এই স্কেল। মিষ্টি কুমড়ার উচ্চ জিআই ৭৫ এবং নিম্ন জিআই হচ্ছে ৩। নিম্ন জিআইর কারণে মিষ্টি কুমড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য বেশ উপকারী। তবে খুব বেশিমাত্রায় নয়। একজন ডায়াবেটিক রোগী দিনে সর্বোচ্চ ৯০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়া খেতে পারবেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :