বিএনপির তিন মেয়র প্রার্থীর ভোট বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৩৪ | প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:২০

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬০ পৌরসভায় ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে এ ভোটগ্রহণ চলবে বেলা চারটা পর্যন্ত। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগ পৌরসভায় দুপুর ২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে ৬০ পৌরসভার মধ্যে তিনটিতে অনিয়ম ও কাপচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

এর মধ্যে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে এনে বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ও বিএনপি প্রার্থী জুলফিকার আলীসহ ১৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজের ভোট দিতে না পারায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক। এছাড়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নূরুল মিল্লাত ভোট গ্রহণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, ভোট সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ তারা পাননি। বিএনপির ভোট বর্জনের বিষয়ে আ.লীগের প্রার্থীরা বলছেন, পরাজয় দেখে হয়ত ভোট বর্জন করছেন তারা।

আমাদের মোংলা প্রতিনিধি জানান, মোংলায় ভোট বর্জনকারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত সমর্থিত দুজনসহ মোট ৯ জন রয়েছেন। এছাড়া ৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীও ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার সকাল ১০টা ৪৫মিনিটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলীর মোংলা পৌরসভার মাদ্রাসা রোডের নিজ বাসভবনে প্রার্থীরা এ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী আড়ানী পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে গত দুদিন ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও আজ সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ হচ্ছে। তবে ভোটের আগের রাতে সেখান থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আজ ভোটগ্রহণ শুরুর পর ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর এলাকায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, শহীদ সেকেন্দার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমি আমার নিজের ভোটটা দিতে গিয়েছিলাম। নৌকার সমর্থকরা আমাকে আমার ভোটটাই দিতে দেয়নি। কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোথাও এমন হয়েছে যে প্রার্থী তার নিজের ভোট দিতে পারেননি? এমন ভোটে থেকে লাভ কী?

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট নেই। সবাইকে বের করে দেয়া হয়েছে। আর তিনি যখন ভোট দিতে যান তখন কেন্দ্রে তাকে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে তিনি ভোট বর্জন করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক বলেন, এখন বেলা ১১টা। ভোট যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন ভোট বর্জন করে লাভ আছে?

তিনি বলেন, ভোট বর্জনের কথা এখনও শুনিনি। সব জায়গায় বিএনপির এজেন্ট আছে। শুনলাম ১৫-২০ জন নিয়ে গিয়ে বিএনপি প্রার্থী ভোট দিয়েছেন। এখন নিশ্চিত পরাজয় দেখে হয়ত ভোট বর্জন করছেন।

ভবানীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। মেয়র পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়া অন্য দুইজন হলেন- স্বতন্ত্র এসএম মামুনুর রশীদ (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) এবং কামাল হোসেন। কামালের প্রতীক নারিকেল গাছ। আর মামুনুর রশীদের প্রতীক জগ। দ্বিতীয় ধাপে রাজশাহীর তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্য দুটি পৌরসভা হলো- গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট এবং বাঘা উপজেলার আড়ানী।

এছাড়া, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নূরুল মিল্লাত ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় কুলিয়ারচরের বেতিয়ারকান্দি এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকেই প্রশাসন ও সরকারি দলের লোকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে গিয়ে হুমকি দিয়েছে। অনেকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আজ ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদেরকে জোরপূর্বক বের করে দেয়া হয়। অনেককে মারধরও করা হয়। এ অবস্থায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল মজিদসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল মজিদও একই অভিযোগ করেন। জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বলেন, এ সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাননি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংঘর্ষ ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা:

মোংলা, রাজশাহীর ভবানিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভা ছাড়া কুমিল্লার চান্দিনা ও কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে।

চান্দিনা পৌরসভায় ভোটকেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটনা ঘটেছে। এসময় একজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

চান্দিনায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হারং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে এ সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর জখম ব্যক্তি হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা মহসিন। তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী বিল্লাল হোসেনের সমর্থক।

এছাড়া, কুষ্টিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ১০ নং ওয়ার্ডের এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে ভোটগ্রহণের শুরুতেই ওয়ার্ডের মিলপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা যায়।

কাউন্সিলর প্রার্থী কিশোর কুমার জগোর সমর্থকরা এ চেষ্টা চালায়। এসময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা লাভলুর সমর্থকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই পক্ষকেই কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।

দ্বিতীয় ধাপের ৬০টির মধ্যে ২৮টি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হচ্ছে। বাকি ৩২টিতে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হবে।

৬০ পৌরসভাতে মেয়র প্রার্থী ২২১ জন, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ৭৪৫ এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৩২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ লাখ ৪০ হাজার ২২৬ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮ হাজার ৪৩১ জন এবং নারী ১১ লাখ ৩১ হাজার ৮৩১ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৮০টি এবং ভোটকক্ষ ৬ হাজার ৫০৮টি।

(ঢাকাটাইমস/১৬জানুয়ারি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :