৪৫ হাজার বছর আগেও ছিল আধুনিক মানুষ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:০০

এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশ্বের প্রাচীনতম গুহাচিত্রের সন্ধান মিলেছে ইন্দোনেশিয়ায়। একটি দৈত্য বুনো শূকরের আঁকা চিত্রটির বয়স অন্তত সাড়ে ৪৫ হাজার বছর বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই চিত্র দেখে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সেই সময়েও আধুনিক মানুষের বাস ছিল। তারা অনেকটা আমাদের মতোই ছিল।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৫৩ ইঞ্চি বাই ২১ ইঞ্চির শূকরের ছবিতে রং চড়ানো হয়েছে লাল গুঁড়ো দিয়ে। ক্যানভাস নয়, ওই ছবি আঁকা হয়েছে গুহার ভিতর, পাথরের ওপর। প্রত্নতত্ত্ববিদদের একাংশের দাবি, বিশ্বে কোনো প্রাণীর প্রাচীনতম গুহাচিত্র এটিই। বয়স বেশি নয়, মাত্র ৪৫,৫০০ বছর!

ইন্দোনেশিয়ায় সুলাওয়েসি দ্বীপের প্রত্যন্ত উপত্যকার লেয়াং তেদংঞ্জ গুহায় প্রাগৈতিহাসিক মানুষের আঁকা প্রমাণ মাপের ওই শূকরের ছবি সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

ফ্রান্সের লাস্কো থেকে স্পেনের আলতামিরা, আর্জেন্তিনার কুয়েভা দ্য লা মানোস থেকে ভারতের ভীমবেটকা- গুহামানবদের আঁকা বহু তাক-লাগানো পশুপ্রাণীর ছবি আগেও খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু রেডিও-কার্বন ডেটিং পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলির গড় বয়স ৩০-৩৫ হাজার বছরের বেশি নয়। সেই নিরিখে ইন্দোনেশিয়ার এই প্রাণী-চিত্রই সবচেয়ে পুরোনো।

আদিম মানুষের আঁকা সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্রের দৃষ্টান্ত কিন্তু আরও অনেক বেশি পুরোনো। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় হ্যাশট্যাগের মতো একটি 'ডুডল' আবিষ্কার হয়েছিল। কোনো প্রাণীর ছবি নয়, তা ছিল অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্ট- বিমূর্ত শিল্প! বয়স ৭৩ হাজার বছর!

সুলাওয়েসির শূকর-চিত্রের সন্ধান নিয়ে সম্প্রতিসায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধের সহ-লেখক ম্যাক্সিম অ্যবার্ট বলছেন, 'এই চিত্রটি যারা এঁকেছিলেন তারা পুরোপুরি আধুনিক ছিলেন, আমাদেরই মতো। নিজেদের পছন্দসই চিত্রকর্ম আঁকার ক্ষমতা ও সরঞ্জাম ছিল তাদের। ওই অঞ্চলে কবে থেকে আদিম মানুষের বসতি ছিল, তারও আঁচ পাওয়া যায় এই ছবি দেখে।'

রেডিও-কার্বন ডেটিংয়ে বিশেষজ্ঞ অ্যবার্ট ওই গুহা-চিত্রকর্মের উপরে একটি ক্যালসাইটের স্তর শনাক্ত করেন। ইউরেনিয়াম-সিরিজ আইসোটোপ ব্যবহার করে চিত্রকর্মের বয়স অনুমান করেছেন তিনি। অ্যবার্ট বলছেন, 'আঁকাটি অন্তত ৪৫,৫০০ বছরের পুরোনো। তার আগের হওয়াও বিচিত্র নয়। কারণ, আমরা শুধুমাত্র ক্যালসাইটের ওপর নির্ভর করে এর তারিখ অনুমান করেছি।'

মুখে অবয়ব থেকে শুরু করে পুরুষ শূকরের সব বৈশিষ্ট্যই ধরা পড়েছে চিত্রে। শূকরটির পিঠের ওপর দেখা যাচ্ছে দু'টি হাতের ছাপ এবং আরও দু'টি শূকর, যার অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

নিবন্ধের সহ-লেখক অ্যাডাম ব্রাম জানিয়েছেন, 'মনে হয়, তিন শূকরের লড়াইকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল এই ছবিতে।'

হাতের ছাপ এবং রঙের সঙ্গে ব্যবহৃত লালারস থেকে আদিম মানুষের ডিএনএ নমুনা খুঁজে পাওয়ারও চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ঢাকা টাইমস/১৭জানুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :