‘ওয়াব’র পোস্টে মিলল বিরল ‘বোম্বে’ গ্রুপের রক্ত

আল-আমিন রাজু, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:৫০

রক্ত শূন্যতা নিয়ে বরিশালের একটি হাসপাতালে ১২ দিন ভর্তি ছিল শিশু রনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৫ জানুয়ারি শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। তিন বছরের রনি ঢাকা মেডিকেলের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন ছিল।

এরই মধ্যে ডাক্তার জানালো রনি রক্ত শূন্যতায় ভুগছে। তার জন্য এক ব্যাগ রক্ত লাগবে। রক্ত পরীক্ষা করার পরে জানা গেল রনির শরীরে বোম্বে বা এইচএইচ গ্রুপের রক্ত। অনেকেই হয় তো এই রক্তের গ্রুপের নামও জানে না। কারণ খুবই বিরল এই রক্তের গ্রুপ।

চিকিৎসকের কথা শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে রনির পরিবারে সদস্যদের। কীভাবে এই রক্ত জোগাড় করবে সেই ভাবনায় দিশেহারা হয়ে পড়ে রনির অভিভাবকরা। এরই মধ্যে তারা বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ শুরু করে। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচালিত মানব সেবায় কাজ করা ‘উই আর বাংলাদেশ’-এর (ওয়াবে) এডমিন পুলিশ সদস্য এস এম আকবর রক্ত চেয়ে একটি পোস্ট দেন।

শিশুটির জীবনের কথা চিন্তা করে অনেক ব্যবহারকারী বিরল গ্রুপের রক্ত খোঁজার এই পোস্টটি শেয়ার করেন। ওয়াবের এই পোস্ট দেখে নরসিংদীর বাসিন্দা পলাশ খান নামের এক যুবক তার বন্ধু মেহেদি হাসানের এমন রক্তের গ্রুপ আছে বলে জানায়। এরপর মেহেদির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিরল বোম্বে গ্রুপের রক্ত দিতে রাজি হন। পরে নরসিংদী থেকে ঢাকা মেডিকেলে এসে রক্ত দেন মেহেদি।

রনির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তারা ফুপু সামিয়া হাসান ইভা জানান, রক্ত দেয়ার পর রনির স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন অনেক ভালো। দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। বিরল গ্রুপের রক্ত পেতে ওয়াবের ভূমিকা বলার মতো নয়। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

বিরল গ্রুপের এমন রক্ত সংগ্রহের বিষয়ে উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এস এম আকবর ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিরল এই রক্ত সংগ্রহের জন্য গ্রুপে পোস্ট দেয়ার পরেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ওয়াবের সদস্যরা রক্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। আমাদের এই পোস্টটি দেখে ওয়াবের সদস্য পলাশ খান তার বন্ধু মেহেদি হাসানের রক্তের গ্রুপও বোম্বে বা এইচএইচ বলে জানান। পরে আমরা রক্ত দেয়ার জন্য মেহেদি হাসানকে উৎসাহিত করি। পরে মেহিদি রক্ত দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নরসিংদী থেকে ঢাকা মেডিকেলে ছুটে আসেন তিনি। রক্তের ক্রস ম্যাচিং মিলে গেলে মেহেদি শিশু রনিকে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন।

তিনি আরো বলেন, বোম্বে গ্রুপের রক্ত নিয়ে দেশে এমন আরও একজন মানুষের চিকিসাৎ আটকে ছিল। আমরা জানতে পেরেছি ২০১৬ সালে আরিনোবা প্লাস্টিক ইনডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের জন্য মুম্বাই থেকে চার ব্যাগ রক্ত আনতে হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও তখন বাংলাদেশে এমন রক্তের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে এবার সবার চেষ্টায় আমরা রনির জন্য বিরল এই রক্ত সংগ্রহ করে দিতে পেরেছি।

বিরল এই রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন সেচ্ছাসেবক নজরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রক্ত নিয়ে কাজ করছেন। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভ ব্লাড গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বোম্বে ব্লাড। একটি গবেষণায় দেখা গেছে এই রক্তের গ্রুপ প্রতি ১ মিলিয়নে মাত্র ৪ জনের হয়ে থাকে। বাংলাদেশে কতজনের শরীরে এই বিরল রক্ত আছে সেই সংখ্যা জানা না গেলেও ভারতে ১৭৯ জন পাওয়া গেছে। আর সারা বিশ্বে মাত্র ২৮ হাজার মানুষ আছেন।

জানা গেছে, বোম্বে শহরে (বর্তমানের মুম্বাই শহর) ১৯৫২ সালে প্রথম এই রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন ডা. ভেডে। তার শহরের নাম অনুসারেই এই রক্তের নাম ‘বোম্বে ব্লাড গ্রুপ’ রাখা হয়। তবে এই রক্তের গ্রুপের আরেকটি নাম হচ্ছে এইচএইচ গ্রুপ (HH blood group)।

রক্ত গ্রুপগুলোর নামকরন করা হয় এন্টিজেন এবং এন্টিবডির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে। পরিচিত ৮টি রক্ত গ্রুপে কোনো না কোনো এন্টিজেন থাকেই। কিন্তু বোম্বে ব্লাড গ্রুপে কোনো এন্টিজেন নেই, সবগুলোই এন্টিবডি, মানে "A এন্টিবডি", "B এন্টিবডি" থাকে। এ রক্তে কোন এন্টিজেন না থাকার কারণে অন্য কোনো গ্রুপের রক্ত প্রসেসিং গ্রহণ করা যায় না। শুধু মাত্র একজন "বোম্বে ব্লাড গ্রুপ" এর রক্তদাতা থেকেই "বোম্বে ব্লাড গ্রুপ" এর রোগী রক্ত গ্রহণ করতে পারবে।

এছাড়া ইনরা ও গোল্ডেন ব্লাড নামে আরো দুটি বিরল রক্ত গ্রুপের নাম জানা যায়। সারা বিশ্বে গোল্ডেল ব্লাড গ্রুপের ৪৩ জন ও ইনরা গ্রুপের ৭ মানুষ পাওয়া গেছে।

(ঢাকাটাইমস/২৮জানুয়ারি/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :