টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়নি কেউ

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:০৬

দেশে প্রথম টিকা প্রয়োগের পর ১০ দিন কেটে গেছে। এর মধ্যে যারা টিকা নিয়েছেন তাদের কেউ অসুস্থ হননি কিংবা কারও শরীরে বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। টিকা গ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও একই তথ্য জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির টিকা এনে তা গত ২৭ জানুয়ারি প্রথম প্রয়োগ করা হয়। সেদিন ২৭ জনকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়ার মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু করে সরকার। এরপর একে একে টিকা নিতে শুরু করেন নানা পেশার মানুষ। শুক্রবার পর্যন্ত দেশের মোট ৫৬৭ জন এ টিকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ২৫ জানুয়ারি ভারতের সেরাম থেকে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে অস্কফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসে দেশে। শুরুর দিকে টিকা নিতে মানুষের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা গেলেও সেটি অনেকটা কেটে গেছে। মূলত ভারত থেকে আসা এ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল চারপাশে। পরে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসকরা টিকা নিয়ে শঙ্কা কেটে যায়।

এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন সবাই সুস্থ রয়েছেন। তাদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেও জানিয়েছেন টিকা গ্রহণকারীরা। একই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে টিকা নিয়ে শঙ্কার আরেকটি কারণ ছিল নরওয়েতে ফাইজারের টিকা নিয়ে ২৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায়। তবে বাংলাদেশে ফায়জারের টিকা এখনো অনুমোদন পায়নি। বাংলাদেশে অনুমোদিতটিকা হলো ভারতের সেরাম ইনিস্টিটিউট থেকে আসা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা। এটি প্রথমে ব্রিটেন সরকার তার দেশে প্রয়োগের অনুমোদন দেয়। এরপর ভারতের সেরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দেশে মোট তিন কোটি ডোজ টিকা আসবে। আর ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা।

আগামীকাল রবিবার থেকে বাংলাদেশে গণটিকা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। সরকারের ভার্চুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করছে লাখ লাখ মানুষ। এর মধ্যে টিকা নিতে আড়াই লাখ মানুষ আবেদন করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় টিকা গ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ঢাকাটাইমসের কথা হয়। তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন ও নিজেদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করছেন বলে জানান।

গত ২৭ জানুয়ারি সর্বপ্রথম এ টিকা দেয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে। টিকা গ্রহণের ১০ দিন পর তার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমি সেই শুরু থেকে স্বাভাবিক আছে। চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া বা শারীরিক অবস্থা সব কিছুই ঠিক আছে। কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। বরং চলাফেরা কোনো বিধি নিষেধও নেই।’

একই দিনে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা নেন এনটিভি অনলাইনে কর্মরত মাসুদ রায়হান পলাশ। টিকা নিয়ে তিনি অফিসে আসেন। স্বাভাবিক কাজ করে চলেছেন।

পলাশ বলেন, ‘আমি টিকা নিয়ে অফিসে আসি। কাজ করছি। সবকিছু মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ স্বাচ্ছন্দে আছি। কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত শারীরিক, মানসিক সবকিছু বিবেচনায় ভালো আছি।’

টিকার দ্বিতীয় ডোজ কবে নাগাদ দেয়া হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আট সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।’

পুলিশের মধ্যে প্রথম এ টিকা গ্রহণ করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট দিদারুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর মতিঝিল জোনে কর্মরত রয়েছেন। টিকা গ্রহণের পর থেকে স্বাভাবিক রয়েছেন। শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। ডিউটি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এ ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা।

দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের মধ্যে আমি প্রথম টিকাটা নেই। টিকা নেয়ার পর আমি আমার স্বাভাবিক কাজ করছি। ডিউটি করছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এমনকি কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়নি। পেটে ব্যথা বা অন্য কোনো সমস্যাও নেই।’

এদিকে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘দেশে এ পর্যন্ত যে ৫৬৭ জন টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন।’

এসময় করোনার টিকা নিয়ে কোনো অপপ্রচারে কান না দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ১০ দিনে মোট দুই লাখ ৪৬ হাজার ২৬৭ জন মানুষ নিবন্ধন করেছেন জানিয়েছেন নাসিমা সুলতানা। বলেন, ‘বিভিন্ন টিকার কার্যক্রমে বা স্বাস্থ্য সেবা দিতে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যান, তারা অপারগদের টিকার নিবন্ধন করতে সহায়তা করবেন। এছাড়াও ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রেও তারা সহযোগিতা পাবেন। তাদের নিবন্ধন করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা করা হবে।’

টিকার নিবন্ধন নিয়ে কোনো সমস্যা হলে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করার পরামর্শও দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ এই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন এক লাখের বেশি মানুষ। তিনি জানান, টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়নের কারণে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সাপ্তাহিক ছুটির দিনও অফিস করছেন।

এই নিবন্ধনে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা সহকারী কর্মীরা সহযোগিতা করবে বলেও জানান নাসিমা।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন৷ ওই দিন বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির ২৭ জনকে টিকা দেয়া হয়৷ পরের দিন দেয়া হয় ঢাকার পাঁচ শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে৷

ইতিমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় করোনার টিকা পৌঁছে গেছে৷ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে৷ যারা ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছেন তারা প্রথমে টিকা পাবেন।

সরকারের হাতে এখন অক্সফোর্ডের ৭০ লাখ টিকা আছে৷ এরমধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের ৫০ লাখ এবং ভারত সরকারের উপহারের ২০ লাখ৷ অক্সফোর্ডের এই মোট ৭০ লাখ টিকা দিয়ে ব্যাপকভিত্তিক টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে৷ আরও দুই কোটি টিকা আসবে সেরাম থেকে পর্যায়ক্রমে৷

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফর্ম হলো কোভ্যাক্স; যা গঠিত হয়েছে বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে।

কোভ্যাক্সের প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী, জুনের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ১২.৮ মিলিয়ন বা এক কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ডোজ কভিড-১৯ টিকা পেতে যাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/০৬ফেব্রুয়ারি/মোআ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :