‘নৌকার পক্ষে ভোট করায় আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র’

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
 | প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:০৬

পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেছেন, বিগত পৌর নির্বাচনে পাবনা সদর পৌরসভায় নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট করায় কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা হেন মিথ্যাচার নেই- যা তারা করছে না।

তিনি বলেন, গত রবিবার রাতে পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের আতাইকান্দা বাজারে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে আমিরুল ইসলাম নামে এক রাজমিস্ত্রী নিহত হন। যিনি আগে চরমপন্থিদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যাকারীরা গুলি করে ফিরে যাওয়ার সময় সর্বহারা পার্টির স্লোগান দেয়। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাবা মা বা আত্মীয় স্বজন আমাকে কোন প্রকার দোষারোপ না করলেও সাবেক জাসদ নেতা সুলতানের নেতৃত্বে পাবনা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা যারা আগে জাসদ করতেন, তারা একত্রিত হয়ে সোমবার শহরে লাশ নিয়ে মিছিল করে এবং আমাকে দোষী বানিয়ে স্লোগান দেয়।

বুধবার পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাড়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খাঁন এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সময় পৌর নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে আমি হাইকোর্টে ছিলাম। তারপরেও আমাকে আমিরুল হত্যা মামলার আসামি করতে তারা প্রশাসনকে নানাভাবে চাপ দেয়। পাবনার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, এর আগেও লস্কর খা ও আরেকজনের খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করার চেষ্টা করে এই মহল। কিন্তু পুলিশ তখনও তদন্ত শেষে আমার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পুলিশ আসামির তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেয়। এভাবে একের পর এক এলাকার সকল হত্যার সঙ্গে আমাকে যুক্ত করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আবু সাঈদ খান আরও বলেন, আমিরুল হত্যার দিন আশপাশের সকল মোবাইল ট্রাক করা হলে প্রকৃত আসামি বেরিয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় আমার প্রতিপক্ষ জাসদ থেকে বর্তমানে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারী এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুলতান মাহামুদ খাঁন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় হত্যা সংঘটিত করে আমি এবং আমার ভাইসহ আমার সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছে। এই সুলতান ও দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হাসানের যৌথ বাহিনী আমাকে হত্যা করার জন্য বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করেছে।

গত বছর এই সুলতান আমার এলাকার হুকুম খাঁ নামে এক ব্যক্তির হত্যার প্রধান আসামি। তা হলে কিভাবে তিনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিনের বেলাতে প্রকাশ্যে পুলিশের সামনের শহরে মিছিল করে গেল। আমাকে নিয়ে রাজপথে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গেল। আমি প্রশাসনের কাছে আপনাদের মাধ্যমে জানতে চাই। এই সকল হত্যার ঘটনার সঠিক তদন্ত করুন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুন। তাহলে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত হত্যাকারী কারা। এই হত্যাসহ আমার ইউনিয়নের সকল হত্যার সরেজমিন খোঁজ নিয়ে সঠিক ও সত্যা সংবাদ পরিবেশেনের অনুরোধ জানান তিনি।

এ সময় চাঞ্চল্যকর হত্যার হুকুম খানের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও তার ছেলে মগরব খান এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে নিহত হুকম খানের স্ত্রী ও তার ছেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে তার স্বামী ও পিতার হত্যাকারী হিসাবে সুলতার মামমুদ খানসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর নাম উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান পুলিশ প্রশাসরে কাছে এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তাসহ সম্প্রতি খুনের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।

(ঢাকাটাইমস/১৭ফেব্রুয়ারি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :