যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারবেন না আইএস বধূ শামীমা

প্রকাশ | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:৩৩ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:১৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
ফাইল ছবি

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগম যুক্তরাজ্যে ফিরতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত এই রায় দেয়।

আইএসে যোগ দিতে ১৫ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ছেড়ে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় পাড়ি জমান শামীমা। ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্য সরকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই আইএস জঙ্গির নাগরিকত্ব বাতিল করে। তবে যুক্তরাজ্যের আপিল বিভাগ নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে শামীমা বেগমের আপিল আবেদনের বিষয়ে সম্মত হয়। কিন্তু আপিলে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে শামীমা বেগম দেশে ফিরতে পারবেন না বলে রায় দিলেন। এর অর্থ হলো- নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিষয়ে শামীমা বেগম আপিল করতে পারবেন কিন্তু নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন না।      

রায় ঘোষণা করে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক লর্ড রিড বলেন, আদালত বিচারকদের সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আবেদনের পক্ষে সমর্থন দেয় এবং শামীমা বেগম চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে আপিল করেছেন তা খারিজ করে দিচ্ছে।

শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যুক্তি দেয় যে, যারা আইএসে যোগ দিতে গিয়েছিল তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিমকোর্টের বিচারকরা রায়ে বলেন, জন-নিরাপত্তার কারণে এই মামলার যৌক্তিক শুনানি হওয়া অসম্ভব, এই কারণে আদালত সাধারণভাবে এটা শুনতে পারে না।  

২১ বছর বয়সী শামীমা বেগম বর্তমানে সিরিয়ার একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক রয়েছেন। সিরিয়ায় তিনি একজন আইএস যোদ্ধাকে বিবাহ করেন এবং স্ব-ঘোষিত খেলাফতের রাজধানী রাক্কায় বসবাস শুরু করেন। যুক্তরাজ্য ত্যাগ করার পর সিরিয়ায় তার তিনটি সন্তান হয়। যদিও তিনটি সন্তানই মারা গেছে।

শামীমা বেগমের মামলা যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেকে বলছেন, আইএসআইএল এ যোগ দেয়ার কারণে তাকে রাষ্ট্রহীন করা উচিত নয়। এই মতবাদের লোকেরা দেশে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের মুখোমুখী করার পক্ষপাতী।

(ঢাকাটাইমস/২৬ফেব্রুয়ারি/কেআই/জেবি)