ইতালির মাটির নীচে থেকে ২ হাজার বছরের রথ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:০০

ইতালির পম্পেই এলাকায় মাটির নিচে প্রায় অক্ষত অবস্থায় দুই হাজার বছরের পুরনো একটি রথ আবিষ্কৃত হয়েছে । পম্পেইর প্রত্নতাত্ত্বিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন আবিষ্কার। এর আগে ইটালিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আর হয়নি। উদ্ধারকৃত রথ উৎসব-অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হত বলো ধারণা করা হচ্ছে।

পম্পেই খননকার্যেরত কর্মকর্তারা জানান, রথটির লোহার কাঠামো, ব্রোঞ্জের সাজসজ্জা, এবং সুদৃশ্য কারুকার্য করা কাঠের ব্যবহারের প্রমাণ এখনও স্পষ্ট। প্রাচীন শহর পম্পেইর উত্তরে উদ্ধার হওয়া ওই রথটি রাখা ছিল শহরের প্রাচীরের কাছাকাছি একটি আস্তাবলের সামনে।

উল্লেখ্য, এই রথ যেখানে মিলেছে, তার কাছাকাছিই বেশ কিছু দিন আগে উদ্ধার হয়েছিল ৩টি ঘোড়ার দেহাবশেষ। প্রায় দুই হাজার বছর আগে ৭৯ খৃষ্টাব্দে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ভয়ঙ্কর লাভা উদগীরণের ফলে ধ্বংস হয়ে যায় ইতালির প্রাচীন শহর পম্পেই।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের অনুমান, ওই সময় গলিত লাভার চাপে ওই প্রাচীর এবং যে খোলা ঘরে রথটি রাখা ছিল, তার ছাদ ভেঙে পড়ে রথটির উপর। তার জেরে কিছুটা ক্ষতি হয়।

গত ৭ জানুয়ারি ওই এলাকার একটি অংশ দেখা যায়। তার পর থেকেই খননকার্য শুরু হয়। শনিবার ওই রথটি আবিষ্কার হয়।

পম্পেই শহরের ধ্বংসের ইতিহাস ইতালিতে সুপ্রচলিত। প্রাচীন ও মূল্যবান সামগ্রীর লোভে তাই ওই এলাকায় দুষ্কৃতীকারীদের আনাগোনা নিয়মিত। ২০১৭ সালে তেমনই একটি চক্রের হদিস পায় ইতালির পুলিশ। ওই এলাকার কাছাকাছি থাকা কিছু দুষ্কৃতী একাধিক সুড়ঙ্গ তৈরি করে ফেলেছিল। ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে মাটির নীচ থেকে খুঁড়ে আনা বিভিন্ন প্রত্নসামগ্রী গোপনে বিক্রি করে দিত তারা। সেই চক্রের ধৃত দুইজন এখনও বিচারাধীন।

এর আগে এই এলাকা থেকেই চাষের ফসল নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত গাড়ি পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এই প্রথম এমন রথ আবিষ্কৃত হল ইটালিতে। এই রথটির সাজসজ্জা, কাঠামো ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখে ইতিহাস গবেষকরা মনে করছেন, মূলত উৎসব, শোভাযাত্রা, পদযাত্রার মতো অনুষ্ঠানে অংশ নিত এই ধরনের রথ। পাশাপাশি নববধূকে নিয়ে যাওয়ার জন্যও এটা ব্যবহার হত বলে মনে করছেন তারা।

(ঢাকাটাইমস/২৮ফেব্রুয়ারি/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :