ত্রিশালে করোনায় অনুদানের গুজব, চলছে বাণিজ্য

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ মার্চ ২০২১, ১৬:১৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালে করোনায় শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের আবেদনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে উপচেপড়া ভীড় লেগে আছে নিয়মিত।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা করোনায় অনুদানের ১০ হাজার টাকা পাওয়ার গুজবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইন্টারনেটে কাজ করা কম্পিউটারের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টিকে সম্পূর্ণ গুজব এবং প্রতারণার অংশ বলে জানাচ্ছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে ত্রিশাল পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে আবেদন করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রচন্ড ভীড়। কম্পিউটার দোকানিরা প্রতিটি আবেদনে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। আবেদনে অতিরিক্ত চাহিদা থাকার সুযোগে সরকারি কোনো ফি না লাগা সত্ত্বেও কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

অনুদানের আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে প্রত্যয়নপত্র, ফোন নম্বর, বিকাশ নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্ম সনদ।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া নোমান নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানাস, তিনি এই অনুদানের কথা আগে জানতেন না। তাকে স্কুল থেকেও কিছু জানানো হয় নাই। অন্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা দিবে শুনে তিনিও অনলাইনে আবেদন করতে এসেছেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র আনতে টাকা লেগেছে। ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো স্কুল ১০০-২০০ টাকাও নিচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

এদিকে ৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান বিষয়ে কাউকে ফোন দেয়া হয়নি। এন আইডি নাম্বার, বিকাশ নাম্বার, গোপন পিন নাম্বারের মতো কোন তথ্য চাওয়া হয়নি। প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ত্রিশাল মহিলা ড্রিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সেলিমুল হক তরফদার বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রত্যয়নপত্রের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। প্রত্যয়নপত্র না দিলে তারা আন্দোলন শুরু করবে। তাই একসঙ্গে সব শিক্ষার্থীর প্রত্যয়নপত্র দিতে বাধ্য হই। প্রত্যয়নপত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি।

ত্রিশাল মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঝিল্লুর রহমান আনম জানান, গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছে। দূরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুস্থ, প্রতিবন্ধী, গরিব ও অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন। ৭ মার্চ আবেদনের শেষ সময়। তবে এটি করোনা প্রণোদনা বা স্টুডেন্ট ভাতা নয়।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এভাবে না জেনে ও না বুঝে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ছোটাছুটি কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কোনো কিছু নিশ্চিত না হয়ে ভুল তথ্য শেয়ার করা ঠিক না। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি প্রত্যয়নপত্রে টাকা নেয়ার চেষ্টা করে থাকে তবে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাদের জন্য এই অনুদান নির্দিষ্ট শুধু তারাই আবেদন করা উচিত বলে জানান ইউএনও।

(ঢাকাটাইমস/৭মার্চ/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :