আইএসের বর্বরতার কাহিনী শুনলেন পোপ ফ্রান্সিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ১৯:৩২ | প্রকাশিত : ০৭ মার্চ ২০২১, ১৮:০৯

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ইরাক সফরের তৃতীয় দিনে ইতিহাস সমৃদ্ধ শহর মসুল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে বসবাসরত মুসলিম এবং খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের মুখে তিনি আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রাধীন জীবন যাপনের দুর্বিষহ কাহিনী শোনেন। পোপ ফ্রান্সি মসুলে বসবাসরত মানুষকে ছাই হতে জেগে উঠার আশির্বাদ করেন। তিনি বলেন, ভ্রাতৃঘাতীর থেকে ভ্রাতৃবন্ধন বেশি স্থায়ী।

এর আগে রবিবার সকালে পোপ ফ্রান্সিস ধর্মীয় সংঘাতে পীড়িত মানুষকে উৎসাহিত এবং মৃতদের জন্য প্রার্থনার জন্য হেলিকপ্টারে করে ইরাকের উত্তর শহর মসুলে পৌঁছান। সেখানে তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর এবং গির্জা অবলোকন করেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট মসুল দখলের পূর্বে এটি প্রাণবন্ত একটি শহর ছিল।

পোপ ফ্রান্সিস ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সামনে খোলা আকাশে মসুলবাসীর মুখোমুখী হন। সেখানে মসুলের ক্যালডিয়ান আর্চবিশপ নাজিব মাইকেল পোপকে সম্মিলিতভাবে কট্টরবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং দুর্নীনিকে পরাজিত করার কথা বলেন।

ঐতিহাসিক মসুল শহরে ইরাক ভ্রমণে আসা পোপ ফ্রান্সিস চতুর্দিকে ভূমিকম্পে বিধ্বস্তের মতো ভবনের ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করেন। মসুলে নিহত সকলের প্রতি তিনি প্রার্থনা করেন। পোপ ফ্রান্সিস বলেন, কত নিষ্ঠুর! দেশের (ইরাকের) মুসলিম, খ্রিাস্টান, ইহুদিদের প্রাচীন স্থাপনা, সভ্যতার বাতিঘরে বর্বর আক্রমণ করা করা হয়েছে। তবে আজ আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভ্রাতৃঘাতীর থেকে ভ্রাতৃবন্ধন বেশি স্থায়ী, ঘৃণার থেকে আশা এবং যুদ্ধের থেকে শান্তি বেশি শক্তিশালী।'

এর আগে শনিবার পোপ ফ্রান্সিস পবিত্র শহর নাজাফে ইরাকের সকল মানুষের সহাবস্থানের আহ্বান জানাতে শিয়াদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু আয়াতুল্লাহ আলি আল সিস্তানির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সেখানে পবিত্র শহর উরে তিনি ইরাকের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন। প্রাচীন উর শহর ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদী এই তিন ধর্মের জন্যই পবিত্র স্থান। এখানে নবী আব্রাহাম (নবী ইব্রাহিম) জন্মেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। উর শহরে প্রার্থনার পর পোপ ফ্রান্সিস সেন্ট জোসেফ ক্যাথেড্রলে দেশের গণ মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ইরাক খ্রিস্ট ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতময় দেশ ইরাকে পোপ ফ্যান্সিসের ভ্রমণ আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।ইরাকে এক সময় ১০ লাখের বেশি খ্রিস্টান জনসংখ্যা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মের আড়াই থেকে চার লাখ জনগোষ্ঠী রয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধ, ধমীয় নিপীড়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার কারণে দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মের জনসংখ্যা কমছে বলে ধারণা করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/০৭মার্চ/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :