মামুনুল হক হুকুমের আসামি, প্রমাণিত হলে গ্রেপ্তার: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১৭:০১ | প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৫৯
মাওলানা মামুনুল হক (ফাইল ছবি)

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বিক্ষোভে তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের ১৭ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একজন ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা। সেই মামলার এজাহারে এক নম্বর ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে সংগঠনটির আলোচিত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় এই যুগ্ম-মহাসচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমের চারপাশে যে সাংঘর্ষিক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল একজন ব্যবসায়ী একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি ১৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করেছেন। আরও অজ্ঞাতনামা অনেকের কথাই বলেছেন। তার এজাহারে যে বক্তব্য সে অনুযায়ী তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এবং তার সাথে আরও অনেকেই আহত হয়েছেন। মূলত তিনি সবার পক্ষ থেকে এজাহারটা করেছেন এবং সাক্ষীদের নাম দিয়েছেন। সেদিন অধিকাংশ সাক্ষীই তার সাথে আহত হন।’

পুলিশ জানায়, অভিযোগকারী এজাহারে লিখেছেন, গত ২৬ তারিখ তিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি আক্রমণের শিকার হন। সেখানে থেকে তিনি পালাবার চেষ্টা করেন, তখন তার ওপর ইটপাটকেল ছোড়া হয় এবং লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট করা হয়। তার সাথে যারা ছিল তাদের সবাইকে মারপিট করা হয়।

সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেলন, ‘আসলে আপনারা জানেন, ২৬ তারিখ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে প্রথম সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এবং আমরা চাক্ষুষ যেটা দেখেছি যে, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের উঁচু জায়গাটিতে নামাজ শেষ সবার সঙ্গে সঙ্গে একদল মুসল্লি জমায়েত হয়ে স্লোগান দেয়া শুরু করে এবং জুতা সেন্ডেল ইত্যাদি দেখানো শুরু করে।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইন্ডিয়ান প্রধানমন্ত্রী তখন দেশে ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করে এই জুতা সেন্ডেল দেখানো এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে কিছুসংখ্যক মুসল্লি দাঁড়িয়ে যায় এবং তারা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থা সৃষ্টি হয়। তারপরে দু'পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সংঘর্ষটা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা দেখেছি যে, মসজিদের ভেতর থেকে এবং ছাদের উপর থেকে অসংখ্য ইট-পাটকেল বাইরের দিকে ছোড়া হয়েছে। মসজিদের নির্মাণকাজ চলছিল, সেই ইটগুলো তারা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। ইট-পাটকেলে অনেক মুসল্লি, সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ আহত হয়েছেন।’

মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘আমরা তদন্ত করব। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অনেকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। তবে আমরা কোনো পদ বিবেচনায় নেব না। আমরা অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। মামলাটি গতকাল রাতে হয়েছে। এখনো প্রি-ম্যাচুরড রয়েছে। আমরা আসামিদের প্রকৃত পরিচয়, তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, ২৬ তারিখ তারা কোথায় ছিলেন, বায়তুল মোকাররমে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি-না, তারা নাশকতার নির্দেশ-উসকানি দিয়েছেন কি-না, হামলার অর্থদাতা বা মাস্টারমাইন্ড কি-না তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সেদিন সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে সরকার দলীয় লোকজনও ছিল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান মামলাটি করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘যিনি মামলা করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি টাইলসের আঘাতে আহত হয়েছেন। তার অন্য কোনো পরিচয় আছে কি-না তা আমরা খুঁজে বের করব।’

মামলায় হেফাজতের নেতাদের নাম উল্লেখ করা হলেও তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন কি-না? জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নামাজের পর মসজিদের সিঁড়ির ওপরে অনেকে কথা বলছিল, সেখান থেকেই সংঘর্ষের শুরু। তবে সেখানে কোনো সিনিয়র নেতাকে দেখিনি। অনেকে ভেতরে ছিল, সিনিয়র নেতারা ভেতরে ছিল কি-না তা তদন্তে উঠে আসবে।’

(ঢাকাটাইমস/০৬এপ্রিল/এআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :