যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৭:০৮

মিনেসোটায় ব্রুকলিন সেন্টারে কৃষ্ণাঙ্গ নিহতের ঘটনায় তৃতীয় রাতের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল এই শহরে দান্তে রাইট নামে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করে।

গত বছরের মে মাসে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। তার মৃত্যুর জেরে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। মিনিয়াপোলিসের উপকণ্ঠেই ব্রুকলিন সেন্টার অবস্থিত। এখন ফ্লয়েড হত্যার বিচার চলছে। ফ্লয়েড হত্যার বিচার চলার মধ্যেই মিনিয়াপোলিসে পুলিশের হাতে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ প্রাণ হারালেন।

পুলিশ ব্রুকলিন সেন্টার শহরে গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক নিহত হওয়ার বিষয়টিকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। এই মৃত্যুর জেরে যুক্তরাষ্ট্রে আবার নাগরিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বুধবার শত শত বিক্ষোভকারী ব্যাপক নিরাপত্তাবিশিষ্ট মিনেসোটা পুলিশ সদর দপ্তরে জড়ো হন। পাশেই পুলিশ রায়ট গিয়ার নিয়ে ন্যাশনাল গার্ডের সৈন্যরা অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বেড়ার ওপর দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর লক্ষ্য করে বোতল ও প্রজেক্টাইল ছুড়ে মারে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের জমায়েতকে আইন বহির্ভূত হিসেবে বর্ণনা করে। রাত ১০টার আগে তারা বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে আহ্বান জানান। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরান এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

গত ১১ এপ্রিলস্থানীয় সময় বিকেলে ব্রুকলিন সেন্টার শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক দান্তে রাইট (২০)। ব্রুকলিন সেন্টার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন অমান্য করার পর দান্তে রাইটকে থামাতে গেলে বিপত্তি বাধে। তার সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়। একপর্যায়ে দান্তে রাইট ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে উদ্যত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা বৈদ্যুতিক শক ছুড়ে অজ্ঞান করার যন্ত্র বা ট্যাজার দিয়ে তাকে থামাতে উদ্যত হন।কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা তার কোমরে থাকা ট্যাজার ব্যবহারের পরিবর্তে ভুলক্রমে পিস্তল ব্যবহার করে ফেলেন। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন দান্তে রাইট।

পুলিশ দান্তে রাইটের মৃত্যুকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ বললেও এ নিয়ে ব্রুকলিন সেন্টারসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রুকলিন সেন্টার শহরে কারফিউ জারি করা হয়। তবে কারফিউ অমান্য করেই বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন।

(ঢাকাটাইমস/১৪এপ্রিল/কেআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :