রাজনীতিক ও আইনজীবী মতিন খসরুর বর্ণাঢ্য জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৪০ | প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৮:০৬

তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু। তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচবার।

১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন আবদুল মতিন খসরু। ১৯৮২ সাল থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস করেছেন। সবশেষ গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

এমন বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অধিকারী আবদুল মতিন খসরুর জীবন প্রদীপ নিভে গেল মহামারি করোনার ছোবলে। বুধবার বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি।

জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ সংসদ সচিবালয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন আবদুল মতিন খসরু। ১৬ মার্চ সকালে তার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ওইদিনই তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ভর্তি করা হয়। অবস্থা ভালো না হওয়ায় ২৮ মার্চ রাত ১২টার দিকে আবদুল মতিন খসরুকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

১ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে। এরপর ৩ এপ্রিল আইসিইউ থেকে তাকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এরপর অবস্থা খারাপ হলে সাবেক এই আইনমন্ত্রীকে মঙ্গলবার লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকাবস্থায় তিনি পাড়ি জমালেন পরপারে।

আবদুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. আবদুল মালেক এবং মাতা জাহানারা বেগম। তারা চার ভাই এক বোন৷ আবদুল মতিন খসরু ব্যক্তিজীবনে এক ছেলে এক মেয়ের জনক।

তিনি ১৯৯২ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বছর-দুয়েক আগে দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

আব্দুল মতিন খসরু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে আব্দুল মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালে সংবিধান ও মানবতাবিরোধী কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরবর্তীকালে সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গের আত্মস্বীকৃত খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তর ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

(ঢাকাটাইমস/১৪এপ্রিল/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :