চলন্ত সিঁড়িতে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য আবরার চৌধুরী ব্রিজে

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
| আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১৫:১৯ | প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১৫:০৬

একের পর এক পথচারি দাঁড়াচ্ছেন সিঁড়িতে। ধাপ ফেলতে হচ্ছে না। সিঁড়ি একই তুলে দিচ্ছে ফুটওভার ব্রিজের ওপরে। তবে নামতে হচ্ছে ধাপ ফেলেই। ছাউনি দেওয়া প্রশস্ত ব্রিজটি দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই পথ পার হচ্ছেন পথচারীরা। রাজধানীর প্রগতি সরণিতে নতুন এই ফুটওভার ব্রিজটি মনে করিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরীকে। তার নামেই নাম রাখা হয়েছে ব্রিজটির।

২০১৯ সালের ১৯ মার্চ প্রগতি সরণিতে যমুনা ফিউচার পার্কের বিপরীত পাশে বাসের চাপায় প্রাণ দিতে হয়েছিল তাকে। সেদিন সকালে বিশ^বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাস ধরতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। পথ পার হওয়ার সময় জ্রেবাক্রসিংয়ের মাঝামাঝি জায়গায় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দিলে পথেই ঝরে যায় তাজা প্রাণ।

সেদিন আবরারকে পথ পার হতে হচ্ছিল ব্যস্ত সড়কের মাঝ দিয়েই। কারণ তখন কোনো ফুটওভার ব্রিজ ছিল না পথটিতে। আবরারের মৃত্যুর পর প্রতিবাদে তার সহপাঠী শিক্ষার্থীরা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও একাত্ম হয়েছিল ঘাতক বাসের চালকের বিচারের দাবিতে। সেই সঙ্গে, আবরারের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নিরাপদ সড়ক চলাচলের একটি ফুটওভার ব্রিজের দাবিও তুলেছিল তারা। তাদের সেই দাবি মেনে নিয়েছিল নগর কর্তৃপক্ষ। দুবছরের ব্যবধানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আত্যাধুনিক এই ব্রিজটি নির্মাণে সক্ষম হয়েছে।

‘আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী ফুটওভারব্রিজ’ নাম ফলকের নিচেই ছোট করে লেখা ‘যাত্রী উঠা-নামায় বাস স্টপেজ (সামনে) ব্যবহার করুন’। শৃঙ্খলা আনতে নগর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনাটি চোখের পড়ার মতো।

প্রতি নিয়তই ব্রিজ দিয়ে পথ পার হচ্ছেন পথচারীরা। চলন্ত সিঁড়িতে ওপরে ওঠার সুযোগ থাকায় তাদের কষ্ট যেমন কমেছে বেড়েছে ব্রিজ ব্যবহারের আগ্রহও। মাথা বা হাতে বোঝা নিয়েও কয়েকজনকে উঠতে দেখা গেল ব্রিজে।

সুমন নামে এক হোটেল কর্মীর মাথায় দুটি বড় বড় সসপেন নিয়ে পথ পার হচ্ছিলেন। চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে আসার পর তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বলেন, ‘সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হলে অনেক কষ্ট হতো। রোজা রেখে দম বেড় হয়ে যেত। চলন্ত সিঁড়িতে কষ্ট কম হয়।’

এই পথে মায়ের হাত ধরে পার হচ্ছিল ঢাকার একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রাশেদ। মা বললেন, ‘বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই ব্রিজ ব্যবহার, ফুটপাত ব্যবহারের অভ্যাস করালে ভালো। পথের মাঝ দিয়ে যে পথ পার হওয়া ঠিক না, এটাও ওদের শিখানোর বিষয় রয়েছে।’

যার নামে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়েছিল, কে সেই আবরার জানতে চাইলে কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ বললেন, ‘আবরারকে কে না চেনে। ওই সময় আন্দোলনে সারা ঢাকা শহর স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরাও আমাদের কলেজ থেকে সেই আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিলাম।’

ব্রিজের পশ্চিম দুটি বড় নামফলক চোখে পড়বে যে কারো। সেখানে ‘আবরার আহাম্মেদ ফুটওভার ব্রিজ’ এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন হিসেবে নাম রয়েছে আবরারের বাবা ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরীর। ব্রিজটি উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

আবরারের মৃত্যুর দুদিন পর ২১ মার্চ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। পরে টানা দুই বছরের কাছাকাছি সময় কাজ চলতে থাকে। এ বছরের ১৯ মার্চ ব্রিজটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৮এপ্রিল/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :