প্রেমে সাড়া না দেয়ায় মেডিকেল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত, যুবক আটক

শেরপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৮

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শেরপুরে জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত পপি নামে এক নারী ইন্টার্ন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল আরাফাত নামে এক যুবক। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বুধবার সকালে ওই নারীর সহপাঠীকে বেদম মারধর করে অভিযুক্ত আরাফাত ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে এর প্রতিকার চেয়ে দুপুরে হাসপাতালের সামনের রাস্তা ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে শতাধিক বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। ফলে সড়কের দুপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উত্যক্তকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পপি বলেন, আরাফাত ফোন দিয়ে থ্রেড করতো। তার (আরাফাত) সঙ্গে কথা বলতে হবে, প্রেম করতে হবে। প্রতি উত্তরে আমি বলেছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে। সে বলতো বিয়ে হয়ে গেছে তো কি হয়েছে। জামাইতো আর তোর সঙ্গে থাকে না। আমার সঙ্গে এখন প্রেম কর।

পপি বলেন, আরফাত হুমকি দিয়ে বলতো আমার সঙ্গে সখ্যতা না রাখলে শেরপুর থাকতে পারবিনা। তোর বাড়ি কুষ্টিয়াতে চলে যা। এ পর্যায়ে তার বিষয়ে কর্ণপাত না করায় সে হাসপাতালে উপস্থিত হয়। আমি যখন ডিউটিতে থাকি তখন আমার গায়ে হাত দিতে চায়, মারতে চায়। আমার অন্য সহপাঠীরা সঙ্গে থাকার ফলে আমাকে মারতে পারে না। এ সময় আমাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে। আর রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমার সঙ্গে সঙ্গে থাকে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ও দেখি সে সড়কে দাঁড়িয়ে আছে। এসব কারণে আমি একেবারেই নিরাপদ না।

আহত শিক্ষার্থী নাজমুল ইবনে হাফিজ বলেন, পপিক ডিস্টার্ব করতো আরাফাত । এক সময় সে আমার কাছে পপির মোবাইল নাম্বার চায়। আর তা না দিলে পপিকে হাসপাতালে দেখা যাবে না বলে হুমকি দেয়। এই কারণে আমি তাকে মোবাইল নাম্বার দেই। এরপর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে আরাফাত। পপিকে উত্যক্ত করার পরিমাণ বেড়ে যেতে থাকে। পরে বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যারকে জানালে তিনি পুলিশকে জানান।

এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হাসপাতালেও আসেন। কিন্তু ওই দিন আরাফাতরা ছিল না। পুলিশ আসার খবর আরাফাত জানার পর সে হুমকি দিয়ে বলে, পুলিশ কী করবে, ওরা তোদের কত দিন দেখে রাখবে। যদি আমাদেরকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তো দুদিন পর বের হয়ে এসে তোকে খুন করে ফেলবো। তার এই বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করে রাখার কারণে আজ আমাকে ওরা মারধর করে।

হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবীর সুমন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আরাফাতকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :