‘লকডাউন ব্যর্থ, মকআপ পদ্ধতি চালু করা উচিত’

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:৫০ | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৪৬

করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশে সারাদেশে দুই সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন দেশের অন্যতম শীর্ষ ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, লকডাউনের ঘোষণার পর তা যথাযথভাবে পালন হয়নি। উল্টো নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কম কষ্ট দিয়ে ‘মকআপ’ পদ্ধতি চালু করা উচিত বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। তার মতে, নির্দিষ্ট এলাকার সবাইকে পরীক্ষার আওতায় এনে সহজে আক্রান্ত চিহ্নিত করা যাবে। আক্রান্তদের আইসোলেশন আর পরিবার ও পাশের লোকদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা গেলে সুবিধা হবে। পাশাপাশি শতভাগ মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে পারলে করোনার সংক্রমণের হাত থেকে কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

শনিবার রাতে মুঠাফোন সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য ও করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ডা. নজরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার বোরহান উদ্দিন

ঢাকাটাইমস: লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খুলছে। ২৯ এপ্রিল থেকে গণপরিবহন চালুর কথা বলা হচ্ছে। সার্বিকভাবে মূল্যায়ন কী করবেন?

নজরুল ইসলাম: লকডাউন আমরা বলতে চাই না। আমাদের দেশে লকডাউন সম্ভবও না। সবাইকে তাহলে বাসায় থাকতে হবে। কিন্তু সেটা সম্ভব না। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষকে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। সেটাও সম্ভব না। তাহলে দেশের বড় একটি অংশের মানুষকে খাবাবের ব্যবস্থা না করে আপনি এটা বাস্তবায়ন করবেন, সেটা কখনোই সম্ভব না। এটা তো ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন কতটা হয়েছে? সে জন্য আমাদের উচিত অন্য পদ্ধতিতে যাওয়া।

ঢাকাটাইমস: নতুন পদ্ধতি তাহলে কী?

নজরুল ইসলাম: অন্য পদ্ধতি হলো ‘মকআপ’। সেটা হলো আপনি স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মানবেন। তাহলে কিন্তু আপনার খাবার-দাবারে সমস্যা হচ্ছে না। মাস্ক যদি শতভাগ পরেন তাহলেও কিন্তু খাবারে সমস্যা হবে না। একটু যদি ফাঁকা ফাঁকা হয়ে চলেন তাহলে কি খাবার জোগাড়ে কোনো সমস্যা হবে? কিন্তু সমস্যা হলো আমরা এটা মানছি না। আমরা আসলে কোনোকিছুই মানছি না। মকআপে আপনাকে পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

লোকজনকে বুঝতে হবে, একজন করোনা আক্রান্ত রোগী যদি মাস্ক পরেন আর সামনে আরেকজন নেগেটিভ মানুষও মাস্ক পরে থাকেন তাহলে সমস্যা কোথায়? ভাইরাসকে কিন্তু তখন দুটি মাস্ক ভেদ করে ঢুকতে হবে। বিষয়টা বুঝতে হবে। তাই শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে হবে।

আমরা বলছি একটা এড়িয়া ভাগ করে দেবো। মনে করেন, একটা ওয়ার্ডের প্রত্যেক বাসায় যাকে সন্দেহ হবে তাকে করোনা পরীক্ষা করা হবে। তিনি পজিটিভ এলে ওই ব্যক্তিকে আইসোলেট করতে হবে। আর ওই বাসাটা কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।

আর কোয়ারেন্টাইনের সময় আমরা সবাই মিলে ওই বাসার লোকদের বাজারঘাট করে দেবো। তাতে কী হবে, বেশি মানুষের সহযোগিতায় কাজটা হবে। দ্রুত বাছাই করা যাবে। আর সবাই মিলে যখন পাশে থাকবে তখন কিন্তু বিষয়টি মানবিক হবে।

ঢাকাটাইমস: ‘মকআপ’ নিয়ে তো আগেও কথা বলেছেন। কিন্তু সেদিকে তো সরকার যায়নি...

নজরুল ইসলাম: এটা নিয়ে তো দেখি আর কেউ কথা বলে না। সরকার তো ব্যর্থ হয়েছে। লকডাউন কি করতে পেরেছে? দোকান পাট খুলে দিয়েছে। গণপরিবহনও খুলে দেবে। তাহলে কী হলো শেষমেশ।

ঢাকাটাইমস: এখন তাহলে কী হবে?

নজরুল ইসলাম: সংক্রমণ বেড়ে যাবে। আগে রোগী কম ছিল এখন বাড়ছে। সামনে আরও বাড়বে। ফলে হাসপাতালে এত মানুষের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব কতটুকু হবে বলা মুশকিল। এতে করে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। আর জেলা পর্যায়ে আইসিইউ নেই, অক্সিজেনের সমস্যা আছে। একজন মানুষকে অক্সিজেনের জন্য ঢাকায় আসতে হলে কীভাবে চিকিৎসা পাবে।

সারাদেশে হাসপাতালে অক্সিজেন, আইসিইউ ব্যবস্থা চালু করাসহ যেসব প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল সেখানে ৭৯টি প্রজেক্টের মধ্যে ২৯টি প্রজেক্ট সফলভাবে হয়েছে। এই যে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য, এটা কেমন হলো। লকডাউন দিচ্ছে জনপ্রশাসনের লোকজন। তারা তো নন মেডিকেল লোক ।

ঢাকাটাইমস: তাহলে এটাকে কোন ধরনের লকডাউন বা বিধিনিষেধ বললেন?

নজরুল ইসলাম: আমি জগাখিচুড়ি বলতে চাই না, তবে এই যে জটটা তৈরি হয়েছে এটা ভাঙতে হবে। যেমন দোকানদের সব বন্ধ করে দিলেন আর আমরা বাসায় বসে পোলাও-গোশত খাবো, এটা হয়? রিকশাওয়ালা যাত্রী পাচ্ছে না আর আমরা আরাম করে থাকবো, এটা কীভাবে হয়। এটা তো মানবিক হলো না। এখানে করতে হবে, অবশ্যই দোকানে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব বিষয় কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

ঢাকাটাইমস: ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধের কথা বলছেন কেউ কেউ। আপনার পরামর্শ কী?

নজরুল ইসলাম: সীমান্ত বন্ধ করার কথা হলো আরেকটা লকডাউনের মতো। যেটা করতে পারবেন না সেটা বলে লাভ কী? এজন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি কোয়ারেন্টাইনের। যারা আসবে তাদের অবশ্যই ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে আমরা পরীক্ষা করে দেখবো। যদি ওই ব্যক্তি নেগেটিভ হয় তাহলে তাকে ছেড়ে দেব। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন তাকে করতেই হবে।

এখন সীমান্তের কথা যারা বলছেন সেই ক্ষমতা কি আছে? এগুলো মোদির মতো কথাবার্তা। সুতরাং কাজের কাজ করতে হবে। ‍শুধু শুধু গল্প করলে কোনো লাভ হবে না।

ঢাকাটাইমস: আপনাকে ধন্যবাদ

নজরুল ইসলাম: ঢাকাটাইমসকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :