করোনাকালীন সহায়তা পাচ্ছেন আরও দুই হাজার সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১৯:১২

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে আরও দুই হাজার সাংবাদিককে সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপাতত দুই হাজার সাংবাদিককে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জরুরি সভাশেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে সাংবাদিকদের ভূমিকা এবং অসচ্ছলতা, নানা কারণে চাকরিচ্যুত বা চাকরি থাকা সত্ত্বেও বেতন না পাওয়া সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনা মহামারির প্রথম দফায় সারাদেশে দলমত নির্বিশেষে তিন হাজার ৩৫০ জন সাংবাদিককে সহায়তা দেয়া হয়েছে। যে সমস্ত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের ওপর বিষোদগার করেন, তাদের মধ্যে অসচ্ছলরাও যেন এই সহায়তা থেকে বাদ না যায়, আমার সেই অনুরোধ সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা রেখেছিলেন, এজন্য তাদের ধন্যবাদ।’

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী করোনাকালে সাংবাদিকদের যে এককালীন সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এ ধরনের কোনো সহায়তা ভারত-পাকিস্তান-নেপাল-ভুটান-শ্রীলংকা কোথাও দেয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে ড. হাসান জানান, করোনায় কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে শুধু সেই ক্ষেত্রে ভারতে সহায়তা দেয়া হচ্ছে, কিন্তু করোনাকালে অসচ্ছল বা চাকরিচ্যুত হয়েছে এমন কাউকে সেখানে সহায়তা দেয়া হচ্ছে না।

করোনাকালে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘এসময় এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও আমার কাছে অগ্রহণযোগ্য। আমি জানি, সংবাদমাধ্যমগুলো করোনাকালে অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতোই নানা সমস্যার সম্মুখীন। কিন্তু বিষয়টাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ আমি শুরু থেকেই করেছিলাম। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেটি অনুসরণ করা হয়নি। সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্প্রতি যেখানে চাকরিচ্যুতি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে এবং সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো চেষ্টা করছে। আশা করবো, যাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করার দিকেই কর্তৃপক্ষ যাবে, এই আমার প্রত্যাশা।’

ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধের জন্য বিএনপি মহাসচিবের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে কার্যত সীমান্ত সেভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় যেভাবে চালু থাকে সেভাবে চালু নেই। বাংলাদেশের কোনো মানুষ সেখানে যেতে পারছে না। সেখান থেকে বাংলাদেশেও কেউ আসতে পারছে না। কিন্তু পণ্য পরিবহন চালু আছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিতে বলেছেন, যাতে বাংলাদেশে পণ্যের সংকট হয়। উনি তো বুদ্ধিমান মানুষ, খুব বুদ্ধি করেই বলেছেন, যাতে দেশে একটি সংকট তৈরি হয়। কার্যত সীমান্ত চালু নাই, শুধু পণ্য পরিবহন চালু আছে।’

লকডাউন শিথিল করা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘সরকার লকডাউন দেয়ার পর লকডাউন না দেয়ার জন্য, দোকান খোলার জন্য বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। মানুষের জীবন এবং জীবিকা উভয়ই রক্ষায় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এবং এ দু’য়ের সমন্বয় করে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করার কারণে বাংলাদেশ প্রথম দফা করোনা মহামারির ঢেউ যেমন সফলভাবে মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে একইসঙ্গে অর্থনীতিকে রক্ষা করতেও সক্ষম হয়েছে। মাত্র ২০টি দেশে পজেটিভ জিডিপি গ্রোথ হয়েছে যার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তিন নম্বরে।’

(ঢাকাটাইমস/২৫এপ্রিল/এআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :