অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করেছিলেন মুনিয়া? এসব নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করেছিলেন তার বড় বোন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ মে ২০২১, ১৩:০৬ | প্রকাশিত : ০১ মে ২০২১, ১২:১২

তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্রী। পড়তেন কুমিল্লাতেই একটি স্কুলে। ওই সময়েই অসম প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে যান। দুই সন্তানের বাবা এক ব্যক্তির সঙ্গে পালিয়ে যান। বিয়ে করেন। শুরু করেন সংসার। মোসারাত জাহান মুনিয়াকে নিয়ে এসব তথ্যই গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে ছড়িয়েছে বেশ কিছু ছবিও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনায় নিলয় নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন মুনিয়ার বড়বোন নুসরাত।

এসব তথ্য দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, আসলেই কি অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করেছিলেন মুনিয়া? আর তার বড় বোনকে যেতে হয়েছিল মামলা-মোকদ্দমায়? জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল মুনিয়ার বড়বোনের মুঠোফোন নম্বরে। কিন্তু তিনি ফোনটি ধরেননি বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

গত ২৬ এপ্রিল ‍গুলশান-২ নম্বরের ১২০ সড়কের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মুনিয়ার বড়বোন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরের মনোহরপুর গ্রামের উজির পুকুরের দক্ষিণপাড়ে।

মুনিয়াকে নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হওয়া তথ্য এবং ছবি থেকে জানা যায়, ‍মুনিয়া নবমশ্রেণিতে থাকতেই পাশের গ্রামের নিলয় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। ওই ব্যক্তি দুই সন্তানের বাবা ছিলেন। পরে নিলয়ের হাত ধরে মুনিয়া পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় মুনিয়ার বোন নারী নির্যাতন আইনে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

মামলায় তিনি বলেন, তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক বোনকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তার সম্ভ্রম লুটসহ জানমালের ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা করছেন। নিলয়কে গ্রেপ্তার মুনিয়াকে উদ্ধার জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে তিনি আবেদন করেন। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পরে কুমিল্লার পুলিশ ফেনীতে নিলয়ের এক আত্মীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মুনিয়াকে উদ্ধার করে। কিন্তু ততদিনে মুনিয়া নিলয় রীতিমত বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য বৈঠকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে নিলয় মুনিয়ার বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটানো হয় এবং যে যার পরিবারে ফিরে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিলয়ের সঙ্গে পালানোর পর বেশ কিছুদিন তারা ঢাকার মালিবাগে নিলয়ের এক বন্ধু হিরুর আশ্রয়ে ছিলেন তারা। তখন হিরুর মাধ্যমে এফডিসিতে আসা-যাওয়া শুরু হয় মুনিয়ার। এভাবেই অভিনয় জগতের মানুষের সঙ্গে চেনা-পরিচয় ঘটে মুনিয়ার। তবে বোনের করা মামলায় তখন পুলিশ তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছিল। বাধ্য হয়ে তারা আশ্রয় নেন ফেনীতে নিলয়ের আত্মীয়র বাসায়। সেখান থেকেই পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

এদিকে মুনিয়ার উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনের ৪৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। সেখানে দেখা গেছে, একটি রুমের মধ্যে উচ্চস্বরে হিন্দি গান বাজছে। সেখানে বিভিন্ন রঙের আলো জ্বলছে। লাল রঙের একটি ওয়েস্টার্ন পোশাক ও পায়ে উঁচু হিল পরে গানের তালে তালে নানা অঙ্গ-ভঙ্গিতে নাচছেন মুনিয়া। এই দৃশ্য কেউ একজন ভিডিও ধারণ করেছেন। তবে ভিডিওটি কবে, কোথায় করা তা যাচাই করা তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।

হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরীর (শারুন চৌধুরী) সঙ্গেও মুনিরার যোগাযোগ ছিল বলে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কিছু স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে, শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। তবে ঢাকাটাইমসের কাছে এসব বিষয় অস্বীকার করেছেন হুইপপুত্র।

গুলশান থানায় মুনিয়ার বোনের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২১ বছরের তরুণী মোসারাত জাহান পড়াশোনা করতেন মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রশ্ন উঠেছে, একজন কলেজ শিক্ষার্থী কী করে লাখ টাকা ভাড়ায় একা গুলশানের মতো অভিজাতপাড়ায় থাকতেন? পড়াশোনার বাইরে মুনিয়ার কোনো পেশা ছিল না। তাহলে বাসা ভাড়া, জীবনযাপনসহ পড়াশোনার খরচ কোথায় থেকে আসত? সেই সুবাদে সামনে আসছে মুনিয়ার পরিবারের বিষয়টি। এই ব্যয় বহনে মুনিয়ার পরিবার কতটা সচ্ছল? এই প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে অমীমাংসিতই। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা এসব প্রশ্নের উত্তরও খোঁজার চেষ্টা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/১মে/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :