বিশ্ববাজারে দেশীয় চায়ের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে

শেখ সাইফ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩০ মে ২০২১, ২০:০৪

ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন মেহেদী হাসান। এরপর প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে এবং পরবর্তী সময়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার ও সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাশেম ফুডস লিমিটেডের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশে সফলভাবে রপ্তানির কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে মেহেদী হাসান ওরিয়ন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেডের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের হেড অব এক্সপোর্ট হিসেবে কর্মরত। দেশের চা রপ্তানি, উৎপাদন ও বাজার অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকাটাইমসের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ সাইফ

করোনাকালে চায়ের চাহিদা কতটা বেড়েছে?

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্ববাজারে চায়ের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিশ্বে চা পানের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং মানুষ আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন। তাই দেশের বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা করোনা প্রতিরোধে চা পানের উপকারিতা অনেক কার্যকর বলে মনে করছেন। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ চা রপ্তানিতে প্রায় ১০০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

রপ্তানি বাজারের অবস্থা কি?

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্ববাজারে চা রপ্তানিতে বাংলাদেশের একটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এটি মূলত বিশ্ববাজারে চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য হচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় রপ্তানিকারক যেমন দেশ যেমন- চীন, ভারত, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, কেনিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে না নিয়ে অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে চা আমদানির জন্য বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চা উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের উন্নতমানের চা বাজার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেড ওরিয়ন গ্রুপ একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওরিয়ন নিজস্ব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চা বিশ্বর অনেক দেশে রপ্তানি করেছে।

কোন কোন দেশে চা রপ্তানি হচ্ছে?

২০২০ সালে ২০টি দেশে ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেড নিজস্ব ব্র্যান্ডর প্যাকেটজাত চা রপ্তানি করেছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশ নতুন ছয়টি দেশে চা রপ্তানি করেছে। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, গ্রিস, সাইপ্রাস, কানাডা, মালেশিয়া, মরিশাস, ব্রুনাই, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, কাতার, বাহারাইন, জাপান প্রভৃতি দেশসহ আরও অনেক নতুন দেশে চা রপ্তানির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

কতগুলো ফ্লেভারের চা আছে? আপনাদের চায়ের বিশেষত্ব কী?

ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেড বর্তমান দেশীয় বাজারে 'জাফলং' ব্র্যান্ডের গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি অনেক ধরনের প্যাকেজিং নিয়ে দেশীয় বাজারে ভোক্তাদের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে একটি বাংলাদেশি পণ্য হিসেবে ওরিয়ন নিজস্ব নামে ওরিয়ন ব্র্যান্ডের গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি, টি ব্যাগ ও লুজ আকারে অনেক ধরনের প্যাকেজিং নিয়ে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে যাচ্ছে। ওরিয়ন ব্র্যান্ডের চায়ের বিশেষত্ব হলো সেরা বাগানের সেরা চা এবং বিশেষ ব্লেন্ড।

গ্রিন টি আছে কি? এর বাজার কী হারে বাড়ছে? আপনাদের আন্তর্জাতিক কোনো চায়ের মান সনদ আছে?

ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেডের নিজস্ব 'ওরিয়ন' ও 'জাফলং' ব্র্যান্ডের গ্রিন টি রয়েছে। এই চা খুবই স্বাস্থ্যকর এবং উন্নতমানের পানীয় এবং একটি অভিজাত পণ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে। রপ্তানি বাজারে গ্রিন টি এর চাহিদা ব্যাপক। এস জি এস (SGS) এর মতো একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ওরিয়নের চায়ের গুণগতমান তাদের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে সব গুণগতমান বিদ্যমান থাকার সনদ প্রদান করেছে।

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই ওরিয়ন টি কোম্পানি লিমিটেড কাজ করে যাচ্ছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আরও অনেক নতুন নতুন স্বাদের বেশ কিছু উন্নতমানের চা বাজারে নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে। এছাড়াও আরও অনেক নতুন নতুন দেশে চা রপ্তানির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এতে করে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ

ঢাকাটাইমস ও আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ

(ঢাকাটাইমস/৩০মে/এসকেএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :