সেই মিনু কারামুক্ত হচ্ছেন কবে?

আমিনুল ইসলাম মল্লিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০২১, ১৮:৪৬
ফাইল ছবি

জামিন আদেশের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কারামুক্ত হননি চট্টগ্রামের সেই মিনু। একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীর পরিবর্তে সাজা ভোগকারী মিনু বেগম কারামুক্ত হবেন কবে তা পরিষ্কার করে বলতে পারছেন না কেউই। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর মিনুর জামিন আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কারাগারে যেতে এখনো বাকি রয়েছে কয়েকটি ধাপ। ততক্ষণ পর্যন্ত কারামুক্ত হতে অপেক্ষায় থাকতে হবে মিনুকে।

মিনুর কারামুক্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তার আইনজীবী শিশির মোহাম্মাদ মনির ঢাকাটাইমসকে বলেন, মিনুকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের কপি এখনও বের হয়নি। আদেশের কপিতে বিচাপতিদেরও স্বাক্ষর হয়নি। স্বাক্ষর হলে আদেশের কপি চট্টগ্রামের আদালত পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্র্তপক্ষ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসামিকে মুক্তি দেবে।

মিনুর আরেক আইনজীবী মুরাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, মিনুর আদেশের কপির জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। হাইকোর্টের আদেশের কপিটি পেলে মিনু কারাগার থেকে বের হতে পারবেন।

হাইকোর্ট জামিন আদেশ দেওয়ার পর সেটি বেঞ্চ অফিসার (বিও) কম্পিউটারে কম্পোজ করেন। এরপর সেটি স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয় বিচারপতিদের খাসকামরায়। সিরিয়াল অনুযায়ী বিচারপতিরা তাদের দেওয়া আদেশের কপিতে সই করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কোর্টে ফেরত পাঠানো হয় এটি। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের অফিস সহকারী এটি তালিকা করেন। তখন কপিটি চলে যায় সেকশনে। সেকশনে যাওয়ার পর মামলার নথির সঙ্গে নাম-ঠিকানাসহ সব কিছু খুব ভালোভাবে যাচাই করা হয়। এরপর আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডেসপাস (চিঠিপত্র আদান প্রদান শাখা) হয়ে আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট বিচারিক কোর্টে যায়। বিচারিক আদালতের জজ আদেশের কপিটি দেখে স্বাক্ষর করে কারাগারে পাঠান। সুনির্দিষ্ট বাহকের মাধ্যমে পাঠানো আদেশের কপিটি দেখে নাম-ঠিকানা ঠিক থাকলে আসামিকে কারামুক্তি দেওয়া হয়।

গত ৭ জুন মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এ ঘটনায় সশরীরে আদালতে হাজির হতে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু আদালত-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর এমএ নাসের, আইনজীবী বিবেকানন্দ ও নুরুল আনোয়ারকে লিখিত ব্যাখা দিতে দিতে বলে আদালত। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের এই বিষয়ে ব্যাখা দিতে বলা হয়।

আদালতে মিনুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মাদ শিশির মনির। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।

হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবনসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড হয় কুলসুম আক্তারের। কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণ করে তার পরিবর্তে জেল খাটছেন মিনু নামে এক নারী। নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তারের বদলে মিনু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন দুই বছর নয় মাসের বেশি সময় ধরে।

কোনো কিছুর মিল না থাকায় একজনের স্থলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

গত ২৪ মার্চ এই হত্যা মামলার নথি বিশেষ বাহকের (স্পেশাল ম্যাসেঞ্জার) মাধ্যমে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এই মামলায় মিনুর পক্ষের আইনজীবী জানান, কারাগারের একটি বালাম বই দেখতে গিয়ে মিনুর সাজা খাটার বিষয়টি উঠে আসে।

পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে এ মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত। দ্রুত সমাধানের জন্য আদেশের একদিন পর মামলার উপনথি হাইকোর্টে পাঠানো হয় বিশেষ বাহকের (স্পেশাল ম্যাসেঞ্জার) মাধ্যমে।

মহনগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) মো. নোমান চৌধুরী বলেন, আদালতে সংরক্ষিত ছবি সম্বলিত নথিপত্র দেখে কুলসুম আক্তার কুলসুমী আর মিনু এক নয় বলে নিশ্চিত হয়েছেন। যেহেতু ইতিমধ্যে এ মামলার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে তাই মামলার উপনথি দ্রুত সময়ের হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এআইএম/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :