চয়নিকার সঙ্গে পরীমনির কী সম্পর্ক?

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২১, ১২:২৩

গত ৯ জুন গভীর রাতে সাভারের বোট ক্লাবে গিয়ে যৌন হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন চিত্রনায়িকা পরীমনি। চার দিন এখানে-সেখানে ধর্না দেয়ার পর গত ১৩ জুন বনানীতে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন নায়িকা। প্রকাশ করেন সব ঘটনা। জানান, নাসির উদ্দিন মাহমুদ নামে এক ব্যবসায়ী তাকে যৌন হেনস্তা ও হত্যাচেষ্টা করেছেন। কেঁদে কেঁদে জড়িতদের বিচার দাবিও করেন।

১৩ জুন, রবিবার পরীমনি যখন তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করছিলেন, তখন ঘড়িতে রাত ১১টা। অতো রাতে নায়িকার পাশে সারাক্ষণই দেখা যায় জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক চয়নিকা চৌধুরীকে। সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা সময় তিনি পরীমনিকে বাম হাত দিয়ে জাপটে ধরে বসে ছিলেন এবং বিমর্ষ পরীমনিকে বার বার গায়ে হাত বুলিয়ে সাহস ও সান্তনা দিচ্ছিলেন। এছাড়া তিনি পরীমনিকে যৌন নির্যাতন ও মারধরের বিচারও দাবি করেন।

পরদিন সকালে সাভার মডেল থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়ী নাসির ও অমিসহ আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মোট ছয়জনের নামে মামলা করেন পরীমনি। সেখানেও নায়িকার সঙ্গে ছিলেন চয়নিকা চৌধুরী। ওইদিন অর্থাৎ, ১৪ জুন দুপুরে নাসির-অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরদিন ৯ জুনের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানেও পরীমনির ছায়াসঙ্গী চয়নিকা।

নির্মাতা-অভিনেত্রীর এত মধুর বন্ধন দেখে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, চয়নিকা চৌধুরীর সঙ্গে পরীমনির সম্পর্কটা আসলে কী? এ সম্পর্কে জানতে পরীমনির ব্যক্তিগত সেলফোন নম্বরে একাধিক বার ডায়াল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর চয়নিকা চৌধুরীকে কল দিলে তিনিও সাড়া দেননি। শেষ চেষ্টা হিসেবে তাকে হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস দেয়া হয়। সেটির উত্তর দেন শনিবার রাত সাড়ে ১০টায়।

ঢাকাটাইমসকে চয়নিকা চৌধুরী জানান, ‘পরী আমাকে মম ডাকে। ও খুব ছোটবেলায় মা হারিয়েছে। কখনো মায়ের স্নেহ পায়নি। আমার মধ্যে পরী ওর মাকে খুঁজে পায়। আমিও ওকে সন্তানের মতো স্নেহ করি, ভালোবাসি। তাই সকল বিপদে আপদে ওর পাশে থাকা, ওকে সাহস দেয়া আমার কর্তব্য। তাছাড়া পরী আমার প্রথম সিনেমার নায়িকা। ওকে আর সিয়ামকে না পেলে আমি ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমাটাই বানাতাম না।’

অন্যদিকে, ‘বিশ্বসুন্দরী’ মুক্তির আগে এবং পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে পরীমনিও জানিয়েছেন, চয়নিকা চৌধুরীকে তিনি ‘মম’ বলে ডাকেন। দুজনে যতবার একসঙ্গে সাক্ষাৎকারে গিয়েছেন, সবখানেই চয়নিকাকে ‘মম’ বলে সম্মোধন করেছেন পরীমনি। কেন ডাকেন তার কারণও জানিয়েছেন। নায়িকার কথায়, ‘আমি তিন বছর বয়সে মা হারিয়েছি। মায়ের চেহারা আমার মনে নেই। চয়নিকা চৌধুরী আমাকে মায়ের মতোই গাইড করেন, ভালোবাসেন। এ জন্য তাকে মম ডাকি। উনার সন্তানরাও আমাকে বোনের মতো দেখে।’

প্রসঙ্গত, নাট্য নির্মাতা হিসেবে পরিচিত চয়নিকা চৌধুরীর অভিষেক সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’। সেখানে একটি প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি। এই সিনেমার শুটিং সেট থেকেই নির্মাতা ও নায়িকার ঘনিষ্ঠতা। খুব শিগগির চয়নিকা তার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়েব সিরিজও নির্মাণ করতে চলেছেন। নাম ‘অন্তরালে’। সেখানেও একটি প্রধান চরিত্রে (অর্পিতা) তিনি পরীমনিকে রেখেছেন। এর মাধ্যমে ‘মা-মেয়ের’ বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে- এমনই প্রত্যাশা পরী-ভক্তদের।

ঢাকাটাইমস/২০জুন/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত