‘সরকারের সহায়তায় করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা’

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২১, ১৭:৩১
ফাইল ছবি

এসএমই খাতের উন্নয়নে সরকারের নজর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এরই ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পক্ষে কোভিড-১৯ এর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজতর হচ্ছে বলে মনে করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান।

রবিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারপারসন জানান, করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ প্রণোদনার প্যাকেজের আওতায় চলতি জুন মাসের মধ্যে অর্থাৎ দুই মাসেরও কম সময়ে ১০০ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করতে সক্ষম হবে এসএমই ফাউন্ডেশন।

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী কর্তৃক প্রস্তাবিত বাজেট ১৪টি এসএমইবান্ধব প্রস্তাবনা গ্রহণ করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। তবে বাজেট পাসের আগে বিবেচনার জন্য এসএমইবান্ধব আরো কয়েকটি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিকট পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মফিজুর রহমান জানান, এসএমই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে প্রতি অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক জাতীয় বাজেটে ট্যাক্স, ভ্যাট, ট্যারিফ ও আর্থিক প্রণোদনা ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা বরাবর উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা বরাবর উপস্থাপিত মোট ৩৯৬টি প্রস্তাবনার মধ্যে ৭১টি সরকার/এনবিআর কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসএমই নীতিমালা-২০১৯ এর কৌশলগত লক্ষ্য ৪.১.৩.২ এ কর কাঠামো সহজীকরণ ও যৌক্তিকীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রতি অর্থবছরের মতো আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এসএমইবান্ধব প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে প্রস্তাবনা প্রেরণের অনুরোধ জানিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এসএমই অ্যাসোসিয়েশন, ট্রেডবডিজ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫টি অ্যাসোসিয়েশন/ট্রেডবডিজ থেকে এসএমই খাত সংশ্লিষ্ট ১০০ এর অধিক প্রস্তাবনা পাওয়া যায়।

পরবর্তী সময়ে এসএমই অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেডবডিজের প্রতিনিধিদের সাথে দুটি যৌক্তিকীকরণ সভার মাধ্যমে ৬৮টি প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রেরণ করা হয়। গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনা শেষে দেখা যায়, এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রস্তাবনাসমূহের মধ্যে নিম্নবর্ণিত ১৪টি সরকার/এনবিআর কর্তৃক আংশিক/সম্পূর্ণরূপে গৃহীত হয়েছে:

স্বল্পমূল্যে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য কৃষি খাতের আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কৃষি উপকরণ: উইনার (নিড়ানী) ও উইনোয়ার (ঝাড়াইকল) এর উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান। থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন হারভেস্টার, রোটারি টিলার, উইনার (নিড়ানী) ও উইনোয়ার (ঝাড়াইকল) ইত্যাদির উপর আমদানি পর্যায়ে আগাম কর অব্যাহতি। নন-লিস্টেড কোম্পানিসমূহের ক্ষেত্রে করপোরেট কর হার ৩২.৫% থেকে হ্রাস করে ৩০% করা। দেশে উৎপাদিত সকল প্রকার ফল ও শাক-সবজি প্রসেসিং শিল্প ও কৃষিযন্ত্র উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য দশ বছরের করমুক্ত সুবিধা। বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের শিল্পের কাঁচামাল/উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর ৪ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৩ শতাংশ করা। হালকা প্রকৌশল শিল্পের পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে শর্তসাপেক্ষে দশ বছর মেয়াদী কর অব্যাহতি। হালকা প্রকৌশল শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের বিধান সহজীকরণ। স্পিনিং মিলে ব্যবহৃত পেপার কোনের উপর বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা। কৃষি আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কৃষি উপকরণ আমদনিতে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদন সুসংহত করতে সুরক্ষা প্রদান করা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিরক্ষণে এসএমই কর্তৃক তৈরিকৃত কিছু পণ্য আমদানিতে প্রযোজ্য শুল্ক কর বৃদ্ধি। মুড়ির স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান। এসএমই খাত এবং নারীর উন্নয়নে এসএমই খাতের নারী-উদ্যোক্তাগণের জন্য বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ব্যবসায়ের মোট টার্নওভারের ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখা।

উল্লেখ্য, এর ফলে নারী-উদ্যোক্তাগণ ও এসএমই খাত উভয়ই উপকৃত হবে। কাগজ শিল্পের কাঁচামাল (coated paper) আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান। মোটরসাইকেল শিল্পের কিছু যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মো মফিজুর রহমান আরও বলেন, এমএসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিম্নবর্ণিত আরও কিছু বিষয় সরকার বিবেচনা করতে পারে:

বর্তমানে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা হতে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর নির্ধারণ করা আছে। এসএমই খাতের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য টার্নওভার কর হার কমানো প্রয়োজন। বর্তমোনে এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের কর অবকাশ সুবিধা নেই। এসএমই খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। বর্তমানে এসএমইসহ সকল রপ্তানিকারক শিল্পের জন্য করপোরেট ট্যাক্স ৩৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য। যদিও তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নিম্নতর হার নির্ধারণ করা আছে। এসএমই রপ্তানিকারকদের জন্য করপোরেট ট্যাক্স আরো কিছটা হ্রাস করা যেতে পারে। এমএসএমই রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য রপ্তানির বিপরীতে ন্যূনতম ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য বা সেবা এমএসএমইদেও থেকে ক্রয় নিশ্চিতকরণ এবং এমএসএমইদের থেকে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/এসআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :