অপকর্ম দিয়ে অমির বাবা তোফারও উত্থান

আল-আমিন রাজু, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ২১:১১ | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২১, ২০:৩১

ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তুহিন সিদ্দিকী অমির নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসছে। বাবা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোফা আদমের হাত ধরেই অমির উত্থান।

একসময়ে শ্রমিক হিসেবে সিঙ্গাপুরে প্রবাসজীবন কাটিয়ে আসা তোফা ওই দেশেই করে আসেন অপকর্ম। অমির গ্রেপ্তারের পর ঢাকা টাইমসের অনুসন্ধানে তার বাবার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন সিঙ্গাপুরে এক বাংলাদেশি স্বর্ণ ব্যবসায়ির প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায়। সিঙ্গাপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি ও তার স্ত্রী মারা যান।

পরে তাদের লাশ ঢাকায় নিজের বাড়িতে আনেন তোফাজ্জল। তিন ঘণ্টা লাশ দুটি নিজের বাসায় রাখার পর পাঠান যাত্রাবাড়িতে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে। ওই ঘটনার পর তোফাজ্জল আর সিঙ্গাপুরে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ঘটনার পরই কপাল খুলে যায় তোফাজ্জলের। এক সময়ের অল্প আয়ের তোফাজ্জল টিনশেডের ভাড়া বাসায় থাকলেও পরে দক্ষিণখান আশকোনা এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেন। ডুপ্লেক্স ধাঁচের পাঁচতলা ওই বাড়িতেই তারা বাস করেন।

নিজে সিঙ্গাপুর যেতে না পারলেও দেশে গড়ে তোলেন রিক্রুটিং এজেন্সি। নাম দেন সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার। আর এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই শত শত শ্রমিক বিভিন্ন দেশে পাঠান। অমি ও তার বাবার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাওয়া অনেক শ্রমিক কাজ না পেয়ে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসেন। পরে তাদের কোনো টাকাও ফেরত দেয়নি তোফাজ্জল।

জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন প্রতারিত ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইতে আসেন। অনেকেই থানায় অভিযোগও দিতেন। তবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে চোখের জল আর হুমকি সঙ্গী করে ফিরে যান এই সকল ভাগ্যহত শ্রমিকরা। অমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর দক্ষিণখান থানায় তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার এক শ্রমিক মামলা করেছেন।

রবিবার সকালে আশকোনায় অমিদের বাড়ীতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইমতিয়াজ ঢাকা টাইমসকে বলেন, অমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর সবাই চলে গেছে। এখন বাসায় কেউ থাকে না। তবে কোথায় গেছে জানি না।

ইমতিয়াজ জানান, পাঁচ তলা ওই বাড়ির নিচতলা ও দোতলায় অমিদের পরিবার বাস করতেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া। অমির পরিবার বাড়ি ছাড়লেও ভাড়াটিয়ারা সবাই আছেন।

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে যে মামলা করেন। ওই মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির নাম উল্লেখ করে মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।

পরীমনির অভিযোগ, গত ৮ জুন রাতে তাকে বোট ক্লাবে নিয়ে গিয়েছিলেন অমি, সেখানে নাসির তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরীমনির মামলার পর ঢাকার উত্তরার এক নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তিন নারীসহ নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেখান থেকে মদ ও ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা হয়। সেখানেও অমিওকে আসামি করা হয়েছে।

পরে ১৫ জুন রাতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অমির একটি অফিস থেকে ১০২টি পাসপোর্ট ও ১৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় অমির বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনেও দক্ষিণখান থানায় মামলা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত