ব্যবসা নামকাওয়াস্তে, সালভো কেমিক্যালের শেয়ার দর তবু ঊর্ধ্বমুখী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০২১, ২১:১২

পুঁজিবাজারের তালিকাভূক্ত ওষুধ এবং রসায়ন খাতের সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ব্যবসা হচ্ছে নামকাওয়াস্তে। কিন্তু গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ বা ১১৩ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের ২৫ মে কোম্পানিরি শেয়ার দর ছিলো ১৬.২০ টাকা।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর লেনদেন হয়েছে ৩৩.৬০ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ১৮.৪০ টাকা বেড়ে ৩৪.৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। যা গত চার বছরের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি। কোম্পানির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কোম্পানিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সালভো কেমিক্যাল। ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের জন্য কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ করে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। গত বছর ২০২০ সালে কোম্পানিটি মাত্র এক শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের জন্য। এতে করে কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরি থেকে বি ক্যাটাগরিতে লেনদেন করছে। তবুও এমন দুর্বল কোম্পানিটির শেয়ার দর হঠাৎ এক মাসে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, সর্বশেষ কোম্পানিটির নয় মাসে (জুলাই’২০-মার্চ’২১) তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৪২ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি)হয়েছে ১২.৭৮ টাকা।

কোম্পানিটির এই আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিইও বলেন, কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনটি ঠিক নেই। এমবতাবস্থায় কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা যেভাবে ঝুঁকছেন এতে করে তাদের ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

এর আগে, কোম্পানিটির এমন অস্বাভাবিক শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। চিঠির জবাবে কোম্পানিটি ডিএসইকে জানিয়েছে, হঠাৎ তাদের শেয়ার দর বৃদ্ধির কোন সংবেধনশীল তথ্য নেই।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির সচিব লিটন কুমার রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, হঠাৎ সালভো কেমিক্যালের শেয়ার দর এতো বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই। বিষয়টি ডিএসইকে ইত্যেমধ্যে আমরা জানিয়েছি। সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির সঙ্গে কোম্পানির মালিকপক্ষের কোনো সংযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, তবে আমাদের ব্যবসা যে খুব ভালো যাচ্ছে তাও বলা যাবে না। করোনার কারণে ব্যবসা এখন খারাপ। গাজীপুরে সরকার লকডাউন দিয়েছে। লকডাউনের কারণে কোম্পানি বন্ধ না হলেও মালের চাহিদা রয়েছে কম। যার ফলে ব্যবসা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না।

এদিকে কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রত্যেক কোম্পানির পরিচালকদেরকে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের যে সময় বেঁধে দিয়েছে তা এখনও পালন করতে পারেনি কোম্পানিটির পরিচালকরা। যদিও বেঁধে দেওয়া সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিচালকদের কাছে কোম্পানিটির মালিকানা রয়েছে ২২.৪১ শতাংশ।

কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের শ্রেণি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সাল থেকে এই কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বেড়েছে। ২০২০ সালে জুন শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিটির মালিকানা ছিল ১৪.৯১ শতাংশ, চলতি বছরের মে শেষে তা বেড়ে অবস্থান করছে ১৯.৭৪ শতাংশে। তবে শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি হলেও এর প্রতি আগ্রহ কমেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। ২০২০ সালে জুন শেষে কোম্পানিটির মালিকানায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল ৬২.৯৫ শতাংশ, মে শেষে তা ৫৭.৮৫ শতাংশে অবস্থান করছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৪৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আর স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৩৫ কোটি নয় লাখ ১০ হাজার টাকা।

১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫৬ কোটি দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ছয় কোটি ৫০ লাখ ২২ হাজার ৭৯৩টি। ওআইসি ব্যতীত তাদের রিজার্ভ এবং উদ্বৃত্ত রয়েছে ১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির উৎপাদিত প্রোডাক্টের নাম সালফিউরিক এসিড (এইচ টু এস ও ফোর)। আর কেমিক্যাল নাম এইচ টু এস ও ফোর। বিশুদ্ধতা ৯৮ শতাংশ।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/এসআই/ আরএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :