ভয়ঙ্কর মাংসখেকো গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ১৯:৫৫ | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০২১, ১৮:৫৩

কলসির মতো দেখতে এক বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে পোকামাকড়সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণীকে আকৃষ্ট করে এই গাছগুলো। এরপর সুবিধামতো ঢাকনা বন্ধ করে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে প্রাণনাশ করে শিকারের। এইভাবেই ব্যবস্থা হয় গাছের আহার। কলসির মতো দেখতে এই শিকারি মাংসাশী গাছগুলোর নাম হচ্ছে ‘পিচার প্লান্ট।

পৃথিবীর আনাচে কানাচে বিভিন্ন জঙ্গল ঘেঁটে আজ পর্যন্ত প্রায় ১০০ এরও বেশি গাছের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যেগুলো গ্লুকোজের বাইরেও নানা ফাঁদের সাহায্যে পোকামাকড় ধরে । পিচার অর্থ 'কলসি'। কলসির ন্যায় দেখতে বিশেষ পাতার মতো অঙ্গ আছে বলে এদেরকে পিচার প্লান্ট নাম দেয়া হয়েছে।

পিচার প্লান্ট এমন একটি শিকারি গাছ যা মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে, আবার পোকামাকড় পেলে তাদেরও সাবাড় করে ফেলে। পিচার প্লান্টের পিচারের আবার একটি ঢাকনাও রয়েছে। বৃষ্টির পানি যেন কলসির ভেতর ঢুকে ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ পাতলা করে দিতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখে এই ঢাকনা। গাছগুলো উচ্চতায় ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। একেকটি ‘পিচার’এর উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটারের মতো হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া, মাদাগাস্কার, পাপুয়া নিউ গিনি, সিসিলিস, দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের জঙ্গলে এই গাছের দেখা মেলে।

পিচার প্লান্টে উচ্চ পিচার জন্মানোর পর পরই ফুল ফোটা শুরু করে। পিচার প্লান্টের ফুলে বিপুল পরিমাণে পরাগরেণু উৎপাদিত হয়। সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে এই ফুল থেকে রস নির্গত হতে থাকে যা সকালের আগেই শুকিয়ে যায়। বিভিন্ন পোকামাকড় এই ফুলগুলো দেখে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। এসব পোকার সাহায্যে পিচার প্লান্টের পরাগায়ন হয়ে থাকে। দেখতে দেখতে ফুলগুলো ফলে পরিণত হয়। আর এই ফলের ভেতর শত শত ক্ষুদ্র বীজের জন্ম হয়। বীজগুলো ওজনে বেশ হালকা হয়ে থাকে, যা বাতাসে ভেসে ভেসে জঙ্গলের অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে যেতে পারে। তবে সংখ্যায় প্রচুর বীজ উৎপন্ন করলেও, বীজ থেকে সফলভাবে চারা জন্মানোর সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। বেশিরভাগ বীজই শেষপর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়।

পতঙ্গ শিকার করার জন্য প্রথম শর্ত হচ্ছে এদের আকৃষ্ট করে নিকটে নিয়ে আসা। পিচারের ঢাকনা থেকে তখন হালকা সুবাস নির্গত হয় যা মাছি, পিঁপড়া, গুবরে পোকা, প্রজাপতির ন্যায় পতঙ্গদের আকৃষ্ট করে থাকে। অনেক সময়ে পিচারের উজ্জ্বল রঙ দেখেও পোকারা আকৃষ্ট হয়ে থাকে। পতঙ্গরা যখন পিচারের উপর গিয়ে বসে, তখন এরা পিছলে পিচারের ভেতরে চলে যায়। আর তখন পতঙ্গগুলো পিচারের অভ্যন্তরের দেয়ালের আঠার ফাঁদে আটকে যায়। পিচারের ভেতরের অংশ বেশ পিচ্ছিল হয়ে থাকে বিধায় পতঙ্গগুলো হাজার চেষ্টা করেও সেখান থেকে বের হতে পারে না। ধীরে ধীরে পিচারের ঢাকনা বন্ধ হয়ে গেলে এর ভেতর পাচক রস নির্গত হতে থাকে। তবে শিকারকে হত্যা করার জন্য প্রথমে এসিড ক্ষরণ হয়। পাচক রস এবং এসিডের বিক্রিয়ায় দ্রুত সেই পতঙ্গ গাছের খাদ্যে রূপান্তরিত হয়। এরপর গাছ বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই খাদ্য থেকে পুষ্টি শোষণ করে নেয়। একদম ভরপেট খেয়ে এবার পিচার প্লান্ট ক্ষান্ত হয়। ফের পুষ্টি ঘাটতি দেখা দিলে নতুন করে শিকার ধরার অভিযান শুরু হয়।

ঢাকাটাইমস/২৭জুন/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :